যুক্তরাজ্যের লন্ডনে একটি রেস্তোরাঁয় বসে ডাব খেতে গিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা, পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হন। এ সময় তাকে বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করেন বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, পশ্চিম লন্ডনের একটি রেস্তোরাঁয় বসে থাকা শ. ম. রেজাউল করিমসহ কয়েকজন ডাব খাচ্ছেন। এ সময় তাকে ঘিরে কয়েকজন ব্যক্তি উচ্চবাচ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। বিগত ১৭ বছরের গুম, খুন এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে রেজাউল করিমের কাছে জবাব চান। সেই সঙ্গে নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের কথা উল্লেখ করে বিগত সরকারের সময়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া নির্যাতনের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রথমে রেজাউল করিম এ সব প্রশ্ন শুনলেও কোন জবাব দেননি। এ পর্যায়ে তিনি উঠে পড়েন এবং পাল্টা বক্তব্য ও যুক্তি দেন।
ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম রিবলুর নেতৃত্বে কয়েকজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে সংগঠনটির নেতারা দাবি করেছেন।
তাদের ভাষ্য, খবর পেয়ে তারা পশ্চিম লন্ডনের ওই রেস্তোরাঁয় যান এবং সাবেক মন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন বিষয়ে জবাব জানতে চান। তারা অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সংঘটিত গুম, হত্যা ও দুর্নীতির ঘটনায় তার ভূমিকা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি। একপর্যায়ে সেখানে উপস্থিত অন্যদের সহায়তায় তিনি স্থান ত্যাগ করেন বলেও দাবি করেন তারা।
ছাত্রদল নেতারা আরও দাবি করেন, এর আগে একই এলাকায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গেও তাদের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল এবং সেখান থেকেও তিনি দ্রুত সরে যান।
এ বিষয় ছাত্রদল নেতারা বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে পশ্চিম লন্ডনের আনান সেন্টারের রেস্টুরেন্টে যাই। ফ্যাসিস্টের দোসর দেশ থেকে টাকা লুটপাট করে লন্ডনে পালিয়েছে। তাকে শেখ হাসিনার সাথে থেকে গুম, হত্যা, এনসিপি, বিএনপিসহ সাধারণ জনগণকে হত্যার বিষয়ে প্রশ্ন করলে সে কোনো উত্তর দিতে পারেনি। পরে কতিপয় লোকের সহায়তায় পালিয়ে যায়।’ তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে সাবেক মন্ত্রী হাসান মাহমুদকে পেয়েছি। তাকে ধরার পর সেও পালিয়েছে।
সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিমের বাড়ি পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলায়। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ও বার কাউন্সিলের অর্থ কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান শ ম রেজাউল করিম ২০১৮ সালে প্রথম পিরোজপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে বিজয়ী হন। আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে তিনি প্রথমে পূর্তমন্ত্রী এবং পরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। সেই সঙ্গে একনেকেরও সদস্য হন তিনি।
তবে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে এ কে এম এ আউয়াল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু না পেয়ে স্বতন্ত্র পদে নির্বাচন করেন। লড়াই করে পিরোজপুর-১ আসনে আবারও বিজয়ী হন শ ম রেজাউল করিম। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে তার ব্যাপক লড়াই করতে হয়। তিনি ভোট পেয়েছিলেন ৮৫ হাজার ৪১০। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী (ঈগল প্রতীক) সাবেক এমপি ও পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল পেয়েছিলেন ৭৫ হাজার ৪৮৭ ভোট।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে লন্ডনে অবস্থান করছেন।
-
যুক্তরাজ্যে সুপারমার্কেট থেকে গ্রাহামের সেমি-স্কিমড দুধ প্রত্যাহার, পেনিসিলিন দূষণের আশঙ্কা
-
ইংল্যান্ডে বাতাস ও পরিবেশ দূষণ: দরিদ্র এলাকার শিশুরা ৪০% বেশি হাসপাতালে ভর্তির ঝুঁকিতে
-
প্রবাসীদের পাসপোর্ট সংশোধনের সুযোগ ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ল
-
যুক্তরাজ্যে অক্টোবর থেকে বিদ্যুৎ বিলে ভ্যাট কমাচ্ছে বার্নহাম সরকার
-
যুক্তরাজ্যে বেসরকারি খাতে বেতন বৃদ্ধির হার কমল, উদ্বেগে অর্থনীতিবিদরা