দেশের মাঠ প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় ও গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে বর্তমানে নারী কর্মকর্তাদের উপস্থিতি স্মরণকালের সর্বোচ্চ। বর্তমানে ৬৪ জেলার ২০টিতে নারী জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং ৪৯৯ উপজেলার ১৯১টিতে নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দায়িত্ব পালন করছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি প্রশাসনে নারীর সক্ষমতা ও নেতৃত্বের একটি বড় অগ্রগতির প্রতিফলন।
বিভাগভিত্তিক নারী ডিসির চিত্র
আটটি বিভাগের মধ্যে ঢাকা বিভাগে নারী ডিসির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বিভাগের ১৩ জেলার মধ্যে নয়টিতেই নারী ডিসি রয়েছেন।
এ ছাড়া খুলনা বিভাগে চারজন, চট্টগ্রাম বিভাগে তিনজন, রংপুর বিভাগে দুজন এবং রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগে একজন করে নারী ডিসি দায়িত্ব পালন করছেন।
ইউএনও পদে নারীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি
ডিসিদের পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদেও নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশের ৪৯৯ উপজেলার মধ্যে ১৯১টিতে প্রশাসন ক্যাডারের নারী কর্মকর্তারা ইউএনও হিসেবে কাজ করছেন। অর্থাৎ মোট ইউএনও পদের প্রায় ৩৯ শতাংশই নারীদের দখলে।
ভূমি ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও নারীরা এগিয়ে আসছেন। ৪৭৮ জন সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডের মধ্যে ১১৬ জন নারী, যা মোটের ২৪ শতাংশের বেশি।
মাঠ প্রশাসন তদারককারী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এই অগ্রগতিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন।
এমন প্রেক্ষাপটে আজ পালিত হচ্ছে জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস। এ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বড় পরিসরের একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করার কথা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের, যদিও অনুষ্ঠানের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
অতীত থেকে বর্তমান: বদলে যাওয়া বাস্তবতা
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে একসময় সর্বোচ্চ ১৮ জন নারী ডিসি একসঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন যুগ্ম সচিব বলেন, ‘১০ বছর আগেও রাঙামাটির বাঘাইছড়ির মতো উপজেলায় কোনো নারী ইউএনও দায়িত্ব পালন করবেন—এটি কল্পনাও করা যেত না। মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নারী কর্মকর্তাদের পদায়নের ক্ষেত্রে আমাদের আগে দুবার ভাবতে হতো। অনেক নারী কর্মকর্তাও দুর্গম এলাকায় যেতে অনীহা প্রকাশ করতেন। এখন দুই দিক থেকেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নারী কর্মকর্তারা নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন। তাই তাদের মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিতে এখন আর দ্বিধা থাকে না। মাঠপর্যায় থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।’
নারী নেতৃত্বে সেবার মান উন্নয়ন
ঢাকা জেলার প্রথম নারী জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ‘মাঠ প্রশাসনে নারী ডিসি ও ইউএনওর সংখ্যা বেড়ে যাওয়া শুধু সংখ্যাগত পরিবর্তন নয়। এটি রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে নারী কর্মকর্তাদের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্বের বাস্তব প্রতিফলন। প্রশাসনে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বৈচিত্র্য আসে, সেবার মান উন্নত হয় এবং জনগণের আস্থা আরও শক্তিশালী হয়।’
মাঠপর্যায়ে ইতিবাচক অভিজ্ঞতা
এর একটি উদাহরণ শেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা আজাফার আলী জানান, বর্তমান জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের সহযোগিতায় তার অভিজ্ঞতা ইতিবাচক।
তিনি বলেন, ‘আমার মায়ের নামে অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রায় ২০ লাখ টাকা পেয়েছি। শুনেছিলাম, সব কাগজপত্র ঠিক থাকলেও জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ পেতে অনেক ভোগান্তি হয়। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক আন্তরিকতার সঙ্গে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেছেন। এতে আমরা খুবই সন্তুষ্ট।’
সামগ্রিক পরিসংখ্যান
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত ১ হাজার ৮৫ জন কর্মকর্তার মধ্যে ৩৩২ জন নারী। অর্থাৎ মোট কর্মকর্তার ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ নারী।
মাঠ প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর বিভাগীয় পর্যায়ে বর্তমানে ১৮ জন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের মধ্যে পাঁচজন নারী, যা প্রায় ২৮ শতাংশ।
তবে বিভাগীয় কমিশনারের পদে বর্তমানে কোনো নারী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন না।
সব মিলিয়ে মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের প্রায় ৩০ শতাংশ পদে নারী কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন।
কেন্দ্রীয় প্রশাসনেও নারীর উপস্থিতি
কেন্দ্রীয় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতেও নারীদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ রয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ৮৮টি সচিব বা সচিব-সমমর্যাদার পদের মধ্যে ১৫টিতে নারী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন।
এ ছাড়া প্রশাসনে ৩৬১ জন অতিরিক্ত সচিবের মধ্যে ৭৩ জন, ১ হাজার ৫১ জন যুগ্ম সচিবের মধ্যে ২৪৯ জন নারী।
অন্যদিকে ১ হাজার ৬৪৩ জন উপসচিবের মধ্যে ৪০৪ জন এবং ৩ হাজার ৩৫০ জন সহকারী ও জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিবের মধ্যে ৯৮৬ জন নারী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন।
-
গাড়িতে সিট বেল্ট নেই বা কানে ফোন? রাজধানীতে মামলা দেবে এআই ক্যামেরা!
-
২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ ঘোষণা: খরচ কত, কী সুবিধা জানাল সরকার
-
ভাঙ্গা হচ্ছে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য
-
এমসি কলেজে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলা: মৃত্যুদণ্ড ১, যাবজ্জীবন ৩, ভুক্তভোগীর সম্মানের মূল্য মাত্র চার লাখ টাকা?
-
এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ মামলার রায়: সাইফুরের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন, চারজন খালাস