মানব পাচারের সম্ভাব্য শিকার আশ্রয়প্রার্থীদের ফ্রান্সে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর নীতিকে গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের উচ্চ আদালত বেআইনি ঘোষণা করলেও, সেই রায় উপেক্ষা করেই কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির হোম অফিস। পাচারের শিকার কি না তা যাচাই না করেই আশ্রয়প্রার্থীদের ফ্রান্সে পাঠানো অব্যাহত থাকবে বলে হোম অফিস সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে।
গত শুক্রবার বিচারপতি শেলডন হোম সেক্রেটারির একটি নীতির বিরুদ্ধে রায় দেন, যে নীতির আওতায় ফ্রান্সে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর জন্য চিহ্নিত পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা হ্রাস করা হয়েছিল। গার্ডিয়ানকে হোম অফিস সূত্র জানিয়েছে, আদালতের এই রায়ের পরও পরিচালনাগত কার্যক্রম অব্যাহত থাকতে পারে। মূলত এই সুরক্ষা বাতিল করা হয়েছিল এই যুক্তিতে যে, তা বহাল রাখলে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া অন্তত ৩০ দিন বিলম্বিত হতে পারত।
ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানো কয়েক ডজন আশ্রয়প্রার্থীকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠাতে হোম অফিস প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটি বেসরকারি চার্টার্ড ফ্লাইট পরিচালনা করে। ফ্রান্সের উদ্দেশ্যে পরবর্তী ফ্লাইটটি ছাড়ার কথা রয়েছে আগামী বৃহস্পতিবার।
আসন্ন এই ফ্লাইট কিংবা ভবিষ্যৎ কোনো ফ্লাইটের জন্য আটক থাকা কয়েকজন আশ্রয়প্রার্থী গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন, তারা নিজেদের পাচারের শিকার বলে জানানোর চেষ্টা করলেও হোম অফিস তা আমলে নেয় না এবং যা-ই বলা হোক না কেন তাদের ফ্রান্সে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
শুক্রবারের এই রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে পৌঁছে বর্তমানে অভিবাসন আটক কেন্দ্রে থাকা আশ্রয়প্রার্থী এবং ইতিমধ্যে জোরপূর্বক ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এখন কী হবে। এই দুই দলে মিলিয়ে কয়েকশ মানুষ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আদালতের রায় অনুযায়ী, পাচার সংক্রান্ত প্রাথমিক নেতিবাচক সিদ্ধান্তগুলো পুনর্বিবেচনা না করা বেআইনি। তবে হোম অফিস ইঙ্গিত দিয়েছে, পাচারের সম্ভাব্য শিকারদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া তারা চালিয়ে যাবে।
গত সেপ্টেম্বরে "ওয়ান ইন, ওয়ান আউট" প্রকল্পের নির্দেশিকায় পরিবর্তন এনে পাচার সংক্রান্ত নেতিবাচক সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ বাতিল করার ক্ষেত্রে হোম অফিসকে বেআইনি বলে রায় দেওয়া হয়েছে। ২০১৩ সাল থেকে পাচারের শিকার চিহ্নিতকরণে এই নির্দেশিকা যুক্তরাজ্যের কাঠামোর অংশ হিসেবে চালু রয়েছে।
উচ্চ আদালতের মামলায় উপস্থাপিত ও রায়ে অন্তর্ভুক্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পাচার সংক্রান্ত দাবিতে প্রাথমিকভাবে নেতিবাচক সিদ্ধান্ত পাওয়া ব্যক্তিদের প্রায় ৮০ শতাংশের ক্ষেত্রে পুনর্বিবেচনার পর সিদ্ধান্ত পাল্টে যায়—সংখ্যায় যা এক হাজার পাঁচশ পঁচিশ জন।
উচ্চ আদালতের মামলা চলাকালে এটিও উঠে আসে যে, গত জুলাইয়ে "ওয়ান ইন, ওয়ান আউট" চুক্তিতে সম্মত হওয়ার আগেই যুক্তরাজ্য সরকার ফ্রান্সে পাঠানো আশ্রয়প্রার্থীদের পাচার সংক্রান্ত মামলা কীভাবে বিবেচিত হবে, তা নিয়ে সম্ভাব্য সমস্যার বিষয়ে অবগত ছিল। হোম অফিসের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছিলেন, এসব ব্যক্তি ফরাসি নাগরিক না হওয়ায় এবং তাদের অনেকেই ফ্রান্সের অভ্যন্তরে পাচারের শিকার না হওয়ায়, ফ্রান্সে তাদের "অনানুষ্ঠানিক" পাচার শিকারের মর্যাদা দেওয়া হতে পারে।
অভিবাসন আটক ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করা সংস্থা মেডিকেল জাস্টিসের পরিচালক এমা গিন বলেছেন, তাদের ওয়ান ইন, ওয়ান আউট প্রকল্পের অনেক ক্লায়েন্টই পাচারের সম্ভাব্য জীবিত শিকার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, উচ্চ আদালতের রায়ের পর হোম অফিস নিশ্চিত করবে যে প্রাথমিক নেতিবাচক সিদ্ধান্ত পাওয়া পাচার সংক্রান্ত মামলাগুলো রায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুনর্বিবেচনার সুযোগ পাবে, এবং তাদের সংস্থার সরবরাহ করা স্বাধীন চিকিৎসা প্রমাণও যথাযথভাবে বিবেচিত হবে।
হোম অফিসের এক মুখপাত্র বলেছেন, শেষ মুহূর্তে করা আধুনিক দাসত্ব সংক্রান্ত দাবিগুলো অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো বিলম্বিত করার কাজে ব্যবহৃত হতে দেওয়া যাবে না। তিনি জানান, সন্দেহজনক শেষ মুহূর্তের দাবি ঠেকাতে আইন সংস্কার করা হচ্ছে, পাশাপাশি প্রকৃত প্রয়োজন থাকা ব্যক্তিদের সুরক্ষাও জোরদার করা হচ্ছে। হোম সেক্রেটারি আদালতে এই লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলেও তিনি জানান।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
-
ধর্ষণে দণ্ডিত রচডেল গ্যাং নেতাকে বহিষ্কার করতে অভিবাসন আইনে সংশোধনী আনছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ
-
গ্রেটার বড়লেখা এসোসিয়েশন ইউকে'র নতুন কমিটি নির্বাচিত
-
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ইহুদি সম্প্রদায়ের সুরক্ষায় ২৫০ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ করছে হোম অফিস
-
যুক্তরাজ্যে ইসলামিক সমাবেশে হামলার সন্দেহে ১২ জন গ্রেপ্তার, ৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যা ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
-
নির্মাণ শিল্পে ক্যারিয়ার গড়তে চান তরুণরা: টাওয়ার হ্যামলেটসের মেলায় অভাবনীয় সাড়া
আরও পড়ুন: