শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
সৃজনের আলোয় মুস্তাফিজ শফি, লন্ডনে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা  » «   বৃটেনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তাহমিনার অসাধারণ সাফল্য  » «   দুই বঙ্গকন্যা ব্রিটিশ মন্ত্রীসভায় স্থান পাওয়ায় বঙ্গবন্ধু লেখক এবং সাংবাদিক ফোরামের আনন্দ সভা ও মিষ্টি বিতরণ  » «   কেয়ার হোমের লাইসেন্স বাতিলের বিরুদ্ধে আইনী লড়াইয়ে ল’ম্যাটিক সলিসিটর্সের সাফল্য  » «   যুক্তরাজ্যে আবারও চার ব্রিটিশ-বাংলাদেশী  পার্লামেন্টে  » «   আমি লুলা গাঙ্গ : আমার আর্তনাদ কেউ  কী শুনবেন?  » «   বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে লন্ডনে ইউনিভার্সেল ভয়েস ফর হিউম্যান রাইটসের সেমিনার অনুষ্ঠিত  » «   লন্ডনে বাংলা কবিতা উৎসব ৭ জুলাই  » «   হ্যাকনি সাউথ ও শর্ডিচ আসনে এমপি প্রার্থী শাহেদ হোসাইন  » «   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকে’র সাথে ঢাবি ভিসি প্রফেসর ড. এএসএম মাকসুদ কামালের মতবিনিময়  » «   মানুষের মৃত্যূ -পূর্ববর্তী শেষ দিনগুলোর প্রস্তুতি যেমন হওয়া উচিত  » «   ব্যারিস্টার সায়েফ উদ্দিন খালেদ টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নতুন স্পীকার নির্বাচিত  » «   কানাডায় সিলেটের  কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলমকে সংবর্ধনা ও আশার আলো  » «   টাওয়ার হ্যামলেটসের নতুন লেজার সার্ভিস ‘বি ওয়েল’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন মেয়র লুৎফুর রহমান  » «   প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী এমপির সাথে বিসিএর মতবিনিময়  » «  
সাবস্ক্রাইব করুন
পেইজে লাইক দিন

মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী : শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

দুই হাজার চার সালে তাঁর  সাথে প্রথম দেখা ইস্ট লন্ডনে সাপ্তাহিক সুরমা অফিসে। অগ্রজপ্রতীম কবি ওয়ালী মাহমুদের সাথে গিয়েছিলাম। বিলেতে আসার পর অনেক প্রিয় কিছু বাদ বা ছাড় দিতে হয়েছে। কিন্তু সৃজনশীল লেখালেখির অভ্যাসটি ধরে রেখেছি।

সাপ্তাহিক সুরমায় প্রকাশিত কয়েকটি সংখ্যা  সংগ্রহ এবং সকলের সাথে পরিচিত হওয়ার উদ্দেশ্যে সেদিন সুরমা অফিসে যাওয়া। সেই সময় আমি লন্ডনের বাইরে ওয়েস্ট সাসেক্সের সমুদ্রতীরবর্তী একটি রেস্টুরেন্টে কাজের সুবাদে থাকি। মনে আছে, সেদিন পত্রিকার ডেডলাইন ছিল এবং আমরা গিয়েছিলাম বলা যায় সুরমা প্রিন্টে যাওয়ার ঘন্টা দেড়েক আগে।

সুরমা অফিসে প্রথম এবং তাঁর সাথে দেখাও প্রথম! ডেডলাইনের মহাব্যস্ততার মাঝেও তিনি সম্পাদকীয়  ডেস্ক থেকে উঠে আমাদের চা-বিস্কুট দিয়ে আপ্যায়ন করে খুব আন্তরিকভাবে কথা বলেছেন, আমার সম্পর্কে জেনেছেন। মনে হয়েছে কতদিনের চেনা-জানা আমাদের। মূলত এই সময়ই জানতে পেরেছি  একটু পরেই সুরমা অন্য ঠিকানায় প্রেসে প্রিন্টের জন্য  যাবে। কিন্তু তিনি চা পান করানোর আগে আমাদের বুঝতে দেননি। প্রথম দিনই তার বিনয় এবং স্নেহ-মায়াময় ব্যক্তিত্বে অন্তরে শ্রদ্ধার জায়গা করে নিয়েছিলেন।

