বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সিলেট সফরে আসছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এক দিনের সফরে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। রাষ্ট্রপতির আগমনকে কেন্দ্র করে বর্তমানে সিলেটে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে এবং সিলেটবাসী উচ্ছ্বসিত। রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর ঘিরে পুরো নগরজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। এই সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি বিভিন্ন সাজসজ্জায় সাজানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো।
সফরসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার সিলেটে পৌঁছে রাষ্ট্রপতি প্রথমে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। পরে বিকেল তিনটায় সিসিক আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেবেন। অনুষ্ঠান শেষে রাতে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার আবুল কালাম মো. লুৎফুর রহমান স্বাক্ষরিত সফরস‚চিতে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ওসমানী বিমানবন্দরে পৌঁছবেন। এরপর তিনি চলে যাবেন সার্কিট হাউসে। সেখান থেকে বের হয়ে দুপুর সাড়ে ১২টায় হযরত শাহজালাল (রহ.) ও বেলা ১টা ২৫ মিনিটে হযরত শাহপরাণ (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করবেন। বিকেল সাড়ে তিনটায় তিনি নগর ভবনের সামনে সিসিক আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নিবেন। পরবর্তীতে ওইদিন রাত ৮টায় ওসমানী বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।
এদিকে, রাষ্ট্রপতির আগমনকে ঘিরে সিলেটজুড়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। নগরীর বিভিন্ন স্থানে তোরণ নির্মাণ ও আলোকসজ্জার পাশাপাশি নগরের গুরুত্বপ‚র্ণ সড়ক, সড়কের ডিভাইডার, ক্বীন ব্রিজ, সার্কিট হাউস এবং হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার এলাকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ ও গুরুত্বপ‚র্ণ সড়ক ও এলাকা পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির কর্মসূচির স্থান, যাতায়াতের পথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মাজার পরিদর্শনে সিসিক প্রশাসক :
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজারের প্রস্তুতি ও চলমান উন্নয়নকাজ পরিদর্শন করেন সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এ সময় তিনি মাজার এলাকা ঘুরে দেখেন এবং রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে সিসিকের নেওয়া প্রস্তুতির অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে খোঁজ নেন। সফর উপলক্ষে গত শনিবার সমন্বয় সভা করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। সভায় সভাপতিত্ব করেন এসএমপির পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম।
নাগরিক সংবর্ধনা দিতে ব্যাপক প্রস্তুতি :
এদিকে, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নাগরিক সংবর্ধনা দিতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সিসিক। প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, নগর ভবনের সামনে সংবর্ধনাস্থলে ১ হাজার ২শ’ আমন্ত্রিত অতিথির বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সিলেটের মন্ত্রী ও হুইপ ছাড়া বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখবেন। রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের পর আধঘন্টার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন রাখা হয়েছে। কাইয়ুম চৌধুরী আরও জানান, অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে পুরো সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি রাখা হয়েছে অরাজনৈতিক।
নিরাপত্তা জোরদার :
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর সফর ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। মাজার জিয়ারত ও নাগরিক সংবর্ধনাকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাষ্ট্রপতির সফর নির্বিঘ্ন করতে মাঠে থাকছে মহানগর পুলিশের (এসএমপি) বিপুলসংখ্যক সদস্যসহ র্যাব, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। সফরকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা।
এসএমপির সুত্রে জানায়, রাষ্ট্রপতির সফর নির্বিঘ্ন করতে এসএমপির বিশেষায়িত চারটি টিম কাজ করবে। এর মধ্যে রয়েছে সিআরটি, বোমা ডিসপোজাল, ড্রোন ও স্ট্রাইকিং টিম। পাশাপাশি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও রাষ্ট্রপতির চলাচলের রুটে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। জানা গেছে, নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপ‚র্ণ পয়েন্টে স্থাপিত ১০৮টি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে সড়কের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি ও নজরদারি চালানো হচ্ছে। বিশেষ নিরাপত্তার আওতায় রাখা হয়েছে সিটি কর্পোরেশনের সংবর্ধনাস্থল, বিমানবন্দর সড়ক, হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার এলাকা, শাহপরান (রহ.) মাজার এলাকা ও সার্কিট হাউসসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো। রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও বিশেষ চিকিৎসা ও জরুরি ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অপরদিকে, রাষ্ট্রপতির সফরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে সোমবার দুপুরে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার পরিদর্শনে যান সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম। এসময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির সফরের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।
সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোনের মাধ্যমে বিশেষ নজরদারি :
নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপ‚র্ণ পয়েন্টে স্থাপিত ১০৮টি সিসিটিভি ক্যামেরায় নজরদারির পাশাপাশি উপর থেকে ড্রোনের মাধ্যমে বিশেষ নজরদারি করা হবে।
রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে সড়কের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি ও নজরদারি চালানো হচ্ছে। বিশেষ নিরাপত্তার আওতায় রাখা হয়েছে সিটি কর্পোরেশনের সংবর্ধনাস্থল, বিমানবন্দর সড়ক, হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার এলাকা, শাহপরান (রহ.) মাজার এলাকা ও সার্কিট হাউসসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো। রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও বিশেষ চিকিৎসা ও জরুরি ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
শাহজালাল (রহ.) মাজার এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিদর্শনে পুলিশ কমিশনার :
রাষ্ট্রপতির সফরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে সোমবার দুপুরে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার পরিদর্শনে যান সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম। এসময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির সফরের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।
অপরদিকে, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম। সোমবার সকাল পৌণে ১১টায় ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন সিলেটের পুলিশ কমিশনার। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করেন তিনি। পরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সারোয়ার মুর্শেদ শামীম সিলেট সিটি কর্পোরেশন প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি রাষ্ট্রপতির নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মঞ্চস্থল ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখেন। এ সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন পুলিশের ওই কর্মকর্তা। পরিদর্শনকালে এসএমপির বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তাসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এসএসএফের সঙ্গে এসএমপি, জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের সমন্বয় সভার নির্দেশনা অনুযায়ী নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালন করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করবে র্যাব, বিজিবি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাও। রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে এসএমপির প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বে থাকবেন প্রায় দুই হাজার ট্রাফিক পুলিশ। হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজারসহ সিটি করপোরেশন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করবেন সাদা পোশাকের সদস্যরাও। নিরাপত্তার পাশাপাশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে নগরের যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়েও। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে থাকবে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা। সবকিছু মিলিয়ে রাষ্ট্রপতির সফরকে নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন এসএমপি কমিশনার। মঙ্গলবার সকালে সিলেট আসবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর হযরত শাহজালাল ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে সিলেট সিটি করপোরেশনের আয়োজনে নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতির।
-
গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিল, ৩২ জনকে গ্রেপ্তারের দাবি পুলিশের
-
প্রবাসীদের পাসপোর্ট-এনআইডি সেবা সহজ করতে সরকারের নতুন উদ্যোগ
-
বাংলাদেশে গরুর মাংস খেয়ে কলকাতায় তোপের মুখে স্বনামধন্য অভিনেতা
-
একনেকে উঠছে এমআরটি-৫ দক্ষিণাঞ্চলীয় রুট, ব্যয় ৪৫ হাজার কোটি টাকা
-
ব্যাগেজ হ্যান্ডলিংয়ে সময় কমানো, লাইভ মনিটরিং স্ক্রিন স্থাপনের নির্দেশ বিমানমন্ত্রীর