যুক্তরাজ্যের সাফোক (Suffolk) কাউন্টিতে অনুষ্ঠিত একটি বৃহৎ ইসলামিক ধর্মীয় সমাবেশকে লক্ষ্য করে কথিত উগ্র ডানপন্থী (ফার-রাইট) হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্রের (Conspiracy to Murder) অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত পরিচালনা করছে যুক্তরাজ্যের কাউন্টার টেররিজম পুলিশ, যারা ঘটনাটিকে ‘চরম ডানপন্থী সন্ত্রাসবাদ’ (Extreme Right-Wing Terrorism) সংশ্লিষ্ট হিসেবে তদন্ত করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সাফোকের শ্রাবল্যান্ড হল (Shrubland Hall)-এ চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত ইউকে ইজতিমা (UK Ijtima)-কে কেন্দ্র করে একটি সম্ভাব্য গুরুতর নিরাপত্তা হুমকির তথ্য পাওয়া যায়। এই সমাবেশে প্রায় ১৫ হাজার মুসল্লি অংশ নেন।
তদন্তের অংশ হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে এবং আরও আটজনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আটক করা হয়েছে। এছাড়া পূর্ব লন্ডন থেকে ৪৮ বছর বয়সী এক নারীকে একজন অপরাধীকে সহায়তা করার সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের বয়স ৮২ বছর বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
'ইজতিমা', যার অর্থ ‘সমাবেশ’, ছিল মুসলিমদের ইবাদত, ধর্মীয় শিক্ষা ও আত্মশুদ্ধিমূলক আলোচনার একটি বৃহৎ আয়োজন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমের সঙ্গে সমন্বয়কারী রুমান মুহিত জানান, বিভিন্ন দেশ থেকে আগত মুসল্লিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণভাবে চলছিল। তবে শনিবার রাতে পুলিশ একটি বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা হুমকির তথ্য জানালে আয়োজকদের অনুরোধ করা হয় অনুষ্ঠানটি নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করতে। পরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে অনুষ্ঠানটি আগেভাগেই সমাপ্ত করা হয় এবং একটি মেজর ইনসিডেন্ট ঘোষণা করা হয়।
কাউন্টার টেররিজম পুলিশ জানিয়েছে, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সাফোক পুলিশ আয়োজকদের অনুষ্ঠান দ্রুত শেষ করার পরামর্শ দেয়। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জনসাধারণের জন্য অন্য কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি নেই।
রবিবার ও সোমবার গ্রেটার ম্যানচেস্টার, লন্ডন, এসেক্স, ইপসউইচ এবং সারে এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তের স্বার্থে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন স্থানে একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।
লন্ডন কাউন্টার টেররিজম পুলিশের প্রধান কমান্ডার Helen Flanagan বলেন, সম্ভাব্য গুরুতর হুমকির তথ্য পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই ঘটনার লক্ষ্যবস্তু একটি ইসলামিক অনুষ্ঠান হওয়ায় মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্বিগ্ন হওয়া স্বাভাবিক।
এদিকে Muslim Council of Britain (এমসিবি) এক বিবৃতিতে জানায়, ঘটনাটিকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সম্প্রতি উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে বর্ণবাদী সহিংসতা এবং স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় সন্ত্রাস-সংশ্লিষ্ট হামলার পর এই ঘটনাও প্রমাণ করে যে যুক্তরাজ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে হুমকি বাস্তব। সংগঠনটি কেবল নিন্দা নয়, কার্যকর নীতি ও পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
-
নির্মাণ শিল্পে ক্যারিয়ার গড়তে চান তরুণরা: টাওয়ার হ্যামলেটসের মেলায় অভাবনীয় সাড়া
-
সার্ভিস সাপ্লায়ার ভিসা: বিদেশি কর্মীদের জন্য ব্রিটেনে স্বল্পমেয়াদি কাজের সুযোগ
-
স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যা স্মরণে টাওয়ার হ্যামলেটস ও ইস্ট লন্ডন মসজিদের শ্রদ্ধাঞ্জলি
-
যুক্তরাজ্যে নতুন নিরাপত্তা আইন কার্যকর, লঙ্ঘনে ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
-
রাজকীয় সম্মাননা এমবিই অর্জনে সংবর্ধিত কবি-নাট্যকার আবু তাহের
আরও পড়ুন: