ইসরায়েল ইরানে বিমান হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পাল্টা জবাবে ইরান জেরুজালেম, বিয়ারশিবা এবং তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
সোমবার (৮ জুন) ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে।
টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৭টার পর জেরুজালেম, বিয়ারশিবা ও তেল আবিবসহ বিস্তৃত এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে।
IDF জানায়, রোববার রাতে তেহরান থেকে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর Israeli Air Force ইরানের পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের সামরিক স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানে।
এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান আবারও ইসরায়েলের মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। এ হামলায় এবার ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীও যুক্ত হয়ে ইসরায়েলের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।
তবে এসব হামলায় এখন পর্যন্ত কেউ আহত হয়েছে বলে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থা Magen David Adom (MDA) জানিয়েছে, হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা অন্যান্য হামলায় হতাহতের কোনো খবর তারা পায়নি।
MDA আরও জানায়, সাইরেনের শব্দে আশ্রয়ের জন্য দৌড়ানোর সময় পড়ে গিয়ে একজন আহত হয়েছেন এবং তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
IDF-এর দাবি, ইয়েমেন থেকে ছোড়া হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্রটি সফলভাবে প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে।
এর আগে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় রোববার রাত ১০টার দিকে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে অন্তত ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। সেগুলোর সবই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি IDF-এর।
ইরানের এই হামলার পর তাৎক্ষণিক পাল্টা আঘাত না করতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে অনুরোধ করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু সেই আহ্বান উপেক্ষা করে ইসরায়েল তেহরানের পাশাপাশি ইস্পাহান ও তাবরিজে বিমান হামলা চালায়।
৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর এই প্রথম দুই দেশের মধ্যে সরাসরি পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটলো। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই উত্তেজনা শিগগিরই থামবে না।