অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ইতালির ভেনিস প্রশাসন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করতে মাঠে নেমেছে দেশটির পুলিশের একটি বিশেষ শাখা।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ইতালির জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘ইল গাজ্জেত্তিনো’ এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ‘ওরিজন্তি’ বিভাগে নির্বাচিত, রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ চলচ্চিত্রের প্রতিনিধি হিসেবে ভেনিসে অবস্থান করছেন অভিনেত্রী ও মডেল আজমেরী হক বাঁধন। ভেনিসের মেস্ত্রে এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের দ্বারা তিনি শারীরিক হামলা ও মানসিক লাঞ্ছনার শিকার হন। ঘটনার সময় হামলাকারীরা তাঁকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ বলে অভিহিত করে গালাগাল করে।
‘ইল গাজ্জেত্তিনো’ আরও জানায়, বাঁধনের ওপর এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে ভেনিস পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজে দৃশ্যমান হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করতে ইতালীয় পুলিশের বিশেষ শাখা তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে।
ইতালির আইনে এ ধরনের অপরাধের শাস্তি কী
ইতালির ফৌজদারি বিধান অনুযায়ী, শারীরিক আঘাতজনিত অপরাধ দুই ভাগে বিচার্য হতে পারে - কারো ওপর আঘাত করা হলেও তা শরীরে দৃশ্যমান কোনো ক্ষত বা অসুস্থতা তৈরি না করলে সেটি "পের্কোসে" (Percosse, দণ্ডবিধির ৫৮১ ধারা) হিসেবে গণ্য হয়, যাতে সর্বোচ্চ ছয় মাস কারাদণ্ড বা জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে আঘাতের ফলে শারীরিক বা মানসিক কোনো অসুস্থতা তৈরি হলে তা আরও গুরুতর অপরাধ "লেসিওনি পার্সোনালি" (Lesioni Personali, ৫৮২ ধারা) হিসেবে বিবেচিত হয়, যাতে ছয় মাস থেকে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান আছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কোনো অপরাধ যদি বর্ণ, জাতিগত, জাতীয় বা ধর্মীয় ঘৃণা থেকে সংঘটিত হয়, তাহলে দণ্ডবিধির ৬০৪-টের ধারা অনুযায়ী সেই অপরাধের সাজা অর্ধেক পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়ার বিধান রয়েছে। এ ছাড়া জাতিগত বা ধর্মীয় বিদ্বেষ থেকে সহিংসতায় উসকানি দেওয়া বা তা সংঘটিত করার জন্য পৃথকভাবে ছয় মাস থেকে চার বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধানও ইতালির আইনে রয়েছে। বাঁধনের ওপর হামলার ভিডিওতে রাজনৈতিক পরিচয় ও উগ্র স্লোগানের যে প্রমাণ পাওয়া গেছে, তদন্তে তা প্রমাণিত হলে এই ধরনের অতিরিক্ত ধারাও প্রযোজ্য হতে পারে বলে আইনি পর্যবেক্ষকদের অভিমত।
অভিবাসী মর্যাদার ওপর প্রভাব
ইতালিতে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হলে তাদের আবাসিক অনুমতিপত্র (রেসিডেন্স পারমিট) বাতিল বা নবায়নে অস্বীকৃতির সুযোগও ইতালীয় অভিবাসন আইনে রয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত হলে-এমনকি চূড়ান্ত রায় না হলেও-বিদেশি নাগরিকের রেসিডেন্স পারমিট স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়, যার মধ্যে অস্ত্র রাখাসহ গ্রেপ্তারযোগ্য অপরাধের একটি নির্দিষ্ট তালিকা অন্তর্ভুক্ত। এ ছাড়া কোনো বিদেশি নাগরিককে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি বলে বিবেচিত হলেও তার রেসিডেন্স পারমিট প্রত্যাখ্যান বা বাতিল করার ক্ষমতা পুলিশ প্রশাসনের রয়েছে।
তবে বাস্তবে এ ধরনের বাতিলের সিদ্ধান্ত বিরল, এবং তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটে না — অপরাধের গুরুত্ব, অভিযুক্তের চরিত্র ও পটভূমি, ইতালিতে পারিবারিক সম্পর্কের মতো একাধিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তর সিদ্ধান্ত নেয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইতালিতে সংঘর্ষ বা উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে কয়েকজন বিদেশি নাগরিকের রেসিডেন্স পারমিট বাতিলের নজিরও রয়েছে।
সূত্র: ইল গাজ্জেত্তিনো; ইতালির দণ্ডবিধি ও অভিবাসন আইন-সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে ৫২বাংলার প্রতিবেদন
-
ইতালিতে অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তা, হামলায় জড়িতদের পরিচয় প্রকাশ
-
সিডনির ক্যামডেন কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র হলেন বাংলাদেশি এলিজা
-
বাঁধনের ওপর হামলার প্রতিবাদে ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে এনসিপি ডায়াস্পোরার স্মারকলিপি
-
ইতালিতে বছরে ১০ হাজার বাংলাদেশির বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ
-
অধরাই রয়ে গেল স্বপ্ন, কফিনে ফিরছে ইতালি প্রবাসীর লাশ