বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
জীবন যেখানে দ্রোহের প্রতিশব্দ মৃত্যু সেখানেই শেষ কথা নয়..  » «   শিল্প উদ্যোক্তা ও ক্রীড়া সংগঠক মো: জিল্লুর রাহমানকে  লন্ডনে সংবর্ধনা  » «   ঈদের সামাজিক গুরুত্ব ও বিলাতে ঈদের ছুটি   » «   ব্রিটেনে ঈদের ছুটি  প্রসঙ্গে  » «   হজের খুতবা বঙ্গানুবাদ করবেন মাওলানা শোয়াইব রশীদ ও মাওলানা খলিলুর রহমান  » «   হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু, তাবুর শহর মিনায় হাজিরা  » «   ঈদের ছুটি : আমাদের কমিউনিটিতে সবার আগে শুরু হোক  » «   ঈদের দিনে বিলেত প্রবাসীদের মনোবেদনা  » «   বিলেতে ঈদ উৎসব এবং বাঙ্গালী কমিউনিটির অন্তর্জ্বালা  » «   জলঢুপে বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতালের ভ্রাম্যমান কেম্প  » «   তিলপাড়ায় বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতালের ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল ক্যাম্প  » «   করিমগঞ্জ দিবস  » «   ঈদের ছুটি চাই : একটি সমন্বিত উদ্যোগ অগণিত পরিবারে হাসি ফুটাতে পারে  » «   ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল তিন বন্ধুর  » «   বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতালের বিনামূল্যে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল ক্যাম্প  » «  
সাবস্ক্রাইব করুন
পেইজে লাইক দিন


সমঝোতা করেই তারেককে লন্ডনে পাঠান খালেদা



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমঝোতা করেই বড় ছেলে তারেক রহমানকে পাঠিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও তৎকালীন সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। যে সময়টিতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে অবস্থান করছিলেন তিনি।

কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দরকষাকষির এক পর্যায়ে সেনা কর্মকর্তারা ছোট ছেলে আরাফাত রহমানকে মুক্তি দিতে সম্মত হলেও তারেক রহমানের ব্যাপারে ছাড় দিতে রাজি ছিলেন না। তবে তৎকালীন সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী চেয়েছিলেন তার দুই ছেলেরই মুক্তি এবং তাদের বিদেশে চিকিৎসা।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্যই প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদের ‘কারাগারে কেমন ছিলাম (২০০৭-২০০৮)’ বইটি উদ্ধৃতি তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ তাঁর বইতে লিখেছেন, এমনও হতে পারে তিনি (খালেদা জিয়া) জেনারেলদের সঙ্গে এই সমঝোতা করেছিলেন যে, তারেক রহমান আপাতত নিজেকে রাজনীতিতে জড়াবেন না এবং এ মর্মে তারেক রহমান কোনো সম্মতিপত্রে স্বাক্ষরও দিয়ে থাকতে পারেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেক রহমান লন্ডন যাওয়ার আগে তার মা খালেদা জিয়া গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন সুস্থ না হয়ে উঠা পর্যন্ত তারেক রহমান রাজনীতির বাইরে থাকবেন। খালেদ জিয়াকে উদ্ধৃত করে বিবিসি নিউজ তখন লিখেছিল, ‘চিকিৎসকরা বলেছেন তার পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে কমপক্ষে দুই থেকে তিন বছর লাগবে।’

প্রতিবেদনে তারেক রহমানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে লেখা হয়, ২০০৭ সালের মার্চে দেশের রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের তাড়া করে ফিরছিল গ্রেপ্তার আতঙ্ক। এর আগে একই বছরের ১১ জানুয়ারি সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হওয়ার প্রথম দুই মাসে দেড়শর বেশি রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছিল দুর্নীতির অভিযোগে।

ঠিক সে সময় অনেকের মনে একটা প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছিল, তৎকালীন সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান গ্রেপ্তার বিষয়ে। তারেক রহমানের গ্রেপ্তার হওয়ার সম্ভাবনার বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমেও নানা প্রতিবেদনও প্রকাশিত হচ্ছিল। সংবাদমাধ্যমে এমন প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছিল, যেকোনো সময় আটক হতে পারেন তারেক রহমান।

যে সময়ে এসব প্রতিবেদনে ঢাকা সেনানিবাসের ভেতরে মইনুল রোডের বাড়িতে তারেক রহমান যে অস্থির সময় পার করছেন সে চিত্রও ফুটে উঠেছিল। অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২০০৭ সালের ৭ মার্চ তারেক রহমান গ্রেপ্তার হন। অথচ এর ছয়মাস আগেও প্রধানমন্ত্রীর ছেলে হিসেবে তারেক রহমানের ছিল দোর্দন্ড প্রতাপ।

গ্রেপ্তারের পর তারেক রহমানকে যেভাবে আদালতে উপস্থিত করা হয়েছিল, সেই দৃশ্য দেখে চমকে উঠেছিলেন অনেকেই। র‍্যাবের বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট আর হেলমেট পরিয়ে আদালতে তোলা হয়েছিল তাকে। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছিল। সে সময় তারেক রহমান ও বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, রিমান্ডে তার ওপর ‘অমানুষিক নির্যাতন’ চালানো হয়েছে।

আদালতে দেয়া তারেক রহমানের বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে পরের বছর ২০০৮ সালের ১০ জানুয়ারি ভারতের দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকার প্রকাশিত প্রতিবেদনে লেখা হয়েছিল, রিমান্ডের সময় আমাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৮ ঘণ্টাই হাত ও চোখ বেঁধে রাখা হয়েছিল…আমাকে বেঁধে রুমের ছাদের সাথে ঝুলিয়ে আবার ফেলে দেয়া হয় এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। কারাগারে থাকা অবস্থায় তারেক রহমানের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তখন জোরালোভাবে দলের পক্ষ থেকে তোলা হয়েছিল।

সমালোচনা রয়েছে, ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হলেও তারেক রহমান হয়ে উঠেছিলেন সমান্তরাল আরেকটি ক্ষমতার কেন্দ্র- হাওয়া ভবন- কেন্দ্রিক। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর বেশ দ্রুততার সঙ্গেই তারেক রহমানকে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব পদে নিয়োগ দেয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে খালেদা জিয়া কার্যত তখনই তারেক রহমানকে দলের ভবিষ্যত নেতা হিসেবে তুলে ধরেন।

খালেদার সঙ্গে সেনা কর্মকর্তাদের দরকষাকষি

তারেক রহমান গ্রেপ্তার হওয়ার প্রায় ছয়মাস পরে খালেদা জিয়া নিজেও আটক হন। তার আগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। খালেদা জিয়া ছিলেন সদ্য বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তারের পর খালেদা জিয়াকেও গ্রেপ্তারের জন্য তৎকালীন সেনা-সমর্থিত সরকারের ওপর চাপ বাড়তে থাকে। অনেকে ধারণা করেছিলেন সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে দুই ছেলেকে নিয়ে খালেদা জিয়া হয়তো দেশের বাইরে চলে যেতে পারেন।

তৎকালীন নির্বাচন কমিশনার, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন ‘নির্বাচন কমিশনে পাঁচ বছর’ বইতে এ সংক্রান্ত একটি ধারণা দিয়ে লিখেছিলেন, ‘আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার গ্রেপ্তারের পর গুঞ্জন হচ্ছিল বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নিয়ে। অনেকে সন্দেহ পোষণ করেছিলেন যে খালেদা জিয়া শেষ পর্যন্ত তার দুই পুত্রকে নিয়ে দেশের বাইরে চলে যাবেন।

২০০৮ সালের গোড়ার দিকে অনেকটা পরিষ্কার হয়ে যায়, সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সে বছরের শেষ নাগাদ সাধারণ নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সরকার ও সেনাবাহিনীর প্রধানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপও বাড়তে থাকে। সেই সময় থেকেই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার প্রয়োজন অনুভব করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার।
প্রকৃতপক্ষে পর্দার আড়াল থেকে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা বা ডিজিএফআইয়ের কর্মকর্তারা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। ওই বছরের মে মাস থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অপ্রকাশ্যে আলোচনা শুরু করে সেনা সমর্থিত সরকার। তবে সবকিছুর মূল চাবিকাঠি ছিল সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হাতে।

তবে দুই ছেলে তারেক রহমান এবং আরাফাত রহমানের মুক্তি ছাড়া কোনো ধরণের আলোচনায় রাজি ছিলেন খালেদা জিয়া। সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময় সাব-জেলে খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের একমাত্র উদ্দেশ্যে ছিল নির্বাচনে অংশ নিতে খালেদা জিয়াকে রাজি করানো।

সেই সময়ে বিএনপির সিনিয়র নেতা মওদুদ আহমদ কারাগারে ছিলেন। সে সময়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পরে তিনি ‘কারাগারে কেমন ছিলাম (২০০৭-২০০৮)’ শিরোনামের বই লেখেন। বইটিতে তিনি খালেদা জিয়া ও সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে দরকষাকষি নিয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, সেনাকর্মকর্তারা শুধু আলোচনার ওপর নির্ভর করেননি। একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ‘জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’ এবং ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট’ মামলার প্রস্তুতিও নেন।

২০০৮ সালের ২৬ জুন নাইকো দুর্নীতি মামলায় কারাগার থেকে আদালতে নেয়া হয়েছিল খালেদা জিয়া ও মওদুদ আহমদকে। শুনানির সময় দুজন পাশাপাশি বসে ছিলেন। তখনই তাদের মধ্যে কিছু কথা হয়। খালেদা জিয়াকে উদ্ধৃত করে মওদুদ আহমদ তার বইতে লিখেছেন, ‘নাইকো মামলায় এজলাসে আমি ছিলাম তাঁর পাশে। চিকিৎসার জন্য তাঁর দুই ছেলেকে বিদেশ পাঠানো না হলে গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে কোনো আলোচনায় তিনি অস্বীকৃতি জানান। আমার সঙ্গে আলোচনার সময় তিনি এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন।

