অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের পদে নির্বাচিত হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এলিজা আজাদ রহমান। নিউ সাউথ ওয়েলসের সিডনির ক্যামডেন কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে ডেপুটি মেয়রের দায়িত্ব পেলেন এলিজা।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে ক্যামডেন সিটি কাউন্সিলকক্ষে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে এলিজা আজাদ ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হন। তাঁর এই নির্বাচনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সিডনির বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।
ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় এলিজা আজাদ বলেন, দলীয় সমর্থনের পাশাপাশি কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে এই দায়িত্ব পাওয়ায় স্থানীয় নাগরিকদের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা এবং কাজের পরিধি আরও বেড়েছে।
তিনি বলেন, নতুন এই দায়িত্বকে তিনি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে দেখছেন না; বরং স্থানীয় জনগণের জন্য আরও কার্যকরভাবে কাজ করার সুযোগ হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে নারীদের রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে
অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক এলিজা আজাদ রহমানের পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনায়। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আজাদুল ইসলামের মেয়ে।
দুই দশকেরও বেশি সময় আগে শিক্ষার্থী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান এলিজা। পরবর্তী সময়ে দেশটির বর্তমান ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। রাজনীতির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের সঙ্গে কাজ করার মধ্য দিয়ে তিনি নিজের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেন।
২০২৪ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তিনি ক্যামডেন কাউন্সিলের নর্থ ওয়ার্ড থেকে প্রথমবারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। নির্বাচিত কাউন্সিলর হিসেবে স্থানীয় বিভিন্ন বিষয় ও নাগরিকদের স্বার্থে কাজ করার মধ্য দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি নেতৃত্বের আস্থাও অর্জন করেন।
বাংলাদেশি নারী হিসেবে নতুন দৃষ্টান্ত
এলিজা আজাদ বলেন, একজন বাংলাদেশি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করা সহজ ছিল না। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এই পর্যায়ে আসতে তাঁকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে।
তবে পরিবার, রাজনৈতিক সহকর্মী, বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সম্প্রদায়ের মানুষের সহযোগিতা তাঁকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে বলে জানান তিনি।
নারীদের নেতৃত্ব প্রসঙ্গে এলিজা বলেন, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বে নারীদের আরও বেশি এগিয়ে আসা দরকার। তাঁর নিজের রাজনৈতিক পথচলা অন্য নারীদেরও নেতৃত্বে আসতে উৎসাহিত করবে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে তাঁর।
এই যাত্রায় স্বামী-সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন এলিজা। একই সঙ্গে বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং স্থানীয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সম্প্রদায়ের সমর্থনকে নিজের অন্যতম বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আনন্দ
এলিজা আজাদ ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় সিডনির বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। কমিউনিটির সদস্যরা মনে করছেন, স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই পদে তাঁর উপস্থিতি অস্ট্রেলিয়ায় বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশিদের জন্যও অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।
সিডনির ডেনহ্যাম কোর্টের বাসিন্দা বোরহান খান লিমন বলেন, এলিজা আজাদ দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। স্থানীয় সরকারে তাঁর এই অবস্থান প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া তুলে ধরার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়ন ও বহুসাংস্কৃতিক কমিউনিটির প্রতিনিধিত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা করেন।
অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারে বাংলাদেশিদের অগ্রযাত্রা
এলিজা আজাদের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারে বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিত্বের পরিধি আরও বিস্তৃত হলো।
এর আগে বাংলাদেশি সুমন সাহা সিডনির কাম্বারল্যান্ড সিটি কাউন্সিল এবং মাসুদ খলিল ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে আরেক বাংলাদেশি মাসুদ চৌধুরী ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের মতে, অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারে একের পর এক বাংলাদেশির নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি দেশটির বহুসাংস্কৃতিক সমাজে বাংলাদেশি কমিউনিটির ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ ও গ্রহণযোগ্যতারও প্রতিফলন।
এলিজা আজাদ রহমানের নতুন দায়িত্ব গ্রহণ অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি নারীদের রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বে আরও সক্রিয় হওয়ার ক্ষেত্রে একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করবে বলে মনে করছেন কমিউনিটির সদস্যরা।
-
বাঁধনের ওপর হামলার প্রতিবাদে ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে এনসিপি ডায়াস্পোরার স্মারকলিপি
-
ইতালিতে বছরে ১০ হাজার বাংলাদেশির বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ
-
অধরাই রয়ে গেল স্বপ্ন, কফিনে ফিরছে ইতালি প্রবাসীর লাশ
-
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটের দুই প্রবাসীর মৃত্যু
-
কুয়েতে নাগরিকত্ব হারানো ব্যক্তিদের জন্য ১০ বছর মেয়াদি আবাসনের নতুন সুযোগ
আরও পড়ুন: