হামলা স্থগিতের ঘোষণা
ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে পূর্বঘোষিত হামলা ৫ দিনের জন্য স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
‘ফলপ্রসূ’ আলোচনার দাবি
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরুর পর চতুর্থ সপ্তাহে এসে সোমবার ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং আলোচনা ‘ফলপ্রসূ’ হওয়ায় তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় তিনটি দেশ মধ্যস্থতা করেছে।
ইরানের অস্বীকার
যদিও ইরানি গণমাধ্যমগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কোনো আলোচনা হয়নি।
ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য
সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, গত দুই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে
'অত্যন্ত চমৎকার ও ফলপ্রসূ'
আলোচনা হয়েছে।
তিনি জানান, এই আলোচনার লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্যে শত্রুতার চূড়ান্ত অবসান। পাশাপাশি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা স্থগিতের নির্দেশ দেন।
বৈশ্বিক বাজারে প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্পের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানির দাম কমতে শুরু করে এবং শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়।
ইরানের পাল্টা বক্তব্য
ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের কোনো ধরনের যোগাযোগ হয়নি।
মেহের নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়,
তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কোনো সংলাপ চলছে না।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতির বরাতে বলা হয়,
ট্রাম্পের এই বক্তব্য মূলত 'বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর একটি অপকৌশল' এবং তার সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সময়ক্ষেপণ।
ফারসের সূত্রের দাবি
ইরানের সংবাদ সংস্থা ‘ফারস’ নাম প্রকাশ না করা একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি বা কোনো মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমেও ইরানের যোগাযোগ হয়নি।
সূত্রটি আরও দাবি করে,
উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইসরায়েলের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে ইরান পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর ট্রাম্প মূলত ‘পিছু হটেছেন’।
আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া নেই
আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরান সরকারের উচ্চপর্যায়ের কোনো কর্মকর্তার কাছ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মধ্যস্থতায় তিন দেশ
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর বরাতে রয়টার্স জানায়, এই সংকট নিরসনে তিনটি দেশ মধ্যস্থতা করছে।
দেশগুলোর প্রতিনিধিরা হোয়াইট হাউসের দূত স্টিভ উইটকফ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন।
মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো:
- তুরস্ক
- মিশর
- পাকিস্তান
আলোচনার উদ্দেশ্য
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়,
এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধের অবসান এবং জমে থাকা সমস্যাগুলোর সমাধান।
উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিত
মেহের নিউজ জানিয়েছে, তেহরান উত্তেজনা কমাতে কিছু উদ্যোগ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। তবে তারা চায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি আলোচনায় অংশ নিক।
কারণ ইরানের মতে, ওয়াশিংটনই এই যুদ্ধের সূত্রপাত করেছে।
হোয়াইট হাউসের নীরবতা
হোয়াইট হাউস আলোচনার স্থান বা অংশগ্রহণকারীদের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
-
৪০০০ কিমি দূরের মার্কিন ঘাঁটি নিশানা: ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে নতুন হিসাব
-
আল-আকসায় ঈদের নামাজ হয়নি—ছয় দশকের মধ্যে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি
-
ইরানের গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলার জবাবে চার দেশের ৭ জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলা : ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান
-
গ্যাসক্ষেত্রে পাল্টাপাল্টি হামলা : বিশ্বজুড়ে লাফিয়ে বাড়ছে তেলের দাম, ব্যয় বৃদ্ধির শঙ্কা
-
ইরান যুদ্ধের প্রতিবাদে পদত্যাগ করলেন মার্কিন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা