ঢাকা ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬

শেখ হাসিনা ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ও ঘৃণ্য ফ্যাসিস্ট ছিলেন: রিজভী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪২ এএম

শেখ হাসিনা ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ও ঘৃণ্য ফ্যাসিস্ট ছিলেন: রিজভী
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছিলেন “ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ও ঘৃণ্য ফ্যাসিস্ট”।

বুধবার রাজধানীর গুলশানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং গত ১৭ বছরের আন্দোলনের আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন সময়ের নিষ্ঠুর ফ্যাসিস্ট ও নাৎসি শাসকেরা জোরপূর্বক ক্ষমতায় টিকে থাকলেও শেখ হাসিনার সঙ্গে তাদের মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। তার ভাষ্য, নাৎসি নেতা অ্যাডলফ হিটলার ও ইতালির একনায়ক বেনিতো মুসোলিনির মতো শাসকেরা জাতিগত নিপীড়ন ও গণহত্যার মতো ভয়াবহ অপরাধে জড়িত থাকলেও তারা নিজেদের জাতিকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছিল।

তিনি দাবি করেন, হিটলার বা মুসোলিনি শেখ হাসিনার মতো অর্থ পাচার, ব্যাংকের অর্থ লুট, শেয়ারবাজার ধ্বংস কিংবা সরকারি সম্পদ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। রিজভীর ভাষায়, “তারা ভয়ংকর খুনি ও ফ্যাসিস্ট হলেও নিজ দেশের প্রতি এক ধরনের ভালোবাসা ছিল। কিন্তু শেখ হাসিনার মূল এজেন্ডা ছিল গোটা জাতিকে লুণ্ঠন করে আত্মীয়স্বজনকে বিদেশে প্রতিষ্ঠিত করা। এ কারণেই তিনি ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ও ঘৃণ্য ফ্যাসিস্ট।”

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের এক বিশেষ চোরাপথে ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটে এবং বাংলাদেশেও আওয়ামী ফ্যাসিবাদের উত্থান হয়েছে। তার অভিযোগ, প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে সেই ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে আওয়ামী লীগ জনগণের রক্ত ঝরাতেও দ্বিধা করেনি।

রিজভী বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল এবং ২০০৯ থেকে ৫ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত সময়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে কোলের শিশুও প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া রেস্টুরেন্টের বাবুর্চি, ফলের দোকানের কর্মচারী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত হয়েছেন।

রিজভী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল এক বিশাল গণজাগরণ এবং অত্যাচারীর বিরুদ্ধে জনগণের সুপ্ত শক্তির বিস্ফোরণ। তার দাবি, জনগণের এই শক্তিকে শেখ হাসিনা উপলব্ধি করতে পারেননি বলেই বারবার বিতর্কিত ও পাতানো নির্বাচন করে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করেছেন। তিনি আরও বলেন, বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি দেশ ছাড়া তৎকালীন সরকার আন্তর্জাতিক সমর্থন পায়নি, তবুও তারা জোর করে ক্ষমতায় ছিল।

গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যেভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন, ভবিষ্যতেও তারা একইভাবে গণতান্ত্রিক সংগ্রামে শামিল হবেন।

প্রেক্ষাপট

রিজভীর এই মন্তব্য আসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনের পরদিন। ওই সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। তিনি বর্তমান সরকারের বিভিন্ন নীতি ও কর্মকাণ্ডেরও সমালোচনা করেন।

এর পরদিন রুহুল কবির রিজভীর এই বক্তব্য দেশের চলমান রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলেছে।