দেশে ছুটি কাটাতে আসা সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী বহু বাংলাদেশির ভিসা হঠাৎ বাতিল হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে দেশটিতে অবস্থানরত অনেকেই ভিসা নবায়ন করতে পারছেন না।
মাত্র এক সপ্তাহে ‘শত শত’ ভিসা বাতিল হওয়ার খবরে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে। কেউ কেউ আবার দেশে ফেরার বিষয়েও অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।
এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে অবস্থানরত অনেকে দ্রুত আমিরাতে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। ফলে উড়োজাহাজের ভাড়া ৩০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে লাখ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে।
কতজনের ভিসা বাতিল হয়েছে বা কেন এমন হচ্ছে—এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনও জানা যায়নি। আবুধাবিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে দুবাইভিত্তিক বিভিন্ন প্রবাসী গ্রুপে এখন ভিসা বাতিল ও নবায়ন সংক্রান্ত পোস্টই বেশি দেখা যাচ্ছে। অনেকে সেখানে নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরে সমাধান জানতে চাইছেন।
একটি প্রবাসী গ্রুপে আবু বকর আহমেদ নামে একজন মন্তব্য করে জানান, তার ভিসাও বাতিল হয়েছে এবং এতে তিনি জীবনের অর্জন হারানোর শঙ্কায় আছেন।
মো. শাকিল মিয়া নামের আরেকজন লিখেছেন, ২৭ জুলাই তার ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
এমদাদুল হক ইমন নামে একজন লিখেছেন, “বাংলাদেশ সরকার যদি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে আপাতত তিনটি সমস্যা সমাধান করতে পারে, তাহলে আমিরাতের ১২ লাখ প্রবাসী সরকারের প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবে।”
কোন ধরনের ভিসা বেশি বাতিল হচ্ছে, তা নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে। কেউ বলছেন ‘লেবার ভিসা’, আবার কেউ বলছেন ‘ঘরের ভিসা’। আমিরাতে গৃহকর্মীদের জন্য ইস্যু করা ভিসাকে সাধারণত ‘ঘরের ভিসা’ বলা হয়।
ভিসা নবায়ন জটিলতার কথা জানিয়ে জেএইচ হৃদয় নামে একজন লিখেছেন, “আমার মালিক তিনটা ভিসা বিক্রি করছিল। একটা রিনিউ হচ্ছে না, আরেকটা এখন বাতিল হয়ে গেছে দেশে যাওয়ার পরে।
“…আপনার অবশ্যই কোনো ভুল বা লাইসেন্সের ভুলের জন্য ভিসা বাতিল হয়েছে। এতে পুনরায় কিছুই করতে পারবেন না।”
ভিসা বাতিলের আতঙ্কে দেশে থাকা অনেক প্রবাসী দ্রুত কর্মস্থলে ফিরতে বিমান টিকিট কাটছেন, যার ফলে টিকিটের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।
গত ২৭ জুলাই আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাস তাদের ফেইসবুক পোস্টে জানিয়েছে, তারা ভিসা বাতিলের কারণ অনুসন্ধান করছে এবং প্রবাসীদের গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
দূতাবাসের বক্তব্য, “আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কূটনৈতিক চ্যানেলে যোগাযোগের মাধ্যমে এ বিষয়ে সঠিক তথ্য ও দিকনির্দেশনা পাবার চেষ্টা আমরা অব্যাহত রেখেছি। এটি কি কোনো টেকনিক্যাল ত্রুটি, অথবা বিশেষ কোনো কারণে ঘটছে কি না, সেটি জানার ও বোঝার জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।”
গুজব বিষয়ে সতর্ক করে আরও বলা হয়, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের লোগো, সরকারি প্রতীক ও বাংলাদেশের পতাকা, দূতাবাসের ইমেইল আইডি ব্যবহার করে বিভিন্নজন কিছু অসত্য, অসম্পূর্ণ তথ্য ও গুজব ছড়াচ্ছেন। অনেকেই আবার তা না বুঝে শেয়ার দিচ্ছেন। এ সকল বিষয় থেকে দূরে থাকুন।”
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন কর্মসূচির প্রধান শরীফুল হাসান বলেন, “গত এক সপ্তাহ ধরে শত শত দুবাই প্রবাসীর ভিসা বাতিল হওয়ার খবর আসছে আমাদের কাছে। বিশেষ করে যারা ছুটিতে দেশে এসেছিলেন, ফেরার আগে দেখেন ভিসা বাতিল। এর যথাযথ কোনো কারণ জানানো হয়নি।”
মহিউদ্দীন আহমেদ নামে এক প্রবাসী জানান, তার ফেরার কথা ছিল ১৩ অক্টোবর। কিন্তু ভিসা জটিলতার কারণে তিনি ২৮ জুলাই জরুরি ভিত্তিতে দুবাই ফিরে যান। টিকিটের তারিখ পরিবর্তনসহ তার মোট খরচ এক লাখ টাকার বেশি হয়েছে।
বিভিন্ন টিকিটিং প্ল্যাটফর্ম ও এয়ারলাইন্সের ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, জুলাইয়ের বাকি সময় ও আগস্টের শুরুতে টিকিটের দাম ৭০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। সরাসরি ফ্লাইটগুলোর ক্ষেত্রে এই দাম ৯০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার কাছাকাছি।
৩১ জুলাইয়ের একটি Emirates ফ্লাইটের ভাড়া দেখানো হয়েছে ৮৮ হাজার ৮৯০ টাকা। একই দিনে Flydubai-এর ওয়ানওয়ে টিকিট প্রায় এক লাখ টাকা, যা ৮০৭ ডলার।
টিকিটিং প্ল্যাটফর্ম ‘GoZayaan’-এ ২ আগস্টের US-Bangla Airlines-এর টিকিট ৯১ হাজার টাকা, Emirates-এর ৮৪ হাজার এবং Flydubai-এর টিকিট ১ লাখ ১ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে।