শ্রেণিকক্ষ ও শ্রেণিকক্ষের বাইরে ‘অশিক্ষকসুলভ আচরণ’ এবং ‘নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধের’ অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাদেকা হালিমকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভিন্ন অভিযোগে আরও দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে যাদের বাদ দেওয়া হচ্ছে তারা আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। মূলত রাজনৈতিক কারণেই তাদের বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।
বরখাস্ত হওয়া অন্য দুই শিক্ষক হলেন—নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম এবং অধ্যাপক আফরোজা শেলী।
এছাড়া, একজন শিক্ষককে বিভাগের চেয়ারম্যানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি এবং আরও তিনজন শিক্ষককে সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট।
এই তিন শিক্ষক হলেন—ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আবু সারা শামসুর রউফ, শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম (রফিক শাহরিয়ার) এবং ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন।
গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। এ সংক্রান্ত তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
সাদেকা হালিমসহ তিনজন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আবদুস সালাম কে বলেন, যাদেরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আলাদা আলাদা অভিযোগ রয়েছে এবং পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রথমে তথ্য অনুসন্ধান কমিটি এবং পরে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ট্রাইবুন্যাল গঠন করা হবে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তারা অব্যাহতি পাবেন।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “সিন্ডিকেট সভায় শ্রেণিকক্ষ ও শ্রেণিকক্ষের বাইরে অশিক্ষকসুলভ আচরণ, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধসহ বিভিন্ন অভিযোগে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।”
অন্য দুই শিক্ষকের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “এছাড়া বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ এবং তথ্যানুসন্ধান কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম এবং অধ্যাপক ড. আফরোজা শেলীকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।”
এছাড়া সিন্ডিকেট সভায় জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা পরিপন্থি কার্যক্রমের অভিযোগে আরও তিন শিক্ষককে একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সভায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা পরিপন্থি কার্যক্রম, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও সরকার বিরোধী অপপ্রচার এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ ও হুমকি প্রদানের অভিযোগে ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মুহিতকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে।”
একই অভিযোগে ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আবু সারা শামসুর রউফ এবং শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
অপরদিকে, বিভাগের ‘নানাবিধ অনিয়ম’ এবং ‘এমফিল ও পিএইচডি থিসিসের মধ্যে সাদৃশ্যমূলক চৌর্যবৃত্তির অভিযোগে’ ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।