বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
জীবন যেখানে দ্রোহের প্রতিশব্দ মৃত্যু সেখানেই শেষ কথা নয়..  » «   শিল্প উদ্যোক্তা ও ক্রীড়া সংগঠক মো: জিল্লুর রাহমানকে  লন্ডনে সংবর্ধনা  » «   ঈদের সামাজিক গুরুত্ব ও বিলাতে ঈদের ছুটি   » «   ব্রিটেনে ঈদের ছুটি  প্রসঙ্গে  » «   হজের খুতবা বঙ্গানুবাদ করবেন মাওলানা শোয়াইব রশীদ ও মাওলানা খলিলুর রহমান  » «   হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু, তাবুর শহর মিনায় হাজিরা  » «   ঈদের ছুটি : আমাদের কমিউনিটিতে সবার আগে শুরু হোক  » «   ঈদের দিনে বিলেত প্রবাসীদের মনোবেদনা  » «   বিলেতে ঈদ উৎসব এবং বাঙ্গালী কমিউনিটির অন্তর্জ্বালা  » «   জলঢুপে বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতালের ভ্রাম্যমান কেম্প  » «   তিলপাড়ায় বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতালের ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল ক্যাম্প  » «   করিমগঞ্জ দিবস  » «   ঈদের ছুটি চাই : একটি সমন্বিত উদ্যোগ অগণিত পরিবারে হাসি ফুটাতে পারে  » «   ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল তিন বন্ধুর  » «   বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতালের বিনামূল্যে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল ক্যাম্প  » «  
সাবস্ক্রাইব করুন
পেইজে লাইক দিন


ব্রিটেন প্রবাসে ঈদ ছুটি নিয়ে ভাবনা ও আমাদের করণীয়
সৈয়দ আফসার উদ্দিন



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

অধুনা “যুক্তরাজ্যে ঈদের ছুটি চাই” শিরোনামে ৫২ বাংলা ও সাপ্তাহিক পত্রিকা জাতীয় পর্যায়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। ব্রিটেনের মতো মাল্টিকালচারাল সোসাইটিতে সব ধর্মের মানুষ ধর্মীয় উৎসবের দিন কাজে না গিয়ে বাড়িতে আপনজনদের সঙ্গে সময় কাটাবেন এটাইতো স্বাভাবিক, তাই না? কিন্তু ব্রিটেনে ক্রিস্টিয়ানিটি ব্যতীত অন্য সব ধর্মের বিশেষ দিনগুলোতে সরকারি ছুটি এখনও ঘোষণা করতে শুনিনি। ক্রিসমাসের সময় কোনো কোনো পেশায় দুই সপ্তাহ, আবার কোনো পেশায় এক সপ্তাহ বা আট থেকে দশদিন সরকারি ছুটি বরাদ্দ করা থাকে। ২০১১ সালের একটি জরিপ অনুযায়ী, এদেশের প্রধান ধর্ম ক্রিস্টিয়ানিটি (৫৯.৫%), তাই দীর্ঘ ছুটি ন্যায় সঙ্গত বটে! দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইসলাম ধর্ম(৪.৪%). এর পরেই রয়েছে যথাক্রমে হিন্দুইজম (১.৩%), সিখিজম (০.৭%), জুডেইজম(০.৪%) ও বুড্ডিজমের(০.৪) স্থান।

অথচ বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম প্রধান দেশে খ্রিষ্টান ধর্মের মানুষের সংখ্যা শতকরা ২ ভাগের কম এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে শতকরা ১ ভাগের কম হওয়া সত্ত্বেও সেসব দেশে ক্রিসমাসের দিনটি সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয়ে আসছে যুগের পর যুগ ধরে । ব্রিটেন নিজেদের বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় মাল্টিকালচারাল দেশ বলে পরিচয় দিয়ে গর্ব অনুভব করে থাকে, ইকুয়ালিটি আর ডাইভার্সিটির কথা বলে লম্ফঝম্ফ করে, হিউমান রাইট্স এর বুলি আওড়ায়, তথাপি এদেশে ঈদ, দিওয়ালি কিংবা বৌদ্ধ পূর্ণিমার জন্য এখনও সরকারি ছুটি ঘোষণা করার কোনো ধরণের আভাস বা ইঙ্গিত পরিলক্ষিত হয়নি। তাহলে প্রশ্ন জাগে কেনো এহেন বৈষম্য? আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এর অন্যতম কারণ হলো- প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবাদ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অভাব, শিক্ষার দৈন্যতা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতাদের ব্যর্থতা, তথাকথিত কমিউনিটি লিডারদের অপরিপক্ক দূরদর্শিতা এবং সর্বোপরি সংখ্যালঘু ধর্মীয় গ্রূপগুলোর মাঝে ঐক্যের অনটন।