তাঁকে অনেকভাবে মূল্যায়ন করা যায়। তবে সবচেয়ে বড় বিষয়টি হচ্ছে- তিনি ছোট-বড় সবাইকে সম্মানের সাথে মূল্যায়ন করেন। ব্যক্তিগতভাবে মানুষের নিডস বুঝতে চেষ্টা করেন এবং সেভাবেই আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেন।

তাঁর আন্তরিক সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণার অনেকগুলো আমি ধারাবাহিকভাবে বলতে পারি। তবে, প্রথমটা সংক্ষেপে বলি- ২০০৮ সালে আমরা সংহতি সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে কুইনমেরী ইউনির্ভাসিটির মেনস থিয়েটার হলে কবিতা উৎসব আয়োজন করলে সাপ্তাহিক সুরমা সানন্দে তাদের পরিপাটি মিডিয়া প্রতিষ্ঠানে সাহিত্য আড্ডা ও মতবিনিময়ের জন্য সংহতিকে সুযোগ করে দেয়। বিনে পয়সায় এরকম একটি স্থান পাওয়া আমাদের জন্য ছিল- মেঘ না চাইতে বৃষ্টির মতো! যেখানে তাঁর অগ্রণী ভূমিকা যেমন ছিল, তেমনি উৎসব ঘিরে নানা আয়োজনে তার সরাসরি সহযোগিতা পেয়েছি। কবিতা উৎসবকে সামনে রেখে সুরমা বিশেষ সাহিত্য সংখ্যাও প্রকাশ করে।

খ.

দুই হাজার দুই সাল থেকে বৃটেনে নিয়মিত সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি সংবাদকর্মী হিসাবেও সক্রিয় আছি। কিন্তু লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবে সদস্য পদের জন্য সকল নিয়ম মেনে আবেদন করেও অজানা কারণে দুই টার্ম আমার আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়। বহুদিন পরে, প্রয়াত শ্রদ্ধেয় ইসহাক কাজল ভাইয়ের কাছ থেকে জেনেছিলাম, তিনি জেনেছেন- ‘আমি নাকি স্রোতের উল্টো চলি। তাই প্রেসক্লাবে গ্রুপভিত্তিক ভোটের অন্যতম নিয়ন্ত্রক ঐ লীডারের মনোপুত হতে পারিনি।’

তবে অত্যন্ত স্পস্টবাদি, সৎসাহসী প্রয়াত শ্রদ্ধেয় ইসহাক কাজল ভাই আমাকে সাহস দিয়েছিলেন। মূলত তিনিই আমাকে তৃতীয়বার সদস্যপদে আবেদন করতে বলেন এবং না পেলে পলিসিগতভাবে কিভাবে চ্যালেঞ্জ করবো- সেটাও বলে দেন। খোদাকে ধন্যবাদ, ভোটব্যাংকের কথিত অগ্রজ তৃতীয়বার আমাকে অন্তত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবার পরিস্থিতিতে ফেলে দেননি!

প্রথমবার সদস্য হয়ে লণ্ডন বাংলা প্রেসক্লাব নির্বাচনে আমি অবশ্যই মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরীকে আমার প্রথম পবিত্র ভোটটি দেই, যিনি প্রথম সাক্ষাতে তাঁর অনন্য ব্যক্তিত্ব দিয়ে আমার মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন।

প্রেসক্লাবের নির্বাচনে আমার প্রথম ভোট দিতে গিয়েও মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরীর নিকট থেকে ব্যক্তিগতভাবে শিষ্টাচার ও বিনয় প্রকাশ শিখেছি- তিনি আমার ডাকযোগে পাঠানো হাতে লেখা প্রবন্ধ- নিবন্ধ টাইপ করিয়ে পরে এডিট করে সাপ্তাহিক সুরমা ও সাপ্তাহিক বাংলা এক্সপ্রেসে প্রকাশের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে কিংবা সংহতির কবিতা উৎসবে কবি-লেখকদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা দানের ঋণ মনে করিয়ে দিয়ে ভোট চাননি। নিজেকে কথার ম্যারপ্যাচে অগ্রজ হিসাবে তুলে ধরেননি। বলেছেন- ‘‘অভি, তুমি যদি প্রেসক্লাবের প্রেসিডেন্ট হিসাবে আমাকে যোগ্য মনে করো তাহলে ভোটটি আমাকে দিও।‘’

