সোমবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
কসবা-খাসা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ইউকের ত্রি-বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত  » «   যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের নারী শিক্ষার্থীদের ভিসা ও দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক বৃত্তি বাড়ানোর আহ্বান  » «   আজিজুর রহমান চৌধুরি স্মারক সম্মাননায় ভূষিত বাংলাদেশের স্থপতি ও লেখক, নাট্যকার শাকুর মজিদ  » «   কেসি সলিসিটর্সের দশক পূর্তি উদযাপন  » «   বঙ্গবন্ধু স্কলারশিপ আন্তর্জাতিক অঙ্গণে বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রতিচ্ছবি  » «   লীলা নাগের স্মৃতি রক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যোগ নেবে  » «   ফুসফুস-ক্যান্সার পরীক্ষার জন্য মাইল এন্ড লেজার সেন্টারে স্থাপন করা হচ্ছে বিশেষ ‘স্ক্রিনিং মেশিন’  » «   অলি-মিঠু-টিপু প্যানেলের পরিচিতি ও ইশতেহার ঘোষণা  » «   ২০ নভেম্বর লন্ডনের রয়েল রিজেন্সিতে ৫ম বেঙ্গলী ওয়েডিং ফেয়ার  » «   একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির যুক্তরাজ্য শাখা গঠিত  » «   টি আলী স্যার ফাউন্ডেশন সম্মাননা পেলেন সিলেটের ২৪গুণী শিক্ষক  » «   নওয়াগ্রাম প্রগতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফুল, ফল ও ঔষধি বৃক্ষরোপণ  » «   আলোকিত মানুষ শিক্ষক মো. সমছুল ইসলাম এর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী  » «   সিলেটের বিয়ানীবাজারে একটি পরিত্যক্ত কূপে তাজা গ্যাসের মজুদ আবিষ্কৃত  » «   বাংলাদেশী কারী  ব্রিটেনের প্রবৃত্তি ও খাবার সংস্কৃতিতে অনন্য  অবদান রাখছে  » «  
সাবস্ক্রাইব করুন
পেইজে লাইক দিন


ব্রিটেনে ঈদের দিন ‘রেষ্টুরেন্ট বন্ধ’ ঘোষণা- হতে পারে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন


ক.
আদিকাল থেকে বিভিন্ন জাতি বা গোত্র তাঁদের ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট, নিজস্ব সংস্কৃতির ভিত্তি মজবুত ও সংস্কৃতির প্রসার ঘটাতে বিভিন্ন দিবস উপলক্ষ করে নির্ধারিত দিনে মিলন মেলা বা উৎসব পালন করে আসছে। এই উৎসব সমাজের যে সমস্ত মানুষ কর্মব্যস্ত অথবা অন্য কোনো কারণে সমাজ বা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে- উৎসব তাঁদের একত্রিত করার সুযোগ করে দেয়। উৎসব একটি জাতির স্বাতন্ত্র্য ও পৃথক পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন ও প্রতীক। উৎসব জাতিগত ঐক্যের চেতনাও সৃষ্টি করে। উৎসব মানে আনন্দ। উৎসবকে সুন্দর ও প্রাণবন্ত করতে খেলাধুলা ও গান বাজনার আয়োজন হয়ে থাকে।
মুসলমানদের জন্য আনন্দ উৎসবের প্রধানতম দিন হলো ঈদের দিন। এই উৎসব শুরু হয় দ্বিতীয় হিজরি অর্থাৎ ৬২৪ খ্রীস্টাব্দ থেকে। তথ্য মতে, আমাদের নবী করিম (সাঃ) যখন মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় যান , তখন জানতে পারেন সেখানে জাহেলি যুগ থেকে দুটি উৎসব পালিত হয়ে আসছে (এক) শরতের পূর্ণিমায় ‘নওরোজ’ (দুই) বসন্তের পূর্ণিমায় ‘মেহেরজান’।
‘রাসুল (সা.) জিজ্ঞাসা করলেন, এই দুই দিন কীসের? মদিনাবাসী সাহাবিরা বললেন, জাহেলি যুগ থেকে আমরা এই দুই দিন খেলাধুলা ও আনন্দ করি। রাসুল (সা.) বললেন, আল্লাহ এই দুই দিনের বদলে তোমাদের নতুন দু’টি উৎসবের দিন দিয়েছেন: ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। (মুসনাদে আহমদ ১৩০৫৮)।

এই বিশেষ দুই দিনে আল্লাহ নির্দেশিত কিছু কর্ম রয়েছে যা পালনের মাধ্যমে বান্দা গুনাহ থেকে নাজাত পাওয়ার নিশ্চয়তা রয়েছে বলে এই দিন মুসলমানদের জন্য আনন্দে দিন। এই দিন জামাতে নামাজ পড়ার সুবাদে সমাজের অন্যদের সাথে দেখা করা, আত্মীয় -স্বজনের খোঁজ খবর নেয়া সহ আত্নীয়- স্বজন একত্রিত হওয়ার মাধ্যমে আনন্দ ফুর্তি করারও তাগিদ রয়েছে।
ঈদ সমস্ত মুসলিম জাহানের জন্য আনন্দের হলেও যে সমস্ত নন মুসলিম দেশে মুসলমানরা অভিবাসী হয়ে আছেন কিংবা চাকরি অথবা অন্য কোনো পেশাগত কারণে বসবাস করছেন, তাঁদের অনেকের জন্য বেদনার। কেউ হয়তো এই নির্ধারিত দিনে চাকরি থেকে ছুটি পাচ্ছেন না অথবা পরিবেশ- পারিপার্শ্বিকতার কারণে ঈদের জামাতে সামিল হতে পারছেন না।
এই রকম প্রতিকুল পরিবেশ- পারিপার্শ্বিকতা অতীতে এই গ্রেট ব্রিটেনেও ছিলো। আমাদের পূর্বপুরুষ যারা একদিন রুটি- রুজির জন্য সাত সমুদ্র তের নদী পাড়ি দিয়ে ব্রিটেনে এসে বিভিন্ন শহরে বসবাস শুরু করেন, তথ্যমতে, সে সময় মুসলিম কমিউনিটির ভিত্তি আজকের মতো এতো মজবুত ছিলনা। বর্তমান সময়ের মতো শহরে শহরে মসজিদ ছিলো না। ব্রিটেনে মুসলিম ইমিগ্রান্ডদের আগমনের শুরুর দিকে অনেকে জানতো না – কখন রমজান মাস শুরু হচ্ছে। কোন দিন পবিত্র ঈদুল ফিতর, কোন দিন ঈদুল আযহা। সঙ্গত কারণে অসংখ্য মুসলমান এই দেশে বছরের পর বছর ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান থেকে বঞ্চিত থেকেছেন। এই বঞ্চিত থাকার মনোবেদনা থেকে নিজেদের মধ্যে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শুরু হয় ক্ষুদ্র পরিসরে ধর্মীয় রীতি -নীতি পালনের প্রচেষ্টা। তাঁদের প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতা এবং মাল্টিকালচারাল ব্রিটেনে সরকারের আন্তরিকতায় এখন ব্রিটেনের বিভিন্ন ছোট-বড় শহর, এমনকি অনেক শহরের নিকটবর্তি স্ট্রিটগুলোতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড পালনের মসজিদ বা ইসলামী কালচারাল সেন্টার।
খ.
বর্তমান বাস্তবতা হলো- ব্রিটেনে উৎসব পালন বা উদযাপনে কোন প্রতিবন্ধকতা নেই। কিন্তু ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের সকল সুযোগ থাকার পরও, মুসলমানদের বড় দুই ধর্মীয় উৎসব দিনে সংখ্যায় বড় একটি অংশ তা স্বাচ্ছন্দ্যে পালন করতে পারেননা।
একজন মুসলমান হিসেবে তার সবচেয়ে বড় ও প্রিয় উৎসব-আনন্দে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও ’যুক্ত থাকতে না পারা’ অনেক মনোবেদনার। আমাদের সবচেয়ে আনন্দ উৎসবের দিন হলো- ঈদের দিন। এই দিনে গ্রেট ব্রিটেনের যে সমস্ত শহরে এখনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা জামাতে ঈদের নামাজ পড়ার ব্যবস্থা হয়ে উঠেনি, তারা ঈদের নামাজ আদায় করা থেকে বঞ্চিত থাকেন। কারণ রেষ্টুরেন্টে কাজ থাকায় তারা অন্য শহরে গিয়ে নামাজ আদায় করে কাজে যোগদান করা তাদের জন্য অনেকাংশে অসম্ভব হয়ে যায়।

