বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
গীতাঞ্জলি সম্মাননা পদক-২০১৯ পাচ্ছেন দেশের তিন বরণ্য গুণীজন  » «   ফ্রান্সে পররাষ্ট্রমন্ত্রী  ড.এ কে আব্দুল মোমেন সংবর্ধিত  » «   শাবির বেগম সিরাজুন্নেসা হলের নতুন প্রভোস্ট জাফরিন আহমেদ  » «   বিয়ানীবাজার আদর্শ মহিলা কলেজে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত  » «   হাইড বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ারের বার্ষিক সাধারন সভা  » «   যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের দুঃখপ্রকাশ  » «   ফেসবুকে মহানবীকে (সা.) কটূক্তির অভিযোগ’র ঘটনা  » «   সাকিবের নেতৃত্বে ক্রিকেটারদের ধর্মঘটের ডাক  » «   সিলেটে ক্রিয়েটর ল্যাব অত্যাধুনিক আইটি শিক্ষা দিচ্ছে  » «   বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতাল-এ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা  » «   স্পেনে ‘হাসিনা: এ ডটার্স টেল’ প্রদর্শিত  » «   দুবাইয়ে বাংলাদেশি মালিকানাধিন তৈয়ুর আল জান্নাহ স্টেশনারির যাত্রা শুরু  » «   কাতালানদের আন্দোলনে বার্সেলোনা কার্যত অচল  » «   স্পেনে এশিয়ান চলচ্চিত্র প্রদর্শনী উৎসবে ‘হাসিনা:এ ডটার্স টেল ‘ প্রদর্শিত  » «   বিজিবি-বিএসএফ গুলাগুলি:বিএসএফ সদস্য নিহত  » «  

এই দায়ভার বিএনপির ওপরই বর্তায়



ব্যাপারটা রাজনীতির জন্য অশুভ একটা দিক বটে। ব্রিটেনের কিংবা ইউরোপ আমেরিকার বাংলাদেশি রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর এ রকম প্রচার-প্রচারণা কিংবা হট্টগোল পুরনো সংস্কৃতি। এই সংস্কৃতির ধারায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এলে মিছিল করা, তাকে প্রতিরোধ করা যেন রাজনীতির এক নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষত ইদানীং এ ব্যাপারটা যেন একটু বৃদ্ধিই পেয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি এখন বলতে গেলে মৃত হাতি হয়ে গেছে। রাজনীতির ভার বইতে পারছে না দলটি। দলটির প্রধান এখন কারাভ্যন্তরে। হাজারো-লাখো কর্মীর এই দলটি এখন কাণ্ডারীবিহীন। এই দলটির কলকাঠি নড়ে লন্ডন থেকে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানই তাদের রাজনীতির দেখভাল করেন। স্বাভাবিকভাবেই রাজনীতির মাঠ গরম রাখতে ভারপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা এখানে মাঝে মাঝে শৌখিন ডাক দেন। ব্রিটেনের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জমায়েত হয় কর্মী-নেতারা। তিনি বাণী দেন। কি সেই বাণী। সংবাদ কর্মীরা সেই বাণীতে কি কিছু খোঁজে পায়। রাজনীতির মাঠ উষ্ণ করার মতো কিছুই হয় না, কারণ বিএনপি নেতাকর্মী তাঁর বক্তৃতা শোনার পর তাদের নিজ নিজ শহরে এসে সবকিছু ভুলেই যায়। বাণী বর্ষণের দিনটাকে একটা ডে-ট্রিপ হিসেবেই ধরে নেয় কর্মীরা। তাইতো এর বাণী দেয়ার পরদিন থেকে আমরা খুব একটা কিছু আর দেখি না।

