সামাজিক মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী গণমাধ্যমকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার ব্রিটিশ সরকারের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। লন্ডনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইউটিউবসহ অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে বিবিসি, আইটিভির মতো প্রতিষ্ঠিত সম্প্রচার মাধ্যমকে অ্যালগরিদমে বেশি প্রাধান্য দিতে বাধ্য করার এই পরিকল্পনা "সেন্সরশিপ সহায়ক" হয়ে উঠতে পারে।
মার্কিন সরকারের ভাষ্যমতে, এই প্রস্তাব এমন একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে, যা কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলো অনলাইন কনটেন্টের ওপর আরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। এতে আরও বলা হয়, এই পদক্ষেপ "স্বাধীন সাংবাদিকদের" ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং তা মার্কিন নাগরিকদের সুরক্ষিত বাক্স্বাধীনতার ওপর "আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে সেন্সরশিপ" আরোপের শামিল হবে।
যুক্তরাজ্য সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও পাবলিক সার্ভিস সম্প্রচারকরা মনে করছেন, অনলাইনে ক্রমবর্ধমান ভুল তথ্য মোকাবিলায় নতুন নিয়ম প্রয়োজন, কারণ মানুষ ক্রমাগত এক্স, ইউটিউব ও টিকটকের মতো কম নিয়ন্ত্রিত প্ল্যাটফর্মের দিকে ঝুঁকছে। চলতি বছরের একটি পরামর্শপত্রে যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছিল, প্ল্যাটফর্মগুলো নির্ভরযোগ্য কনটেন্টকে অগ্রাধিকার না দিলে আইন প্রণয়নের কথা বিবেচনা করা হবে। তবে ওয়াশিংটনের দাবি, এমন পরিকল্পনা প্রতিষ্ঠিত মাধ্যমের তুলনায় "স্বাধীন সাংবাদিকদের" কনটেন্ট কার্যত সরিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।
মার্কিন দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়, মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্টারনেট রক্ষা এবং অনলাইনে বাক্স্বাধীনতা সুরক্ষিত রাখা ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার। কোনো সরকার যদি নির্দিষ্ট উৎসকে অ্যালগরিদমে অগ্রাধিকার দেওয়ার ক্ষমতা পায়, তাহলে তা দৃষ্টিভঙ্গি-ভিত্তিক সেন্সরশিপের হাতিয়ারে পরিণত হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে বিবৃতিতে। এতে আরও বলা হয়, যুক্তরাজ্য যদি প্ল্যাটফর্মগুলোকে সরকার-পছন্দের গণমাধ্যমকে অ্যালগরিদম ফিডে প্রাধান্য দিতে বাধ্য করে, তাহলে সরকারের অপছন্দের কোনো কণ্ঠস্বর বা মাধ্যমের নাগালের ওপর তার প্রভাব সরাসরি অপসারণের চেয়ে খুব একটা ভিন্ন হবে না, এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকার এ ধরনের পদক্ষেপকে সেন্সরশিপ সহায়ক হিসেবেই বিবেচনা করবে।
এই পরিকল্পনায় যুক্তরাজ্য সরকারের কর্মকর্তা ও তৃতীয় পক্ষের সংগঠনগুলোর কোনো পক্ষপাত বা পছন্দ যাতে "স্বাধীন বা সংখ্যালঘু দৃষ্টিভঙ্গির সাংবাদিকতার" ক্ষতি না করে, সে বিষয়ে কী সুরক্ষাব্যবস্থা থাকবে তা জানতে চেয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
যুক্তরাজ্যের সংস্কৃতি, গণমাধ্যম ও ক্রীড়া বিভাগের (ডিসিএমএস) একজন মুখপাত্র বলেন, তাদের মিডিয়া গ্রিন পেপার নিয়ে মতামত ও আলোচনাকে তারা স্বাগত জানায় এবং বাক্স্বাধীনতা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতায় তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী, যেকোনো পদক্ষেপে এই বিষয়গুলো সুরক্ষিত থাকবে বলে নিশ্চিত করা হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে তা কেবল যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই আপত্তি বিশ্বের বৃহত্তম ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম পরিচালনাকারী মার্কিন-ভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে লড়াই করার প্রস্তুতিরই ইঙ্গিত দেয়।
প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনামুখর ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি নিয়মিতই বড় সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক সংবাদ পরিবেশনের অভিযোগ তোলেন এবং অনলাইনে সরাসরি সমর্থকদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। বিবিসির বিরুদ্ধে ট্রাম্পের করা মামলাও এখনো চলমান, যেখানে তাঁর একটি ভাষণ সম্পাদনার মাধ্যমে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ তোলা হয়েছিল প্যানোরামা অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে। বিবিসি এই সম্পাদনার জন্য ক্ষমা চাইলেও দাবি করেছে, অনুষ্ঠানটি ট্রাম্পের সুনাম ক্ষুণ্ন করেনি।
সামাজিক মাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো আগে থেকেই ঐতিহ্যবাহী গণমাধ্যমকে কৃত্রিমভাবে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করে আসছে, তাদের মতে এটি কনটেন্ট নির্মাতাদের নীতির পরিপন্থী। অনলাইন কনটেন্ট নির্মাতারা এই প্রস্তাবকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে তুলনা করছেন এবং আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে এর ফলে তাঁদের কনটেন্ট র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে পড়তে পারে।
যুক্তরাজ্যের ইউটিউব কনটেন্ট নির্মাতা সাইমন স্কুইব বলেন, তাঁর উদ্বেগ যে এমন একটি সংস্থা ভাগ করে নিয়েছে, যাদের কথা রাজনীতিবিদরা গুরুত্ব দেবেন বলে তিনি মনে করেন, তাতে তিনি স্বস্তি বোধ করছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের জন্য এটি একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ দিক হতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের এগিয়ে আসায় তিনি খুশি।
এই বাধ্যতামূলক অগ্রাধিকার পরিকল্পনার সমর্থকরা মনে করেন, এটি ভুল তথ্য মোকাবিলা ও সাংস্কৃতিকভাবে ব্রিটিশ কনটেন্ট সংরক্ষণের একটি উপায়। তবে সরকার এটাও স্পষ্ট করেছে যে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উত্থানে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট থেকে পাবলিক সার্ভিস সম্প্রচারকদের টিকিয়ে রাখতে চায় তারা, যে সংকটের মুখোমুখি বর্তমানে সব গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানই।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
-
কুয়েতে নাগরিকত্ব হারানো ব্যক্তিদের জন্য ১০ বছর মেয়াদি আবাসনের নতুন সুযোগ
-
ভেনিসে অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তার অভিযোগ, আওয়ামী লীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার দাবি
-
ইতালিতে সাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুই বাংলাদেশি তরুণের, কমিউনিটিতে শোকের ছায়া
-
ছেলে যুবরাজ শেখ হামদানের ২০ বছর পূর্তিতে আবেগঘন চিঠি লিখলেন বাবা শেখ মোহাম্মদ
-
পাতায়ায় মার্কিন রণতরী ভেড়ার আগে যৌনকর্মী ঠেকাতে পুলিশি অভিযান
আরও পড়ুন: