কয়েক দিনের বিরতির পর আবারও ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে আগের দিন ইরানের হামলার চেষ্টার জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে বুধবার রাতে নিশ্চিত করেছে US Central Command (CENTCOM)। ইস্টার্ন টাইম অনুযায়ী ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে এই হামলা শুরু হয়।
সাম্প্রতিক এই হামলার ফলে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশ সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, বোমাবর্ষণের সময় ইরানের কেশম, কিশ, বন্দর আব্বাস, আবাদান এবং বুশেহর শহরে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
এর আগে বুধবার মিসরের দামিয়েত্তা ভূমধ্যসাগরীয় বন্দরে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের একটি গ্যাস সংরক্ষণ ট্যাংকারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা Ambrey।
একই সময়ে পূর্ব ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের বাহিনী। এর জবাবে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান।
তবে মিসরের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় বন্দরে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ড্রোন হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। এ ঘটনায় দায়ী পক্ষ সম্পর্কেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরাক ও মিসরের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আরও দেশ এই সংকটে জড়িয়ে পড়তে পারে। এর আগে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক পথ অবরোধের আহ্বান জানিয়েছিল ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী।
বুধবার তেহরানকে কঠোর জবাব দেওয়ার ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “এবার আমাদের পালা।” একই সঙ্গে ইরানকে কঠোর আঘাতের হুঁশিয়ারি দিলেও আলোচনার পথ খোলা রাখার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী নৌযানে আক্রমণের কথা স্বীকার করেছে তেহরান। পাশাপাশি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ যৌথভাবে তদারকির জন্য ওমানের প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটি।