সিলেট মহানগরীর রায়নগর রাজবাড়ি এলাকায় এক বাসায় স্বামী-স্ত্রী ও তাদের গৃহপরিচারিকাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে মিতালি আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ধারণা করছে, ডাকাতি অথবা পারিবারিক পূর্ববিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
নিহতদের পরিচয়
নিহতরা হলেন বাসার মালিক মো. আব্দুস সাত্তার (৮২), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহপরিচারিকা তাহমিনা (২৫)। আব্দুস সাত্তারের গ্রামের বাড়ি বিয়ানীবাজারের আকাখাজনা এলাকায়। তিনি রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার একজন প্রবীণ ও পরিচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন এবং অতীতে ব্যবসায়ী নেতা হিসেবেও পরিচিতি ছিল তাঁর। এলাকায় তিনতলা দুটি বাসার মালিক ছিলেন তিনি, যার একটির দ্বিতীয় তলায় স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকাসহ বসবাস করতেন। বাকি ফ্লোরগুলোতে ভাড়াটিয়ারা থাকতেন।
আব্দুস সাত্তারের তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছেন। এক ছেলে ও এক মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এবং দুই মেয়ে যুক্তরাজ্যে থাকেন। বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন বলে জানা গেছে।
যেভাবে ঘটনা জানাজানি হয়
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ঘটনার দিন সকাল ৯টার দিকে ওই এলাকায় বিদ্যুতের লোডশেডিং চলছিল এবং অনেক বাসিন্দা তখনো ঘুমিয়ে ছিলেন। এসময় সাত্তারের বাসা থেকে চিৎকারের শব্দ শোনা গেলেও প্রতিবেশীরা ধারণা করেন, অসুস্থতার কারণে হয়তো তিনি বিছানা থেকে পড়ে গেছেন-তাই তাৎক্ষণিকভাবে কেউ এগিয়ে যাননি।
পরে সকাল ১০টার দিকে বাসার রঙের কাজের জন্য আসা একজন মিস্ত্রি দরজায় ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাননি। এরপর পাশের ভবনের এক ভাড়াটিয়া লক্ষ্য করেন, দরজার নিচ দিয়ে বারান্দায় রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা জড়ো হন এবং পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রধান দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনাস্থলের চিত্র
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, বাসার একটি কক্ষে আব্দুস সাত্তারের এবং অপর একটি কক্ষে সুরাইয়া বেগম ও তাহমিনার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে ছিল। বাসার দক্ষিণ পাশের একটি দরজা দিয়ে ঘাতকরা পালিয়ে যায় বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং দোতলা থেকে নামার সিঁড়িতেও রক্তের দাগ পাওয়া গেছে।
পুলিশের বক্তব্য
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ তিনটি মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং প্রাথমিকভাবে ডাকাতি বা পারিবারিক পূর্ববিরোধকেই এই হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। বাসার ভেতরে আলমিরা ও ওয়্যারড্রব তছনছ অবস্থায় পাওয়া গেছে, যার মধ্যে একটি দলিলও উদ্ধার হয়েছে। পুলিশের ধারণা, বাসা থেকে স্বর্ণালঙ্কার বা মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া গেছে।
পুলিশের সিআইডি, পিবিআই ও স্পেশাল টিম যৌথভাবে অপরাধস্থল সংরক্ষণ ও তদন্তের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পুলিশ কমিশনার।
সূত্র: স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী, প্রতিবেশী ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের বরাতে সংগৃহীত তথ্য