ছাপাখানার ভূতের দোষ না দিয়ে নিজের অক্ষমতার কথা বলি- লেখালেখিতে আমার তুলনামূলক বেশী ভুল হয়। ব্যক্তিগত যোগ্যতার বিচারে সম্পাদনার মতো অত্যন্ত প্রজ্ঞা ও দূরপ্রসারী চিন্তা নিয়ে মৌলিক বিষয়ে কাজে আমি সে অর্থে এখনও যোগ্য হয়ে উঠতে পারিনি। তবে বোধের শুদ্ধতা নিয়ে বলতে পারি- এই বিলেতে আমার দৃশ্যমান কোন ভুল চোখে পড়লে একমাত্র মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী সুনির্দিষ্টভাবে ভুলটি ধরিয়ে দিয়ে সংশোধনীটি ওয়াটসআপে ম্যাসেজ করে ব্যক্তিগতভাবে জানিয়ে দেন। এবং এই কাজটি তিনি কোনদিনই ছড়ি ঘোরানো শিক্ষকের মতো করেন না। সেখানে থাকে প্রেরণা ও জ্ঞানের সমন্বিত অমায়িক ব্যবহার।

গ.

এমদাদুল হক চৌধুরীর কিছু গুণকে আমি ধারণ করতে চেষ্টা করি। সংক্ষেপে তিনটি উল্লেখ করতে ইচ্ছে হচ্ছে। এক. তার কথায় তথ্যভিত্তিক যুক্তি যেমন থাকে তেমনি কাজটি কেন করা ‘ভালো হবে‘ বা ‘হবে না‘-এর একটি উপসংহারও থাকে। এবং এসব বিষয়ে তার মাঝে আমিত্ব প্রকাশ পায় না।

দুই. কমিউনিটি এবং মূলধারার বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে যেমন চর্চিত জ্ঞান রাখেন তেমনি  বৃটেনের ডাইভার্স কমিউনিটিতে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হিসাবে তার একটি ঈর্ষণীয় গ্রহণযোগ্যতা আছে। ব্যক্তিস্বার্থে মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরীর কলম ও বিবেক যে বিক্রি হয়নি- তাঁর লীডারশীপের নানা কাজে বিরোধী মতাবলম্বী ও হিংসুকদের অনেককেও তা আড়ালে স্বীকার করতে দেখেছি।

তিন. তিনি মানুষকে সম্মান করেন। সে হোক তার চিরচেনা কিংবা আঠার মতো লেগে থাকা শত্রু কিংবা মতের বিরোধী অগ্রজ-অনুজপ্রতীম অথবা হিংসায় দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য থাকা কেউ। যুক্তিতে হারলেও তার ব্যবহার, বডি ল্যাংগুয়েজে ব্যক্তিত্বময় বিনয়ী হিসাবেই আমরা তাকে পাই। বিশেষ করে লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে আমরা তাকে এভাবেই দেখেছি। লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের  এজিএম, বিজিএম এবং নির্বাচনে নিজের এবং নিজ এলায়েনসের জন্য ভোট চাইতে কিংবা যে কোন আলোচনা-সমালোচনায় তাঁর নেতৃত্ব, ধীমান চিন্তা, হাস্যজ্জ্বল হার্দিক ব্যবহার যে কোন মানুষকে কাছে টানে।

তিনি বাংলাদেশের বাইরে বাংলাভাষী গণমাধ্যমকর্মীদের  প্রাচীন ও সর্ববৃহৎ সংগঠন লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের কনিষ্ঠতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের দুইবারের নির্বাচিত সভাপতির গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী।

গত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জুবায়ের-তাইছির-সালেহ নেতৃত্বাধীন নবনির্বাচিত কমিটির হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন। বিদায়বেলা তাঁর সম্পর্কে সহকর্মীদের বক্তব্য ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে অনেক মূল্যবান। কারণ, একটি বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের কার্যকরি কমিটির সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অভিভাবকতুল্য মূল্যায়ন এবং ব্যক্তি এমদাদুল হক সম্পর্কে তাদের অন্তরে লালন করা শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রকাশ মূলত দায়িত্ব থেকে বিদায় বেলায় তাকে আরও উজ্জ্বলভাবে প্রকাশ করেছে।

ক্ষুদ্র আয়ুস্কালের এই জীবনে এরকম নিখাদ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ও কাজের স্বীকৃতি আসলে কতজন পায়?

পরম শ্রদ্ধা মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী।

আ নো য়া রু ল  ই স লা ম  অ ভি, কবি ,সাংবাদিক । লন্ডন

৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

 

আরও পড়ুন-

 ডোন্ট গেট ওল্ড


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

"এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত ও লেখার দায় লেখকের একান্তই নিজস্ব " -সম্পাদক