আমার ধারণা ব্রিটেনে ঈদ উপলক্ষ্যে সরকারি ছুটি আদায় করা সহজ হবে না। কারণ ব্রিটেনসহ পশ্চিমা দেশগুলোতে এক ধরণের মুসলিম বিদ্বেষী মনোভাব কাজ করে থাকে। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, সিরিয়া, আফগানিস্তান, ইরাক যুদ্ধে সাধারণ মানুষদের বিশেষ করে যুদ্ধাহত নারী – শিশুদের পাশে তাদের অবস্থান আর চলমান রাশিয়া – ইউক্রেন যুদ্ধে যুদ্ধাহত ইউক্রেনবাসীর প্রতি তাদের সহাবস্থানই চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে তারা কতখানি মুসলিম বিদ্বেষ্টা! তাই ৫২ বাংলা ও সাপ্তাহিক পত্রিকার কর্তা ব্যক্তিদের প্রতি অনুরোধ থাকবে আপনাদের এই সামাজিক আন্দোলনে দল ভারী করে সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করতে অন্যদের যুক্ত করুন। যেমন মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন, ইস্ট লন্ডন মস্ক, রিজেন্টস পার্ক মস্ক, কাউন্সিল অব মস্কস- টাওয়ার হ্যামলেটস্ । এছাড়া মুসলিম ধর্ম গুরুদের পাশাপাশি হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, ইহুদি ধর্ম গুরু – এদের সবাইকে এককাট্টা করুন। তবেই আপনাদের আন্দোলন আরো বেগবান হবে। দ্রুত সরকারের টনক নড়তে পারে। কারণ অতীতে দেখেছি প্রায় সোয়া লাখ মানুষ অনলাইন পিটিশনে স্বাক্ষর করেও ঈদ ও দিওয়ালির জন্য সরকারি ছুটি আদায়ে ব্যর্থ হয়েছিলেন। ২০১৩ সালের কোয়ালিশন সরকার সরকারি ছুটি ঘোষণা করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন।

সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করার আগে বাঙালি ও মুসলিম মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহের মালিকদের রাজী করাতে হবে, যাতে করে তারা ঈদের দিন তাদের কর্মীদের খুশির কথা মাথায় রেখে অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেন। বিশেষ করে রেস্টুরেন্ট মালিকদের উচিত ঈদের দিন ছুটি ঘোষণা করা। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো কারী শিল্পে ঈদ উপলক্ষ্যে রেস্টুরেন্ট বন্ধ রাখার কালচার এখনও গড়ে উঠেনি। জানা যায় এই শিল্পের প্রায় ৯৫ ভাগ কর্মী মুসলিম। ফলে এসব দুর্ভাগ্যবান কর্মী তাদের পরিবারের সাথে ঈদ আনন্দে অংশ নিতে পারেন না। এদিন স্ত্রীদের যেমনি স্বামীর দেখা মেলে না , তেমনি সন্তানরা বছরের প্রধান ধর্মীয় উৎসবের দিন বাবার স্নেহ , মায়া , মমতা, আদর থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকে। কর্মীদের ভিসার জটিলতা, ওয়ার্কার ইউনিয়ন এর সাথে সম্পর্ক না থাকা, নিয়োগের চুক্তি পত্র না থাকায় অধিকাংশ রেস্টুরেন্ট কর্মী মালিক পক্ষের সঙ্গে দরকষাকষি করতে পারেন না। আর মালিক পক্ষ এ সুযোগটিকে কাজে লাগিয়েই ঈদের ছুটি দেয়া থেকে নিজেদের বিরত রাখেন। সরকার সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় উৎসবের দিন ছুটি ঘোষণা করলে আর্থিক ক্ষতির অজুহাত দেখাতে পারেন। ঠিক তেমনি রেস্টুরেন্ট মালিকরা একই সুরে কথা বলতে পারেন। আমার প্রশ্ন ক্রিসমাসের সময় যখন প্রায় সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে, তখন সরকার বা রেস্টুরেন্ট মালিকরা কিভাবে তাদের আর্থিক ক্ষতিকে পুষিয়ে নেন? আসলে সরকার এবং রেস্টুরেন্ট মালিকদের সদিচ্ছাই পারে বর্তমানের চিত্রকে বদলে দিতে। মুসলিম কর্মীদের মুখে হাসি ফোটাতে।

৫২ বাংলা ও সাপ্তাহিক পত্রিকার উচিত হবে বাংলাদেশি, ভারতীয় ও পাকিস্তানী বংশোদ্ভূত এমপিদের শরণাপন্ন হয়ে ঈদসহ দিওয়ালি ও অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবের দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করার উদ্দেশ্যে পার্লামেন্টে কথা বলার জন্য তাঁদের উদ্বুদ্ধ করা। বেশ ক’বছর ধরে ট্রাফালগার স্কোয়ারে লন্ডন মেয়রের পক্ষ থেকে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। আসন্ন ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে মঞ্চে উঠে সরকারিভাবে ঈদ উপলক্ষে বছরে দুই দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করার দাবীর কথা উচ্চকণ্ঠে ব্রিটেনবাসীকে জানান দিতে হবে। লন্ডন মেয়র একজন মুসলিম। তাঁর উপর চাপ দিতে হবে যেনো তিনি সরকারের সাথে এ নিয়ে সিরিয়াসলি কথা বলেন। প্রয়োজনে দশ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে গিয়ে প্রধান মন্ত্রী বরাবর চিঠি দেয়া যেতে পারে। আমাদের জীবদ্দশায় ব্রিটেন প্রবাসে ঈদ উপলক্ষ্যে সরকারি ছুটি দেখে যেতে পারবো কিনা জানিনা। তবে আমরা আশায় বুক বাঁধতে পারি। ৫২ বাংলা ও সাপ্তাহিক পত্রিকা তাদের সামাজিক আন্দোলনে সফলতার মুখ একদিন দেখবেই। আমরা আছি, থাকবো আপনাদের পাশে। আগাম অভিনন্দন রইলো আন্দোলনকারীদের জন্য।

লেখক: শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, কলামিস্ট ও কমিউনিটি কর্মী। এম বি ই, এফআর এস এ, এফ আর এ এস।


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন