শনিবার, ২ মার্চ ২০২৪ খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
টাওয়ার হ্যামলেটসের নতুন বাজেটে হাউজিং, শিক্ষা, অপরাধ দমন, তরুণ, বয়স্ক ও মহিলাদের জন্য বিশেষ কর্মসূচিতে বিপুল বিনিয়োগ প্রস্তাব  » «   আজীবন সম্মাননা পেলেন সৈয়দ আফসার উদ্দিন এমবিই  » «   লন্ডন বাংলা স্কুলের আয়োজনে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত  » «   লন্ডনবাসী প্রবীণ মুরব্বী জমির উদ্দিন( টেনাই মিয়া)র ইন্তেকাল  » «   কবি সংগঠক ফারুক আহমেদ রনির পিতা মুমিন উদ্দীনের ইন্তেকাল  » «   একসেস ট্যু জাস্টিস নিশ্চিত করা আইনের শাসনের প্রধান স্তম্ভ  » «   বৃহত্তর সিলেট এডুকেশন ট্রাস্টের নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত  » «   বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে প্যালেষ্টাইনের জনগণের প্রতি উৎসর্গ করে লন্ডনে সমাবেশ  » «   এডভোকেট মোহাম্মদ আব্বাছ উদ্দিন যুক্তরাজ্যে আসছেন  » «   হিলালপুর গ্রামে সড়ক বাতি উদ্বোধন  » «   বিয়ানীবাজার জনকল্যাণ সমিতি ইউকের কার্যকরী কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত  » «   পূর্ব মুড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসিপরীক্ষার্থীদের মধ্যে পরীক্ষা উপকরণ বিতরণ  » «   গুচ্ছ কবিতা ।। আতাউর রহমান মিলাদ  » «   ব্রিটেনের রাজা চার্লস ক্যান্সারে আক্রান্ত  » «   গুচ্ছ কবিতা ।। আবু মকসুদ  » «  
সাবস্ক্রাইব করুন
পেইজে লাইক দিন

প্রসংগঃ পয়লা বৈশাখ
রিয়াজ উদ্দিন ইসকা



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

 

শুরুতে বলে দেওয়া ভাল যে পান্তা-ইলিশের বিরোধীতা করছি বলে আমাকে ঐতিহ্যবিরোধী, সংস্কৃতিবিরোধী এবং ‘বেজাত’ ভাবার কারণ নেই। মধ্যযুগের কবি শেখ আব্দুল হাকিম বলেছিলেন-
‘যেজন বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গ বাণী/
সে জন কাহার জন্ম নির্ণয় ন’ জানি’।

আমার কাছে বঙ্গ বাণী = বাংলার ভাষা, বাংলার কৃষ্টি-সংস্কৃতি সব কিছু। কাজেই যারা নানান ধুয়া তুলে, নানা অজুহাতে বাঙ্গালীয়ানার বিরোধীতা করে তাদের জন্ম-ইতিহাস বলা বাহুল্য।

পয়লা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষ বরণের দিনে পান্তা-ইলিশ খাওয়াকে বর্ষবরণের ‘ট্রেডমার্ক’ করার অপচেষ্টা দেখে আসছি। এটি শুধুমাত্র বাণিজ্যিক চালিয়াতি। ইলিশ এখন দুষ্প্রাপ্য মাছ হয়ে গেছে। প্রচণ্ড চাহিদা সৃষ্টি করায় ইলিশ ধরতে গিয়ে নিধন করা হচ্ছে জাটকা (৯ ইঞ্চির ছোট ইলিশ)। প্রতিবছর পহেলা বৈশাখের প্রাক্কালে বিপুল পরিমান জাটকা জব্দ ও বিনষ্ট করা হয়েছে। কী ভয়াবহ অবস্থা!!. অথচ পান্তার সাথে ইলিশভাজা বাঙ্গালী সাধারণের খাদ্যতালিকায় কখনো ছিল না। মাটির সানকিতে পান্তার সাথে কাঁচা মরিচ ও পেঁয়াজ চলে। যদিও এখন মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটায় পান্তার তেমন প্রচলন নেই। (সিলেট অঞ্চলে পান্তাভাত প্রচলিত ছিল না। বরং অনেকে পান্তাভাতকে গরীবী হাল হিসেবে দেখতেন।) পানি মেশানো ভাতের সাথে গরম ইলিশভাজা যায় না। এটি উদ্ভট রুচি। ইদানিং আইটেম বাড়ানোর জন্য পান্তা-ইলিশের সাথে শুটকিভর্তাসহ আরো কয়েক প্রকার ভর্তার যোগ হয়েছে। রুচি ও স্বাদের দিক থেকে পান্তাভাতকে ভর্তা না বানালেও ক্ষতিবৃদ্ধি হয় না। শ্রেফ ব্যবসাবুদ্ধিতে ইলিশীয় বর্ষবরণকে বাঙালিয়ানা বলা যায় না।

মাছ-ভাতের বাঙ্গালী আমরা ইলিশকে ছাড়তে পারব না। কিন্তু বর্ষবরণের নামে একদিন ইলিশ খেতে গিয়ে মাছবাজারে অনাসৃষ্টি ঘটাচ্ছি কেন? অস্বাভাবিক মূল্যে ইলিশ কিনে বাঙ্গালীয়ানা না দেখালেও চলে। ইলিশে নয়, আচার আচরণে, ভাবনা ও কর্মে বাঙ্গালীয়ানার ছাপ রাখা চাই। বাঙ্গালীর অসাম্প্রদায়িক উৎসব নববর্ষ বরণ উদযাপিত হোক আনন্দ, মিলন ও সম্প্রীতির জয়গানে।

শুভ হোক নতুন বঙ্গাব্দ। সবাইকে জানাই শুভ নববর্ষ। জয় হোক বাঙ্গালীর।

(সোশ্যাল মিডিয়া থেকে)


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন