মিষ্টি খাবার কম খেলেই যে মিষ্টির প্রতি লোভ কমে যাবে কিংবা স্বাস্থ্য ভালো হবে-এমন প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে ছয় মাসব্যাপী পরিচালিত এক নতুন গবেষণা। যুক্তরাজ্যের বোর্নমাউথ ইউনিভার্সিটি ও নেদারল্যান্ডসের ভাখেনিঙেন ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড রিসার্চের যৌথ এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন-এ। গত ৮ আগস্ট গবেষণাটি প্রকাশ করে বোর্নমাউথ ইউনিভার্সিটি।
গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চ, নিম্ন কিংবা গড় মাত্রার মিষ্টি-স্বাদযুক্ত খাবার গ্রহণকারী তিনটি দলের মধ্যে মিষ্টির প্রতি পছন্দ, শরীরের ওজন কিংবা ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ সম্পর্কিত ঝুঁকির নির্দেশকগুলোতে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য পাওয়া যায়নি। গবেষণা শেষে অনেক অংশগ্রহণকারী নিজে থেকেই আগের খাদ্যাভ্যাসে ফিরে যান।
১৮০ জনের ওপর গবেষণা
গবেষকরা ১৮০ জন অংশগ্রহণকারীকে তিনটি দলে ভাগ করেন। একটি দলকে উচ্চ মাত্রার মিষ্টি খাবার, আরেকটি দলকে কম মাত্রার এবং তৃতীয় দলকে গড় মাত্রার মিষ্টি খাবার দেওয়া হয়। এসব খাবারের মিষ্টি স্বাদ এসেছিল চিনি, প্রাকৃতিক উপাদান এবং কম-ক্যালরিযুক্ত সুইটেনার-এই তিন উৎস থেকে।
এক মাস, তিন মাস ও ছয় মাস পরপর অংশগ্রহণকারীদের মিষ্টি খাবারের প্রতি পছন্দ ও মিষ্টতার অনুভূতি পরিমাপ করা হয়। পাশাপাশি শরীরের ওজন এবং রক্ত ও প্রস্রাবের নমুনা পরীক্ষা করে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ সম্পর্কিত ঝুঁকির নির্দেশকও পর্যবেক্ষণ করা হয়। ছয় মাস শেষে তিনটি দলের মধ্যে কোনো পরিমাপেই উল্লেখযোগ্য পার্থক্য মেলেনি।
"মিষ্টত্ব নয়, লক্ষ্য হওয়া উচিত চিনি": গবেষক
গবেষণার মূল লেখক ও বোর্নমাউথ ইউনিভার্সিটির সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ক্যাথরিন অ্যাপলটন বলেন, মানুষের মিষ্টি স্বাদের প্রতি স্বাভাবিক আকর্ষণ থাকার কারণেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ (ডব্লিউএইচও) বিভিন্ন সংস্থা খাদ্যতালিকা থেকে মিষ্টত্ব কমানোর পরামর্শ দিয়ে থাকে। তবে তাদের গবেষণার ফলাফল এই পরামর্শকে সমর্থন করে না, কারণ এতে বিবেচনা করা হয় না যে মিষ্টি স্বাদটি চিনি, কম-ক্যালরি সুইটেনার নাকি প্রাকৃতিক উৎস থেকে আসছে।
তিনি আরও বলেন, স্থূলতা কমানোর জন্য মিষ্টি খাবার কম খাওয়া মূল বিষয় নয়; বরং স্বাস্থ্য ঝুঁকি সম্পর্কিত হলো চিনি গ্রহণের পরিমাণ। কিছু ফাস্ট ফুড খেতে মিষ্টি না লাগলেও তাতে উচ্চমাত্রার চিনি থাকতে পারে। অন্যদিকে তাজা ফল বা দুগ্ধজাত পণ্যের মতো প্রাকৃতিকভাবে মিষ্টি খাবার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। তার মতে, জনস্বাস্থ্য পরামর্শে মনোযোগ দেওয়া উচিত মানুষ কীভাবে চিনি ও উচ্চ-ক্যালরিযুক্ত খাবার গ্রহণ কমাতে পারে, সে বিষয়ে-কেবল মিষ্টত্বের ওপর নয়।
গবেষকদের মতে, উচ্চ-ক্যালরিযুক্ত খাবারে অল্প পরিমাণেই তুলনামূলক বেশি ক্যালরি থাকে, আর অনেক প্রক্রিয়াজাত খাবার এই শ্রেণিতে পড়ে কারণ সেগুলোতে অতিরিক্ত চিনি, চর্বি বা উভয়ই থাকতে পারে।
গবেষণা দলের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শুধু মিষ্টি স্বাদযুক্ত খাবারের সংস্পর্শ কমিয়ে দিলেই মানুষের খাদ্যাভ্যাস বা স্বাস্থ্য সূচকে বড় পরিবর্তন আসে না। বরং খাদ্যতালিকা সংক্রান্ত পরামর্শে খাবারের পুষ্টিগুণ, বিশেষ করে চিনি ও ক্যালরির
পরিমাণের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
সূত্র: বোর্নমাউথ ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন