এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্কুলজীবনের গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষায় মোট পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে, যা মোট উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ।
গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট। একই সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।
উল্লেখ্য, গত বছর পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন।
অংশগ্রহণ ও পরীক্ষার সময়সূচি
এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী। পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল এবং এসএসসির তত্ত্বীয় অংশ শেষ হয় ২০ মে। দাখিল ও ভোকেশনাল শাখার তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হয় ২৪ মে।
তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হওয়ার দুই মাসের মধ্যে ফল প্রকাশের প্রচলিত ধারা থাকলেও এবার সেই সময়সীমা অনুসরণ করা সম্ভব হয়নি।
অবশেষে সোমবার সকাল ১০টায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ড একযোগে ফল প্রকাশ করে। সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট এবং মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে পারছে।
বোর্ডভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ
১১টি শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে নয়টি সাধারণ বোর্ডে পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। মাদ্রাসা বোর্ডে পাস করেছে ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং কারিগরি বোর্ডে পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ।
২০২১ সালে দেশে সর্বোচ্চ ৯৩ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী এসএসসি পাস করেছিল। আর ২০০৭ সালের পর এ বছরই পাসের হার সবচেয়ে কম; ওই বছর পাসের হার ছিল ৫৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
মেয়েরা এগিয়ে, জিপিএ-৫-তেও শীর্ষে
এবারও ফলাফলে মেয়েদের সাফল্য চোখে পড়ার মতো। ছাত্রদের পাসের হার যেখানে ৫৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ, সেখানে ছাত্রীদের পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
মোট ৯ লাখ ১৭ হাজার ৬৯৪ জন ছাত্র পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৫ লাখ ৩০ হাজার ৯৩৮ জন পাস করেছে। অন্যদিকে ৯ লাখ ১১ হাজার ৭৯১ জন ছাত্রী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৬ লাখ ৭ হাজার ৯৩৯ জন।
পূর্ণাঙ্গ জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬৩ হাজার ৮৯৬ জন ছাত্রী এবং ৫২ হাজার ৭৮০ জন ছাত্র।