ঢাকা ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
ঢাকা ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ
ধূমপান ছাড়তে টাওয়ার হ্যামলেটসবাসীর জন্য বিশেষ ‘স্মোক-ফ্রি চ্যালেঞ্জ’ ধর্ষণে দণ্ডিত রচডেল গ্যাং নেতাকে বহিষ্কার করতে অভিবাসন আইনে সংশোধনী আনছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ আদালতের রায় মানছে না হোম অফিস, পাচারের শিকারদেরও ফ্রান্সে পাঠানো হচ্ছে এমসি কলেজে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলা: মৃত্যুদণ্ড ১, যাবজ্জীবন ৩, ভুক্তভোগীর সম্মানের মূল্য মাত্র চার লাখ টাকা? এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ মামলার রায়: সাইফুরের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন, চারজন খালাস মানবপাচার মামলায় ব্রাজিলে গ্রেপ্তার মামুন যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের মুখে পর্তুগালে নিখোঁজ বাংলাদেশি কিশোরী, সন্ধান চেয়ে পরিবারের আকুতি এবার বিশ্বকাপে সফল ৪ পরাশক্তির ৪ মহাতারকা গ্রেটার বড়লেখা এসোসিয়েশন ইউকে'র নতুন কমিটি নির্বাচিত কিউআরএস টিমের সভা : দেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র বিদায় নিতেই ইংল্যান্ডের পক্ষে ট্রাম্প শিবির, চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আভাসও দিলেন প্রতিনিধি জুলিয়ানি ভিসার মেয়াদ শেষে সৌদিতে অবস্থান করলেই ৫০ হাজার রিয়াল জরিমানা ও জেল: নতুন হুঁশিয়ারি ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ইহুদি সম্প্রদায়ের সুরক্ষায় ২৫০ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ করছে হোম অফিস যুক্তরাজ্যে ইসলামিক সমাবেশে হামলার সন্দেহে ১২ জন গ্রেপ্তার, ৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যা ষড়যন্ত্রের অভিযোগ নির্মাণ শিল্পে ক্যারিয়ার গড়তে চান তরুণরা: টাওয়ার হ্যামলেটসের মেলায় অভাবনীয় সাড়া কামরানের লাশ দেশে আনতে এগিয়ে এলেন প্রবাসীরাই, প্রশ্নে সরকারি প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিউজিল্যান্ডে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ: স্টুডেন্ট ভিসায় বড় পরিবর্তন সার্ভিস সাপ্লায়ার ভিসা: বিদেশি কর্মীদের জন্য ব্রিটেনে স্বল্পমেয়াদি কাজের সুযোগ স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যা স্মরণে টাওয়ার হ্যামলেটস ও ইস্ট লন্ডন মসজিদের শ্রদ্ধাঞ্জলি যেকারণে বিমান থেকে নামিয়ে যুক্তরাজ্যগামী নারী গ্রেপ্তার শাহজালালের মাজারে দানবাক্সে ১৯ দিনে ৪৭ লাখ টাকা, মিলল সোনা-রুপা ও ১২ দেশের মুদ্রা ১০ জনের সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা, এক লাল কার্ডে বদলে গেল ম্যাচের ভাগ্য—কী ঘটেছিল "কাম অন ইংল্যান্ড!" লস এঞ্জেলেসে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশির মৃত্যু বদলি নেমে ফের নায়ক মেরিনো, সেমিতে ফ্রান্সের মুখোমুখি স্পেন কেন বিশ্বজুড়ে আলোচনায় কাতারের প্রথম ‘স্মার্ট মসজিদ’? কী আছে এই অনন্য স্থাপনায়? যুক্তরাজ্যে নতুন নিরাপত্তা আইন কার্যকর, লঙ্ঘনে ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড সংবিধানে ফিরেছে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার, আপিল খারিজ সর্বোচ্চ আদালতের আর্জেন্টিনার জয় নিয়ে মামদানি: ‘ডাকাতি’ করে মিসরকে হারানোর অভিযোগ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত ইরানের

প্রাইমারিতে জিয়া, খালেদা ও তারেকের ৩ বই রাখার নির্দেশ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০২:৪১ পিএম