আমাদের কমিউনিটির অনেকেই ব্রিটেনে বাঙালী মালিকানাধীন ইন্ডিয়ান রেষ্টুরেন্টে কাজ করেন। কারী শিল্প সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর তথ্য মতে , ব্রিটেনে বাংলাদেশী মালিকানাধীন রেষ্টুরেন্টের সংখ্যা প্রায় সাড়ে বারো হাজার। এই সাড়ে বারো হাজার রেষ্টুরেন্ট ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত আছেন প্রায় লক্ষাধিক শ্রমিক। এবং রেস্টুরেন্টে সরাসরি যে কয়েক হাজার ষ্টাফ কাজ করেন তার সিংহভাগ বাংলাদেশি এবং ধর্মীয় দিক থেকে মুসলমান। এই ষ্টাফরা সাধারণত ব্রিটেন সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বেতন সহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা খুব কম ভোগ করেন এবং কোন কোন ক্ষেত্রে বঞ্চিত থেকেও কাজ করছেন- দেশে ও প্রবাসে তাদের মা-বাবা, আত্মীয়- স্বজন ও পরিবারের জন্য ।

বাস্তবতা হলো- এই শ্রমিকদের মধ্যে যারা দু বেলা রেষ্টুরেন্টে কাজ করেন তাঁরা পরিবার নিয়ে এক ঘরে বসবাস করলেও সন্তানের সাথে প্রতিদিন দেখার সুযোগ থাকে না। কারণ বাবা যখন ঘুমে থাকেন তখন সন্তান থাকে স্কুলে আর সন্তান যখন ঘরে আসে- বাবা থাকেন কাজে। একই ছাদের নিচে পরিবার নিয়ে বসবাস করে সপ্তাহে একদিন প্রাণ খুলে সন্তানের সাথে কথা বলতে না পারা, তাদের সাথে একটু সুন্দর সময় কাটাতে না পারা – একজন মানুষের জীবনে এর চেয়ে বড় মনোকষ্টের আর কি হতে পারে।
অন্যদিকে দেখা যায়- যারা দূর- দূরান্তে কাজ করেন তারা সপ্তাহে একদিন ছুটিতে ঘরে আসলেও পারিবারিক খরচাদির কাজ সারতে গিয়ে দিন চলে যায়! ইচ্ছে থাকলেও স্ত্রী-সন্তানদের সাথে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে সময় পার করার বা তাদের সাথে আত্নিক সময় দেয়ার সুযোগ থাকে না।

এতোকিছুর পরও তাদের মনোবেদনা কিছুটা লাঘব হতো- যদি রেস্টুরেন্টগুলোর স্টাফরা নির্ধারিত দুটি পবিত্র ঈদের দিনে কাজ থেকে ছুটি পেয়ে পরিবারের সাথে আনন্দে কাটাতে পারতেন । তারা অন্যান্য পেশার ওয়ার্কারদের মতো দেশে তাদের মা-বাবা, আত্নীয়- স্বজনের সাথে প্রাণ খুলে ফোনে কথা বলতে পারতেন।

গ.
অতীতে দীর্ঘদিন রেস্টুরেন্টে কাজ করার আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি- আমি যখন দূর-দূরান্তে বাঙালী মালিকানাধীন ইন্ডিয়ান রেষ্টুরেন্টে কাজ করেছি, তখন ঈদের দিনে ভোরবেলা ঈদের নামাজ পড়ে মনের বিরুদ্ধে কাজের উদ্দেশ্যে চলে যেতে হয়েছে।
অন্যরাও ঠিক একইভাবে মনে কষ্ট নিয়ে কাজে যোগদান করতেন। মূলত কাজে যোগদান ছিল- শুধু চাকরি রক্ষার্থে। আমাদের পক্ষ থেকে মালিক পক্ষকে যুক্তিসহ অত্যন্ত বিনয়ে ‘ঈদের দিন’কে রেস্টুরেন্ট ষ্টাফদের জন্য ’সাপ্তাহিক নির্ধারিত ছুটির দিন’ বিবেচনায় নিয়ে ’ঈদের ছুটি’র অনুরোধ করলেও রেস্টুরেন্ট মালিকরা তা কখনও আমলে নেননি। বলা হতো, ব্যবসার ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থে সপ্তাহে সাতদিন রেষ্টুরেন্ট খোলা রাখতে হবে। এই বক্তব্য শুধু আমার মালিকের নয় , ব্রিটেনে হাতেগুনা কয়েকটি রেষ্টুরেন্টের মালিক ব্যতীত প্রায় সবার। যা আজও অব্যাহত আছে।

