রাজধানীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) নজরদারি ক্যামেরা ব্যবহারে ইতিবাচক ফল পাওয়ার পর এই কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ট্রাফিক আইন ভঙ্গের চারটি ক্ষেত্রে সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার নতুন আরও দুটি অপরাধে স্বয়ংক্রিয় মামলা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সংস্থাটি।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, এবার গাড়ি চালানোর সময় সিট বেল্ট না বাঁধা এবং মোবাইল ফোনে কথা বলার বিষয় দুটিকে এআই ক্যামেরার স্বয়ংক্রিয় আইনি ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে।
এর আগে ঢাকার ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৩৭টি এআই ক্যামেরা বসিয়ে চালানো পাইলট প্রকল্পে সফলতা মিলেছে। ডিএমপির দাবি, এসব প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির ফলে উল্টো পথে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা, জেব্রা ক্রসিংয়ের নিয়ম না মানা এবং যেখানে-সেখানে গাড়ি পার্কিংয়ের মতো অনিয়মগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিসুর রহমান বলেন,
"উল্টো পথে গাড়ি চালানোকে আমরা সবচেয়ে গুরুতর ট্রাফিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করি। এই প্রযুক্তির কারণে এটি অনেকটাই কমেছে। পর্যায়ক্রমে আরও কিছু বিষয় যুক্ত করা হবে, যার মধ্যে সিট বেল্ট না বাঁধা এবং ড্রাইভিংয়ের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার অন্যতম।"
- চ্যালেঞ্জ ও ঢাকার পুরো ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন
এআই ক্যামেরা কার্যকরে কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জের কথাও জানিয়েছে পুলিশ। পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় যানবাহনের গতি কমে গেলে এই স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত কমিশনার আনিসুর রহমান জানান, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মাঝে মাঝে সিস্টেম বন্ধ রাখতে হলেও প্রযুক্তিগত এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে কাজ করছে ডিএমপি।
এ সাফল্য ধরে রাখতে এবং পুরো রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় আনতে দেড় হাজারের বেশি এআই ক্যামেরা স্থাপনের মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে প্রযুক্তিগত উন্নতির পাশাপাশি পথচারীদের অনিয়ন্ত্রিত সড়ক পারাপার এবং বাসের যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার মানসিকতা বদলানো এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে পুলিশ।
এছাড়া রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধে সরকারের চূড়ান্ত নীতিগত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে ডিএমপি।
-
ভাঙ্গা হচ্ছে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য
-
এমসি কলেজে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলা: মৃত্যুদণ্ড ১, যাবজ্জীবন ৩, ভুক্তভোগীর সম্মানের মূল্য মাত্র চার লাখ টাকা?
-
এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ মামলার রায়: সাইফুরের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন, চারজন খালাস
-
কিউআরএস টিমের সভা : দেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে
-
কামরানের লাশ দেশে আনতে এগিয়ে এলেন প্রবাসীরাই, প্রশ্নে সরকারি প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন