ঢাকা ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬

সৌদি প্রবাসীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ: জেনে নিন অভিযানের আসল কারণ ও আইনি নিয়মাবলি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৯ এএম

সৌদি প্রবাসীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ: জেনে নিন অভিযানের আসল কারণ ও আইনি নিয়মাবলি

সৌদি আরবে অবৈধ প্রবাসী, আবাসন, শ্রম সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালাচ্ছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মাত্র এক সপ্তাহেই ১২ হাজার ৬১৩ জন প্রবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো এবং আরও ১৪ হাজার ১৫৪ জনকে গ্রেফতারের ঘটনায় সাধারণ প্রবাসী বাংলাদেশিদের মনে এক ধরনের আতঙ্ক উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। তবে জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেটের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৌদি আইনের নীতি অনুসরণ করে বৈধভাবে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই অভিযান নিয়ে অযথা আতঙ্কিত বা উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

অভিযানের মূল কারণ সাম্প্রতিক চিত্র:

গালফ নিউজের প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, গত ২৩ থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত চলা এক সপ্তাহের অভিযানে আইন ভঙ্গের অপরাধে বিপুল সংখ্যক প্রবাসীকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে আবাসন আইন ভঙ্গের দায়ে ,১০৩ জন, শ্রম আইন লঙ্ঘনে ,৩৯৭ জন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত অপরাধে ,৬৫৪ জন রয়েছেন। আইন ভঙ্গকারীদের সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড, ১০ লাখ রিয়াল জরিমানা, এমনকি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার মতো কঠোর শাস্তির বিধান রেখেছে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বর্তমানে সৌদি আরবের বিভিন্ন অভিযানে গ্রেফতার সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেদ্দার তারহিল (সফর) জেলসহ বিভিন্ন কারাগারে প্রায় সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশি অবস্থান করছেন। তবে তাদের সবাই সাম্প্রতিক অভিযানে গ্রেফতার হননি, অনেকেই পূর্বের সাজাপ্রাপ্ত।

উদ্বেগের কারণ কেন নেই?

জেদ্দায় নিযুক্ত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কনসুলার (শ্রম) খন্দকার সিরাজুস সালেকিন জানান, এই তল্লাশি অভিযান নতুন কিছু নয়; এটি সৌদি কর্তৃপক্ষের একটি নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়া। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, হজ মৌসুম এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সার্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে দেশটির পুলিশ নিয়মিত এই অভিযান পরিচালনা করে থাকে।

তিনি স্পষ্ট করেন, যারা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কাজ করছেন, তাদের ভয়ে পাওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রধানত যেসব কারণে প্রবাসীরা এই অভিযানে আটক হচ্ছেন, তা হলো:

. কাজের ধরণ পরিবর্তন: যে কাজের ভিসা নিয়ে এসেছেন, তা না করে অন্য কাজ করা বা নিজস্ব ব্যবসা শুরু করা।

. স্থান পরিবর্তন: নির্দিষ্ট অঞ্চলের ইকামার (যেমন: রিয়াদ) আওতায় অন্য অঞ্চলে (যেমন: জেদ্দা বা মক্কা) গিয়ে কাজ বা অবস্থান করা।

. ইকামা বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া: মেয়াদোত্তীর্ণ ইকামায় অবস্থান করা বা ফুটপাতে অবৈধভাবে হকারি করা।

. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আচরণ: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশটির নীতি বা প্রশাসন নিয়ে নেতিবাচক পোস্ট করাও সেখানে আইনি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।

প্রবাসীদের জন্য জরুরি পরামর্শ:

বর্তমানে সৌদি আরবে প্রায় ৩৭ থেকে ৩৮ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী হিসেবে কর্মরত আছেন এবং দেশটির শ্রমবাজার এখনও সিংহভাগ বাংলাদেশি শ্রমশক্তির ওপর নির্ভরশীল। তাই প্রবাসীদের নিজস্ব ইকামার অপব্যবহার না করা, কাজের স্থান ধরণ সম্পর্কিত সৌদি আইন মেনে চলা এবং আইনি জটিলতা এড়াতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে জেদ্দা কনস্যুলেট। এক কথায়, বৈধ কাগজপত্র এবং সঠিক নিয়ম মেনে চললে কোনো প্রবাসীর জন্যই এই অভিযান উদ্বেগের কারণ নয়।