প্রসঙ্গত ব্রিটেনে রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীদের সাথে স্টাফদের নানা কারণে বৈরী সম্পর্ক থাকলেও একটি সত্য কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না। তা হলো- বাঙালি মালিকানাধীন রেষ্টুরেন্টেগুলো সামগ্রিকভাবে ব্রিটেনে আমাদের কমিউনিটিকে শক্তভীত গাড়তে অন্যতম বড় ভূমিকা রাখছে। কারী ইন্ড্রাস্টির এই অবদানকে কেউ যদি অস্বীকার করেন তা তার ব্যক্তিগত হীনমন্যতা বলে- আমি মনে করি। তবে বিশেষ করে বাংলাদেশী কমিউনিটির জন্য অগ্রণী ভূমিকা রাখা ক্যাটারার্সরা কেন সামান্য ব্যবসায়িক লাভের আশায় দীর্ঘদিন থেকে অমানবিক ও অপেশাদারি মনোভাব নিয়ে এই কাজটি করে আসছেন তা সচেতন মহলের বোধগম্য নয়।

বর্তমানে ব্রিটেনে কারী ইন্ড্রাষ্ট্রিতে চরম স্টাফ সংকট রয়েছে। কারী শিল্পের সংগঠনগুলোর তথ্য মতে, প্রায় প্রতি সপ্তাহে শুধু স্টাফ সংকটের কারণে অনেক রেষ্টুরেন্ট বন্ধ হচ্ছে এবং এভাবে চলতে থাকলে বন্ধের তালিকা আরও দীর্ঘতর হবে বলেও নেতৃবৃন্দ দীর্ঘদিন থেকে বলে আসছেন।
খুব সরল একটি প্রশ্ন জাগে – এই শ্রমিক সংকট কেন ? পূর্বে যারা রেষ্টুরেন্টে কাজ করেছেন ,তাঁরা কি এদেশ ছেড়ে চলে গেছেন ? রেস্টুরেন্ট স্টাফরা কি সকলেই অন্য পেশায় গিয়ে স্কিল্ড হয়ে কাজ করছেন? বাস্তবতা হলো- কারী ইন্ড্রাস্টি থেকে বাধ্য হয়ে বেরিয়ে আসা স্টাফরা এই ব্রিটেনেই অন্য সেক্টরে বিভিন্ন কাজে যুক্ত আছেন।

গভীরে গিয়ে দেখলে জানা যায়- ক্যাটারার্সদের অপেশাদারী মনোভাব, কর্মীবান্ধব না হয়ে দিন দিন আনডকুমেন্ট ইস্যু অথবা ওয়েলফেয়ার বিষয়ক নানা বিষয়ে তাদের দুর্বলতার সুযোগকে মোটাদাগে প্রাধান্য দিয়ে অধিকাংশ রেষ্টুরেন্ট ব্যবসায়ীদের অসযোগিতা ও তাদের ভ্যারভাল বিহ্যেইভ অনেকটা দায়ী। তবে বর্তমানে যে বিষয়টির কারণে রেষ্টুরেন্ট জব থেকে মানুষদের মন ও আগ্রহ চলে যাচ্ছে তা হলো- স্টাফরা ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানবিকতা, আনন্দ- উৎসবকে বিসর্জন দিয়ে শুধু অর্থ ও চাকুরিকে প্রাধান্য দিতে চায় না। তাই তারা বিকল্প চাকুরীর পথ খুজছেন দিন দিন। দলে দলে নিজের জন্য কাজের জায়গাও খুজে নিয়েছেন এবং তুলনামূলক ভালোই আছেন বলে তাদের অভিমত।
মালিকালচারাল ব্রিটেনে একই সমাজে, একই ছাদের নিচে বসবাস করা কেউ যদি অন্য কোন ধর্মবিশ্বাসীদের প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন এবং তিনি ঈদের ছুটির আবেদন করেন, তাহলে মানবিক মূল্যবোধে তাদের ছুটি মঞ্জুর হয়।
আমার বক্তব্য হচ্ছে- এই মানবিক বোধটা আমাদের রেষ্টুরেন্ট মালিকদের সর্বাগ্রে থাকার কথা ছিল কারণ তাঁরা সিংহভাগই মুসলমান।
দুঃখ হয়- তাঁরা খ্রিস্টীয় ধর্মীয় বড় উৎসব – ক্রিসমাস ডে এবং বক্সিং ডে তে প্রায় সকল রেষ্টুরেন্টে বন্ধ রাখতে পারলেও নিজ ধর্মীয় বড় দুই ঈদে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মানবিক দৃষ্টিকোণের বিবেচনায়ও বন্ধ রাখতে পারেন না !
ঘ.
আমাদের দুই ঈদের পবিত্রতা ও গুরুত্বের প্রতি সম্মান না দেখিয়ে শুধু ব্যবসাকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে ধর্মীয় মূল্যবোধকে যে হালকাভাবে তুলে ধরছি এবং প্রাতিষ্ঠানিক চর্চা করে যাচ্ছি- তা ক্যাটারার্সদের হয়তো ভাবনায় আসছে না।
আমরা সকলে চাই আমাদের সন্তান ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী হোক।কিন্তু আমরা ‘কমিউনিটির প্রবৃদ্ধির ব্যাকবউন’ খ্যাত কারী শিল্পের মালিকরা শুধু উল্টো পথে হাটছেন না,অনেকটা তাদের অধিনস্ত স্টাফদের এই অমানবিক চর্চার পথে চলতে কৌশলে বাধ্য করাচ্ছেন।

