আটলান্টার মাঠে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এই জয়ের মাধ্যমে আবারও বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের আধিপত্যের শক্ত বার্তা দিল আলবিসেলেস্তেরা। ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় ও অধিনায়ক লিওনেল মেসি জোড়া অ্যাসিস্ট করে দলকে ফাইনালে তুলেছেন। এরপর স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, আর্জেন্টিনার এই ধারাবাহিক সাফল্য কোনও কাকতালীয় বিষয় নয়।
বিশ্বমঞ্চের ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার পর টিওয়াইসি স্পোর্টস-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দলের লড়াকু মানসিকতা নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেন এই কিংবদন্তি ফুটবলার।
টানা দুই বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার ঐতিহাসিক অর্জন সামনে রেখে সমালোচকদের কড়া জবাব দিয়েছেন মেসি। তিনি বলেন, “মানুষ এই মুহূর্তটা উপভোগ করতে থাকুক। এই দল যা অর্জন করেছে, সেটা অবিশ্বাস্য। আমরা আবারও একটি বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছি। গত চার বছর ধরে আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। আমরা বিশ্বের সেরা দল— মানুষ সেটা পছন্দ করুক বা নাই করুক, যাই বলুক না কেন। এটা প্রমাণ করে, আমরা যা করেছি, তা কাকতালীয় ছিল না এবং কেউ আমাদের কিছু উপহার দেয়নি।”
তিনি আরও যোগ করেন, টানা দুটি বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা এমন একটি অর্জন, যা ফুটবল ইতিহাসে খুব কম দলই করতে পেরেছে। ব্যক্তিগতভাবে নিজের ক্যারিয়ারে তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনাল (২০১৪, ২০২২, ২০২৬) খেলার সুযোগ পাওয়াকেও অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেন মেসি।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে এই স্কোয়াডের চোট ও খেলোয়াড়দের ফর্ম নিয়ে অনেকের মধ্যে সন্দেহ থাকলেও অধিনায়কের আস্থা ছিল দৃঢ়। মেসি বলেন, “অনেকেই এই দলকে বিশ্বাস করেনি। কিন্তু আমি জানতাম এই ছেলেরা কী করতে পারে। আমরা একসঙ্গে থাকলে নিজেদের ভেতর থেকেই বাড়তি কিছু বের করে আনতে পারি। দলের কয়েকজন খেলোয়াড় চোট ও নানা সমস্যা নিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের শেষ সীমায় থেকে খেলেছে, কিন্তু এই দল সব সময় সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এবং একজন আরেকজনকে অনুপ্রাণিত করে।”
থ্রি লায়ন্সদের বিপক্ষে ম্যাচের নাটকীয়তা নিয়েও কথা বলেন তিনি। মেসি বলেন, “আমরা বলছিলাম, এটা ফুটবল। কিন্তু আমরা জানতাম, এটা শুধু আরেকটি সাধারণ জয় নয়। এটা এমন একটি জয়, যেটা আর্জেন্টিনার মানুষ চেয়েছিল। আজকের প্রতিপক্ষ, আর যেভাবে আমরা তাদের হারিয়েছি— সব মিলিয়ে অবিশ্বাস্য অনেক কিছু ঘটেছে। এটা এমন একটা ম্যাচ ছিল, যা আমরা কোনোভাবেই হারতে চাইনি।”
চার বছর আগের কাতার বিশ্বকাপের মতোই এবারও দেশের কোটি কোটি সমর্থককে এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত উপভোগ করার আহ্বান জানান মেসি। বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়াম কিংবা ওবেলিস্ক চত্বরে সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাসের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “মানুষের এই আনন্দই দলকে সবচেয়ে বেশি তৃপ্তি দেয়।”
মেসি বলেন, “আমরা আবার বিশ্বকাপের একটি ফাইনালে উঠেছি। এর মানে, আর্জেন্টিনা আবার বিশ্বের সেরা দুই দলের একটি। আজ আমরা শেষ ধাপটা পেরিয়েছি। এখন বাকিটা ঈশ্বরের ইচ্ছা।”
এখন আর্জেন্টিনার সামনে আর মাত্র একটি ম্যাচ। বাংলাদেশ সময় আগামী সোমবার দিবাগত রাত ১টায় নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ইউরোপিয়ান শক্তিশালী দল স্পেনের মুখোমুখি হবে আলবিসেলেস্তেরা। সেই ম্যাচে জয় পেলেই টানা দ্বিতীয়বার এবং নিজেদের ইতিহাসে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের গৌরব অর্জন করবে মেসির আর্জেন্টিনা।
-
ফকল্যান্ড যুদ্ধ থেকে মাঠের বৈরিতায় মুখোমুখি ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা
-
ইয়ামাল ৬-০ এমবাপে
-
এবার বিশ্বকাপে সফল ৪ পরাশক্তির ৪ মহাতারকা
-
যুক্তরাষ্ট্র বিদায় নিতেই ইংল্যান্ডের পক্ষে ট্রাম্প শিবির, চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আভাসও দিলেন প্রতিনিধি জুলিয়ানি
-
১০ জনের সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা, এক লাল কার্ডে বদলে গেল ম্যাচের ভাগ্য—কী ঘটেছিল
আরও পড়ুন: