ঢাকা ১ শ্রাবণ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
ঢাকা ১ শ্রাবণ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

ট্রাম্পের হুমকি : ইরান আলোচনায় না ফিরলে সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র উড়িয়ে দেব

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম

ট্রাম্পের হুমকি : ইরান আলোচনায় না ফিরলে সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র উড়িয়ে দেব
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

অবিলম্বে আলোচনায় না ফিরলে আগামী সপ্তাহেই ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই হুঁশিয়ারি দেন রিপাবলিকান নেতা।

এমন এক সময়ে তিনি এই মন্তব্য করেছেন, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানা চার দিন ধরে হামলা ও পাল্টা হামলা চলছে।

এর আগে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব নৌযানের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিলেও পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।

তবে তার নির্দেশে মার্কিন বাহিনী ইরানের সব বন্দরের বিরুদ্ধে আবারও ‘blockade’ চালু করেছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘আগামী সপ্তাহটা ওদের (ইরান) খুব খারাপ যাবে। আমরা তাদের সব বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র অকেজো করে দেব। তারা যদি আলোচনার টেবিলে ফিরে দরকষাকষি না করে, তাহলে আমরা তাদের সব সেতু ধ্বংস করে দেব।’

গত এপ্রিলেও ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রসহ বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

সে সময় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ফলকার তুর্ক বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামোর ওপর হামলা চালানো যুদ্ধাপরাধের শামিল।’

১৯৪৯ সালের Geneva Convention যুদ্ধ ও সশস্ত্র সংঘাতে মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে প্রণীত চারটি আন্তর্জাতিক চুক্তির একটি। এই চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধকালীন সময়ে বেসামরিক নাগরিকদের জন্য ‘অত্যাবশ্যক’ অবকাঠামোর ওপর হামলা চালানো নিষিদ্ধ।

মঙ্গলবার রাতে প্রচারিত ফক্স নিউজ-এর ‘স্পেশাল রিপোর্ট উইথ ব্রেট বেইয়ার’ অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামোগুলোকে রেহাই দেব। তবে শেষ পর্যন্ত সেগুলোর ওপরও হামলা হবে।’

মার্কিন মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের প্রতিনিধিদের মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জানিয়েছেন, ‘দ্রুত চুক্তি করা আপনাদের জন্য মঙ্গলজনক হবে। আর না হলে আপনাদের কাছে আর কিছুই থাকবে না।’

এমন দাবিও করেন ট্রাম্প সাক্ষাৎকারে।

এর আগে তিনি জানান, হরমুজ প্রণালির ওপর শুল্ক আরোপ না করে উপসাগরীয় দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘বিশাল’ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তিতে বাধ্য করা হবে।

এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে blockade কার্যকর করে।

সোমবার এক নাটকীয় ঘোষণায় ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন হরমুজ প্রণালির ‘অভিভাবক’।

এই নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর ২০ শতাংশ ফি আরোপের প্রস্তাবও দেন তিনি।

পাশাপাশি ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে আবারও blockade চালুর ঘোষণা দেন সাবেক এই আবাসন ব্যবসায়ী।

তবে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া সর্বশেষ পোস্টে তিনি ওই অবস্থান থেকে সরে আসার কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘২০ শতাংশ ফি আদায় না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরিবর্তে কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি করবে।

‘এই বিনিয়োগগুলোর পরিমাণ অনেক বেশি হবে। তবে একই সঙ্গে এটি ওই দেশগুলোর জন্য খুবই উপকারী হবে। ভবিষ্যতেও এই উপকার অব্যাহত থাকবে’, যোগ করেন তিনি।

তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য দেননি তিনি।

ট্রাম্পের এসব ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় ইরান জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেন, ট্রাম্পের blockade সিদ্ধান্তে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যত ভেঙে গেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, তারা আমাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে, সামরিক অভিযান চালিয়ে এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আমাদের আলোচনায় ফিরতে বাধ্য করবে, তাহলে তারা ভুল করছে।’