বাংলাদেশে দলটি মাথা উঁচু করতে পারছে না। বিএনপি অভিযোগ করছে, তাদের দাঁড়াতে দেয়া হচ্ছে না। যেভাবেই হোক, সরকারের কৌশলের কাছে তারা পরাজিত। দলটি এক ধরনের ছন্দহীন এগুচ্ছে। অতিসম্প্রতি দলটির ছয়জন এমপির মাঝে পাঁচ জনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়াতেও দেখা গেছে তাদের রাজনীতির চরম দেউলিয়াপনা। দলের সাধারণ সম্পাদক শপথ নেননি। অথচ যারা শপথ নিয়েছেন, তারা বলেছেন, লন্ডনের সিগন্যালেই তারা শপথ নিয়েছেন। দলের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কোনো এ্যাকশনও নেয়া হয়নি। সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফখরুল তার কথাতেই থেকেছেন। সংসদে শপথ নিতে এক সময়ে তার মৌনতা থাকা সত্ত্বেও দলের সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়েই তিনি বিগত তিনটা মাস শপথ নেয়ার বিরুদ্ধে বলেছেন এবং তার কথায় অবিচল থেকে শপথ নেননি। রাজনীতির মাঠে তিনি বুদ্ধিদীপ্ত কথাগুলোই উচ্চারণ করছেন সময়ে সময়ে।লন্ডন কানেকশনে জন্যই রাজনৈতিক কৌশলে এবারো বিজয়ী হলো আওয়ামী লীগ কিংবা সরকার। সংসদে ঢোকার দোলাচলে লন্ডন কানেকশনের জয় হলো। পরাজিত হলো বিএনপি নামক দলটি।

কিন্তু লন্ডন কেন্দ্রিক নোংরামি আরো জোরালো হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী গত ১ মে লন্ডনে এসেছেন। রাষ্ট্রীয় নয়, ব্যক্তিগত সফরে, চিকিৎসা নিতে। স্বাভাবিকভাবে যুক্তরাজ্যের সরকারি সফর এটা নয়। কিন্তু বিএনপি প্রধানমন্ত্রীর পিছু ছাড়েনি। তারা প্রতিবাদে মেতে উঠেছে। তার হোটেলের বাইরে যেন প্রতিদিনই কোনো না কোনোভাবে গরম রাখছে। মিছিল, বাজে স্লোগানে মুখর করে তুলছে তারা। ব্রিটেনের পুলিশ রীতিমতো তাদের প্রহরা দিতে হচ্ছে। এবার চিত্রটা আরো একটু ভিন্ন। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগও বসে নেই। মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে তারা। মন্ত্রী-এমপিরা লন্ডনে আসেন প্রায়ই। এমনকি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনও আছেন লন্ডনে। তিনি সভা-সমাবেশ করছেন। এমনকি কমিউনিটির সভায়ও যোগ দিচ্ছেন। সরকারের উন্নয়নের রূপরেখা এবং সাফল্য তুলে ধরেছেন। তাদের কেউই প্রতিবাদ কিংবা প্রতিরোধের সম্মুখীন হননি। প্রধানমন্ত্রী এলেই বিএনপির যুক্তরাজ্যের সভাপতি জেহাদি জোসের মানুষের মতো মাথায় কালো কাপড় বেঁধে তার দলবল নিয়ে যেন জেহাদে নেমে যান। কথ্য-অকথ্য শব্দের প্রয়োগে লন্ডন শহরটা বিচ্ছিরি হয়ে উঠে তখন। নিয়মতান্ত্রিকতা ছড়িয়ে লন্ডন শহরটা হয়ে যায় বিএনপির আন্দোলনের রাজপথ। কিন্তু কাজের কাজ কিছু তো হচ্ছে না। এই তো মাত্র কদিন আগে যুবদল হাঙ্গার স্ট্রাইক করল। কিসের স্ট্রাইক? কাকে অবহিত করল তারা। কেনই বা কিছু সময় জনসম্মুখে মাত্র কয়েক ঘণ্টা কিছু খেলো না? তার উত্তরটা খুঁজলে এক ধরনের হাস্যরসের সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক।

প্রশ্ন আসতেই পারে, ব্রিটিশ সরকার কি বাংলাদেশের মুরব্বি হিসেবে কাজ করছে। জনসম্মুখে কিছু না খেয়ে অনশনে থেকে অসুস্থ হয়ে পড়া কাউকে একজন ব্রিটিশ এমপিও যদি অনশন ভাঙাতেন, তাহলে অন্তত ছবি-টবি তোলে একটা সান্ত¡না মিলত যে, আন্দোলনে কিছুটা হলেও সার্থকতা এসেছে। তাও না। লন্ডনের নেতা দীর্ঘদিন থেকে এখানে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশের আদালতে তিনি একজন দণ্ডপ্রাপ্ত মানুষ। তিনি অপরাধী হন আর ব্রিটেনের ব্যবসায়ী হন, তার প্রধান পরিচয় হলো তিনি এখন বাংলাদেশের বিএনপি রাজনীতির কর্তা-ব্যক্তি। আর সে জন্য তারেক রহমান যখন ক’দিন পর পর সমাবেশের ডাক দেন, মঞ্চে তার বক্তৃতা দেখলে মনে হয় তিনি রাজনীতির ক্লাস নিচ্ছেন। তার বক্তৃতার ভাব কিংবা অভিব্যক্তির মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে একজন রাজনীতির শিক্ষক হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, ব্রিটিশ রাজনীতি দেখেও খুব একটা গুণগত পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারলেন না তিনি। বাংলাদেশি স্টাইলে রাজপথের আন্দোলন কিংবা মৃদু সহিংসতার পথটাই তিনি বেছে নিয়েছেন এই লন্ডনেও। উল্লেখ করা যেতে পারে, ইতোপূর্বে একজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন, আওয়ামী ঘরানার একজন বিচারপতি নিগৃহীত হয়েছিলেন। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ তখন থেকেই অভিযোগ করছে, এসব অপকর্মগুলো বিএনপিই করিয়েছে।