বইটিতে মওদুদ আহমদ লেখেন, বেগম জিয়া আমাকে বললেন যে সেনা অফিসাররা মাঝরাতে এসে নানা কথা বলছেন ও নানা শর্ত দেখাচ্ছেন। কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দরকষাকষির এক পর্যায়ে সেনা কর্মকর্তারা ছোট ছেলে আরাফাত রহমানকে মুক্তি দিতে সম্মত হলেও তারেক রহমানের ব্যাপারে ছাড় দিতে রাজি হননি।

২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পেছনে ঢাকায় নিযুক্ত পশ্চিমা কূটনীতিকদের একটি নীরব সমর্থন ছিল। পরের বছর ২০০৮ সালে ঢাকায় নিজের দায়িত্বে যোগদান করেছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি।

ঢাকা থেকে ওয়াশিংটনে তিনি যেসব তারবার্তা বিভিন্ন সময় পাঠিয়েছিলেন, সেগুলোর মধ্যে বেশ কিছু উইকিলিকস সাইটে ফাঁস হয়েছে। ২০০৮ সালের ২১ অগাস্ট এক তারবার্তায় বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং তার ছেলে তারেক রহমানের কারামুক্তি নিয়ে যে দরকষাকষি চলছে, সেটিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিতর্ক আবর্তিত হচ্ছে।

মরিয়ার্টি লিখেছিলেন, খালেদা জিয়ার অনুগত এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কর্মকর্তা- উভয়পক্ষ আমাদের বলেছে যে একটি সমঝোতা খুব নিকটবর্তী। তবে পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাসের কারণে চূড়ান্ত সমঝোতা হচ্ছে না।

তারেক রহমানকে নিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে স্বীকার করেছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান এবং গোলাম কাদের। একটি তারবার্তায় এমনটা উল্লেখ করে মরিয়ার্টি লিখেছিলেন, ২০০৮ সালের ২৮ অগাস্ট বিএনপি তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে উপস্থিতি ছিলেন ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার এটিএম আমিন।

সেই বৈঠকেই খালেদা জিয়ার সঙ্গে ব্রিগেডিয়ার আমিনের আলোচনা হয়। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের মুক্তি এবং মুক্তির পর তারেক রহমানকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর বিষয় ওই আলোচনায় উঠে আসে। এছাড়া, রাজনীতি থেকে তারেক রহমানের কিছু সময়ের জন্য বিরতিতে যাওয়ার কথাটিও তখন আলোচিত হয়। মওদুদ আহমদও তাঁর বইয়ে এ বিষয়টি লিখেছেন।

মওদুদ আহমদের ‘বাংলাদেশ: ইমার্জেন্সি অ্যান্ড দ্যা আফটারম্যাথ (২০০৭-২০০৮)’ শিরোনামের আরেকটি বইতে তিনি ধারণা করেছেন, ছেলেদের মুক্তি এবং বিদেশ পাঠানোর বিনিময়ে খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশগ্রহণের শর্ত মেনে নিয়েছিলেন।

এদিকে, মুক্তি পাওয়ার পর তারেক রহমান ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে। আর ওই দিনই কারাগার থেকে মুক্তি পান খালেদা জিয়া। মুক্তি পাওয়ার কিছু সময়ের মধ্যেই চিকিৎসাধীন ছেলেকে দেখতে খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে যান। প্রায় দুই ঘণ্টা ছেলের পাশে অবস্থান করেছিলেন তিনি। তবে লন্ডন যাত্রার কয়েকঘণ্টা আগে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিবের পদ থেকে তারেক রহমানের পদত্যাগের খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল।

প্রতিবেদনে বক্তব্য তুলে ধরা হয় ঢাকায় বিবিসি বাংলার সংবাদদাতা কাদির কল্লোলের। তিনি মন্তব্য করেন, তারেক রহমান অন্তত তিন বছর রাজনীতি না করার শর্তে রাজি হয়েছিলেন। এ বিষয়ে মওদুদ আহমদ তার ‘কারাগারে কেমন ছিলাম (২০০৭-২০০৮)’ বইতে লিখেছেন, এমনও হতে পারে তিনি (খালেদা জিয়া) জেনারেলদের সঙ্গে এই সমঝোতা করেছিলেন যে, তারেক রহমান আপাতত নিজেকে রাজনীতিতে জড়াবেন না এবং এ মর্মে তারেক রহমান কোনো সম্মতিপত্রে স্বাক্ষরও দিয়ে থাকতে পারেন।

তার কিছুটা প্রমাণ পাওয়া যায়, তারেক রহমানের লন্ডন যাত্রার আগে তার মা খালেদা জিয়া গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে সুস্থ না হয়ে উঠা পর্যন্ত তারেক রহমান রাজনীতির বাইরে থাকবেন। মওদুদ আহমদের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, খালেদ জিয়া বেশ ভালো করেই বুঝেছিলেন যে তারেক রহমান যদি সে মুহূর্তে মুক্তি না পান, তাহলে আর কখনোই দেশ ছেড়ে যেতে পারবেন না। যেকোনো একটি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হলেই তার কারাবাস অনেক দীর্ঘ হতে পারতো।

সূত্র- বিবিসি বাংলা


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন