ঢাকা ২১ মাঘ ১৪৩২, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঢাকা ২১ মাঘ ১৪৩২, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সর্বশেষ
ধানের শীষের প্রচারণায় আ’লীগের সাবেক প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রী র‍্যাবের নাম বদলে দিচ্ছে সরকার, নতুন নাম জানালো বিএনপির ‘শাঁখের করাত’ ৯২ বিদ্রোহী প্রার্থী বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে উত্তরা লেডিস ক্লাবে ক্যান্সার সচেতনতা সেমিনার অনুষ্ঠিত বিমানের এমডি স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার, আদালতের নির্দেশে কারাগারে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান নিয়ে ৮৩৭টি হত্যা মামলা, ৪৫৩টিতেই শেখ হাসিনা আসামী নারীবিদ্বেষী বক্তব্য শুধু নারীদের নয়, পুরো দেশের জন্যই কলঙ্ক: : তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়বে—খামেনির হুঁশিয়ারি জামায়াত আমিরের এক্সের অ্যাকাউন্ট উদ্ধার, ৪৫ মিনিট সময় নিয়ে কেন সন্দেহ? জামায়াত আমিরের ‘নারী বিদ্বেষী’ পোস্ট ঘিরে উত্তাপ, বিক্ষোভ ও ঝাড়ু মিছিল মুস্তাফিজ শফি দেশ রূপান্তরের সম্পাদকের দায়িত্ব নিলেন  ‘নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা করার মধ্য দিয়ে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে’ জামায়াত আমিরের ‘নারীবিদ্বেষী’ পোস্ট: আইডি হ্যাকের দাবি কতটা যৌক্তিক, প্রশ্ন বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী রইল না হাসনাত আবদুল্লাহর, ঋণখেলাপিদের নিয়ে যা বললেন ঢাবিতে ছাত্রদলের মিছিল: ‘এমন হ্যাকার করলো হ্যাক, বেশ্যা ডেকে আইডি ব্যাক’ জামায়াত আমিরের এক্স ‘পোস্ট’ ঘিরে কেন এত আলোচনা টাওয়ার হ্যামলেটসে কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজেস সার্ভিস উদ্বোধন ভিসা ছাড়াই চীন ভ্রমণ করতে পারবে ব্রিটিশ নাগরিকরা : যুক্তরাজ্য-চীন ১০ চুক্তি ভোটের আগেই ৪ জনের প্রাণহানি, সারাদেশে ১৪৪ সহিংসতা গণভোট নিয়ে যত প্রশ্ন বিমানে ২০ হাজার টাকায় দেশে ফিরতে পারবেন সৌদি প্রবাসীরা রাজধানীতে প্রবাসীর শিশু সন্তান নিয়ে উধাও রিকশাচালক 'মহিলা সমাবেশ' স্থগিত করল জামায়াত, কারণ কী? 'নবীগঞ্জের ইতিকথা'র মোড়ক উন্মোচন বেশিরভাগ দেশই নারী নেতৃত্বকে ‘বাস্তবসম্মত মনে করে না’ : আল জাজিরার সাক্ষাৎকারে জামায়াত আমির প্রবাসীদের দাবিতে সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট বাঁচাতে বিএনপির উদ্যোগ ৬২টি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী ৭২ জন  কাকরদিয়া- তেরাদল- আলিপুর এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু জামায়াত আমির বললেন, গালে হাত দিয়ে বসে থাকব না, গর্জে উঠব পাঁচ লাখ অভিবাসীকে বৈধ করবে স্পেন

মামদানির জয়—ট্রাম্পের ক্ষমতা কি নড়বড়ে হচ্ছে?

প্রকাশিত: ০৬ নভেম্বর ২০২৫, ১২:০৫ এএম

মামদানির জয়—ট্রাম্পের ক্ষমতা কি নড়বড়ে হচ্ছে?

৪ নভেম্বর ২০২৫—যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে যেন শুরু হলো ‘জোহরান যুগ’। মার্কিন রাষ্ট্রপতির অনুরোধ থেকে শুরু করে কঠোর সতর্কবার্তা—কিছুই থামাতে পারেনি ভোটারদের সিদ্ধান্তকে। মেগা-শক্তিধর ট্রাম্পের কথাও গুরুত্ব পায়নি সাধারণ মানুষের কাছে।

গতকাল মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য নিউইয়র্কার শিরোনাম করে, “দ্য মামদানি এরা বিগিনস”। প্রতিবেদনে জোহরান মামদানির বিজয়কে ‘স্বপ্ন পূরণের কাহিনি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

অন্যদিকে সিএনএন শিরোনামে বলে, “মামদানি মুবারক”। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়—দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূতরা যেন এই বিজয়কে নিজেদের অর্জন হিসেবে উদযাপন করছেন।

তাহলে কি মার্কিন রাজনীতির গতিপথ বদলাতে চলেছে?

দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে—যেসব তরুণ ভোটার এক বছর আগেও ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভরসার জায়গা ভাবছিলেন, তারা এখন সেই অবস্থান থেকে সরে আসছেন। তাদের মতে, রিপাবলিকান নেতৃত্ব শুধুই নিজেদের স্বার্থে ব্যস্ত—সাধারণ মানুষের জন্য বাস্তবসম্মত কোনো পরিকল্পনা নেই।

তারা উপলব্ধি করেছেন—ধর্ম বা বর্ণবৈষম্য দিয়ে মানুষের খাদ্য বা আশ্রয় নিশ্চিত হয় না। অসুস্থ হলে রাষ্ট্র সাহায্য করে না। এতদিন তারা ভেবেছিলেন অর্থ ছাড়া কিছু পাওয়া সম্ভব নয়—রাষ্ট্র যেন কেবলই ‘দেখে যাওয়ার’ ভূমিকা নেয়।

কিন্তু এখন অনেকেই ভাবছেন, অভিবাসীদের ভয় দেখানো, কর বাড়ানো, বাড়িভাড়া অসহনীয় করা, গরিবদের শুধু ভোটে ব্যবহার করা—এসব পদ্ধতির যুগ শেষ হওয়া উচিত।

জোহরান মামদানি নির্বাচিত হলে নিউইয়র্ক নগরীর সরকারি বরাদ্দ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন ট্রাম্প। এরপর আল জাজিরা প্রশ্ন তোলে—
“ট্রাম্প কি আইনগতভাবে নিউইয়র্কের তহবিল বন্ধ করতে পারবেন?”
এবং নিউইয়র্ক কেন্দ্রীয় বরাদ্দের ওপর কতটা নির্ভর করে সে বিষয়ে বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়।

কিন্তু নিউইয়র্ক হলো যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির হৃদপিণ্ড—এ নগরীর স্বাভাবিক কার্যক্রমে সামান্য বাধাও দেশজুড়ে অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে। তা ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাকেই ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

ট্রাম্পের হুমকি কাজ করেনি—ভোটাররাও তা উপেক্ষা করেছেন। পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জোহরান মামদানি পেয়েছেন ৫০ শতাংশের বেশি ভোট। এতে স্পষ্ট—বেশিরভাগ ভোটার রাষ্ট্রপতির বিরোধিতা করেই ভোট দিয়েছেন হোয়াইট হাউসের ‘অপছন্দের’ প্রার্থীকে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়—আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন। এদিন প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি এবং সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট হবে।

এই নির্বাচনকে সাধারণত ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপতির জন্য ‘পরীক্ষার মঞ্চ’ হিসেবে দেখা হয়। ট্রাম্প মেয়র নির্বাচনে ভোটারদের মন জয় করতে ব্যর্থ হওয়ায়, এটি বিভিন্ন রাজ্যে ভোটারদের ভাবনায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের মত।

বহু বিশ্লেষক বলছেন—রিপাবলিকানদের কাছে এখন বাস্তবসম্মত কোনো পরিকল্পনা নেই। তাদের প্রধান হাতিয়ার—ধর্মবিদ্বেষ, বর্ণবিদ্বেষ ও অভিবাসনবিরোধী প্রচার। কিন্তু এসবের বিরুদ্ধে জনমত শক্তিশালী হচ্ছে।

রিপাবলিকানরা বর্তমানে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও, তা হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। কংগ্রেসের একটি কক্ষও হাতছাড়া হলে ট্রাম্পের জন্য তা বড় ধাক্কা হবে। কারণ ভোটার আকৃষ্ট করার যুগ আর ‘হুমকির রাজনীতিতে’ ফেরানো যাবে না—এ কথা যেন স্পষ্ট করে জানিয়ে দিল নিউইয়র্কের ভোটাররা।

এ বিজয় মার্কিন রাজনীতির নতুন বার্তা দেয়— ইসরায়েল বিরোধী অবস্থান নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে শুধু মনোনয়ন নয়, বিজয়ও সম্ভব।
ধনীদের উপর কর বাড়ানোর অঙ্গীকার করেও নিউইয়র্কের মতো পুঁজিবাদী শহরে জয় ছিনিয়ে আনা যায়।

নিউইয়র্ক থেকে ওয়াশিংটন ডিসির দূরত্ব ৩৬৪ কিলোমিটার—কিন্তু বিশ্ববাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে এ নগরীর আন্দোলন-নড়াচড়া হোয়াইট হাউসকে প্রভাবিত করে। মেয়র নির্বাচনের আগেই জোহরান মামদানি ট্রাম্পকে ব্যস্ত রেখেছেন—প্রায়ই তাকে নিয়ে কথা বলতে হয়েছে।

তাই হয়তো বিজয়ের রাতে মামদানি সমর্থকদের বলেছিলেন— “ভলিউমটা একটু বাড়িয়ে দিতে,” যেন শব্দ হোয়াইট হাউসের পুরু দেয়াল ভেদ করে ট্রাম্পের কানে গিয়ে লাগে।
সমীকরণ বলছে—মামদানির এই জয় ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভিত্তি নড়বড়ে করলে তাতে বিস্ময়ের কিছু নেই।