আন্দোলন এবং স্বাধীনতার যুদ্ধ দুটো ব্যাপার। একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধ ছিল ঐতিহাসিক একটা সত্যের নাম। পৃথিবীতে বাংলাদেশের জন্য জনমত গড়ে উঠেছিল তখন। সে পরিস্থিতি এখন কোনোভাবেই সৃষ্টি করা যাবে না। কারণ বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ চায় না ব্রিটেন বাংলাদেশের রাজনীতির কলকাঠি হয়ে উঠুক। সরকারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের অভিযোগ আছে অন্তহীন, কিন্তু কোনো মানুষই চাইবে না, কোনো গণতান্ত্রিক শক্তিই চাইবে না, ব্রিটেন কিংবা আমেরিকা নাক গলাক বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে। হাঙ্গার স্ট্রাইক বলি কিংবা প্রতিদিনের শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে স্লোগান কিংবা কালো পতাকা প্রদর্শন কোনো কিছুতেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোনো পরিবর্তন নিয়ে আসা যাবে না। এটাই স্বাভাবিক।

তবে বলা যায়, যে ব্যাপারটা বিএনপি চেষ্টা করতেই পারে, তাহল যুক্তরাজ্যেকে বুঝানো যে, বাংলাদেশ সঠিক পথে এগুচ্ছে না। কিন্তু এটাও বর্তমান বিশ্বের রাজনীতিতে অচল। ব্রিটিশ ইন্টারেস্টের প্রতি বাংলাদেশের নমনীয়তা থাকলে তারেক জিয়ার কোনো মিশনই সার্থকতার মুখ দেখবে না। যেভাবেই হোক বাংলাদেশ এখন প্রতিষ্ঠিত একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। বাংলাদেশের এ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিএনপি বিশৃঙ্খল এবং নেতৃত্বহীন একটা দল। এ জায়গাটাতে দাঁড়িয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান চাইছেন বাংলাদেশের এ সরকারকে চাপে রাখতে। তিনি যদি তা-ই করতে চান, তাহলে বিদেশি সহায়তা-সমর্থন কিংবা ব্রিটিশ-লিংক তৈরি করা ছাড়া তার সামনে আর কোনো পথ নেই।

কিন্তু দীর্ঘদিনের বিএনপির লন্ডনের কার্যক্রমে এ ধারণা আমরা করতেই পারি, এ জায়গাটাতে তারেক জিয়া কিংবা বিএনপি সফলতা পায়নি। তাই মৃদু সহিংসতা, বাংলাদেশি স্টাইলের রাজপথে মার্চ এগুলো প্রদর্শনই এখন তাদের কাছে মুখ্য হয়ে গেছে। এসব আস্ফালন করে বিএনপি কতটুকু শক্তিশালী হবে, তা হয়তো তাদের নিজস্ব সমীকরণের ব্যাপার। কিন্তু বিষয়টা ব্রিটিশ সরকারের জন্য একটা বাড়তি পাওয়া হলো। তারা তাদের প্রয়োজনে বিএনপিকে একটা টোপ হিসেবে জিইয়ে রাখতে পারছে। বাংলাদেশকেও কিছুটা চাপের মাঝে রাখতে বিএনপির এই আন্দোলন সহায়তা করছে। সত্যি কথা হলো, বিএনপির কোনোই সফলতা আসছে না, বরং ভিনদেশি মানুষের কাছে বাংলাদেশটা একটা বাজে উদাহরণ হয়েই উঠে আসছে। আর এই বাজে উদাহরণের দায়ভারটা কিন্তু বিএনপির ওপরই বর্তায়।

ফারুক যোশী : কলাম লেখক , প্রধান সম্পাদক; ৫২বাংলাটিভি ডটকম।