প্রাইমারিতে জিয়া, খালেদা ও তারেকের ৩ বই রাখার নির্দেশ

দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠাগারে তিনটি নির্দিষ্ট বই রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুটি বই প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা এবং একটি লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

গত ৩ জুন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে (DPE) এ বিষয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠাগারে যেন এই তিনটি বইয়ের অন্তত এক সেট রাখা হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

বই তিনটি হলো ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া: রাজনৈতিক জীবনী’, ‘বেগম খালেদা জিয়া: জীবন ও সংগ্রাম’ এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।

মাহফুজ উল্লাহর লেখা প্রথম দুটি বই জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার জীবনী এবং তৃতীয় বইটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লেখা। তিনটি বই-ই জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থা থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে স্বাক্ষরকারী উপসচিব রোশন আরা পলি কে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে এর কারণ জানতে চাইলে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

যোগাযোগ করা হলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহিনা ফেরদৌসী বলেন, অধিদপ্তর শুধু মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাটি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠাগারে ওই তিনটি বইয়ের এক সেট রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। চিঠিটি আমার কাছে আসার পর আমরা কেবল তা অনুমোদন করে মাঠপর্যায়ে পাঠিয়ে দিয়েছি।’

আগের সরকারের সময়ে যেমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুধু ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বই রাখা হতো, এই পদক্ষেপ অনেকটা সে রকম কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ই হলো নীতিনির্ধারক কর্তৃপক্ষ। আমরা শুধু তাদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করি এবং তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করি। যেহেতু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনাটি আমার কাছে এসেছে, আমি শুধু তা অনুমোদন করেছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, স্কুল পাঠাগারে কোনো একটি রাজনৈতিক ঘরানার নয়, বরং দেশের সব বড় জাতীয় নেতাদের বই রাখা উচিত।

তিনি বলেন, সম্পূরক পাঠ্য হিসেবে স্কুল পাঠাগারে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার বই থাকতেই পারে। তবে প্রশ্ন হলো অন্য জাতীয় নেতাদের বই কেন অন্তর্ভুক্ত করা হলো না।

রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘একজন নাগরিক হিসেবে আমি সব সময় ভারসাম্য চাই। আমাদের শিক্ষার্থীদের এবং নতুন প্রজন্মকে অবশ্যই সঠিক ইতিহাস জানতে হবে। শুধু এই তিনজন কেন? মওলানা ভাসানী কেন নয়? জেনারেল ওসমানী কেন নয়? চার জাতীয় নেতা কেন নয়? সবকিছুই থাকুক। নতুন প্রজন্ম যথেষ্ট বুদ্ধিমান, তারাই সিদ্ধান্ত নেবে।’

তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের অবদান ঢেকে রাখা হয়েছিল এবং শিক্ষার্থীদের অবশ্যই তার সম্পর্কে জানতে হবে। তবে অন্যদের অবদানও তুলে ধরা উচিত। তার মতে, বিষয়টিকে আবারও একতরফা করা উচিত নয়। ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।

এ সিদ্ধান্তের পেছনে কারণ জানতে গত রাতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো প্রশ্নের কোনো জবাব দেননি তিনি। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. শাখাওয়াত হোসেনও ফোন ধরেননি।

উল্লেখ্য, এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর লেখা বই ও উপকরণ নিয়ে একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে ক্ষমতাসীন দলের বয়ান প্রচার করার অভিযোগে সে সময় বিষয়টি বেশ সমালোচিত হয়।

২০১৯ সালের আগস্ট মাসে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর দেশের সব সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য ২৭টি বই কেনার নির্দেশ দেয়। ওই ২৭টি বই-ই ছিল বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমি থেকে প্রকাশিত।

২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের পেছনের প্রচ্ছদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ছেপেছিল National Curriculum and Textbook Board (NCTB)।

এ ছাড়া ২০১৪ সালে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর এক আমলার লেখা বঙ্গবন্ধুর ওপর তিনটি বই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সংগ্রহ করার জন্য বলেছিল। ২০১৭ সালের জুন মাসে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়-বিষয়ক তৎকালীন সংসদীয় স্থায়ী কমিটি প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ও অফিসে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি প্রদর্শনের সুপারিশ করেছিল।