ইক্যুয়ালিটি ও ডাইভারসিটি পলিসিকে সম্মানে মেনে চলা বহুজাতিক ব্রিটেনে আমাদের সন্তানেরা যখন দেখে খৃষ্টধর্মাবলম্বিরা সহপাঠি অথবা কলিগ তাঁদের পবিত্র দিন ক্রিসমাস ডে পরিবার নিয়ে ঘরে থেকে আনন্দ করতে পারে। অপরদিকে আমাদের সন্তানরা দেখতে পায়- আমাদের পবিত্র দিনে বাবা ধর্মীয় রীতি-নীতি তোয়াক্কা না করে কাজে যাচ্ছেন এবং বাবার প্রতিষ্ঠানে অন্য মুসলমান শ্রমিকদেরকেও কৌশলে কাজে আসতে বাধ্য করছেন। এই চিত্র দেখে সন্তানরা ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী অথবা মানবিক হয়ে বেড়ে ওঠার প্রশ্নই আসেনা।
যারা শ্রমিক তাদের সন্তানরাও দেখছেন একই চিত্র। হয়তো তাঁরা বুঝতে পারছেন না তাদের বাবা অথবা মা ধর্মীয় মূল্যবোধ থাকার পরও পরিস্থিতির শিকার।

বলা হয় পরিবেশ মানুষকে প্রভাবিত করে।এটা চরম দূ:খ ও পরিতাপের বিষয় হলেও সত্য যে- ব্রিটেনে রাইস এন্ড কারী শিল্পের প্রতিনিধিত্বকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানের ‘ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট‘ বা ’বাংলাদেশী রেষ্টুরেন্ট’ এর সুমানটি যেমন বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের অর্জন। তেমনি আলোর নিচে ঘাপটি মেরে অন্ধকার হয়ে থাকা ‘অমানবিক চর্চা’র দায়ভারও তাদের।
অমানবিকতার এই চর্চা এভাবে চলতে থাকলে হয়তো আমরা একদিন শুনতে পাবো- এইসব চর্চাকারীদের কারো মৃত্যুর পর তাঁর সন্তান কোনো ফোনারেল এজেন্সিকে ফোন করে বলছে- ‘আমার কাজ থাকায় বাবার দাফনে আসতে পারছিনা, টাকা পাঠালাম- লাশটি দাফনের ব্যবস্থা করুন।’

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন। বিশেষ করে আমাদের কারী ইন্ড্রাস্টিকে বিভিন্ন  এসোসিয়েশন এর মাধ্যমে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন -তারা একটি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবেন বলে বিশ্বাস রাখি।
প্রসঙ্গত সকল রেস্টুরেন্টে যে এই অমানবিতকার চর্চা হয় অথবা ষ্টাফ-মালিক সম্পর্ক মৌলিক অর্থে বৈরী-তা সচেতনভাবেই বলা যাবে না। ব্রিটেনে অসংখ্য ভালো মানের এবং প্রাতিষ্ঠানিক সেবার মান বজায় রেখেও তারা কমিউনিটিকে ব্যবসাবান্ধব সেবা দিচ্ছেন সন্দেহ নেই।তাদেরকে ধন্যবাদ।

লন্ডন । ২০.০৪.২০২২

ছরওয়ার আহমদ

সাবেক ভিপি ১৯৯৫-৯৬ সাল , বিয়ানীবাজার সরকারী কলেজ, সিলেট । হেড অব পাবলিক  অ্যাফেয়ার্স ;৫২বাংলা ,সংগঠক, স্যোসাল একটিভিস্ট।

ধুমপান ও একটি আনন্দময় জীবনের গল্প


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

"এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত ও লেখার দায় লেখকের একান্তই নিজস্ব " -সম্পাদক