শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
ইন্টারন্যাশনাল ক্যারাম প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন দুই বৃটিশ বাংলাদেশী  » «   বর্ণাঢ্য আয়োজনে ব্রিটিশ-বাংলাদেশী হুজহু ৭জন ব্রিটিশ বাংলাদেশিকে সম্মানিত করেছে  » «   ইতালীতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে সংবর্ধনা ও মত বিনিময় সভা  » «   যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলে কিশোরের গুলিবর্ষন: শিক্ষার্থী নিহত  » «   নতুন নেতৃত্বে বিয়ানীবাজার আওয়ামী লীগ  » «   এথিক্স এন্ড স্টেন্ডার্ড-বিষয়ে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের আলোচনা  » «    ইতালিতে মসজিদে হামলার পরিকল্পনা  » «   ক্রিকেটারদের খেলার সরঞ্জামাদি  বিতরণ করেছে ফেডারেশন দ্যা ক্রিকেট কাতালান  » «   বাংলা টাউন থেকে রুশনারা আলী‘র নির্বাচনী প্রচারনায় শুরু  » «   বিয়ানীবাজারে অত্যাধুনিক ইনকিউভেটর ও ফটোথেরাপি মেশিনে নবজাতকের সেবা চালু  » «   আবুধাবী এয়ারপোর্টে বাংলা টাইগার্সের খেলোয়াড়দের বরণ  » «   ফ্রান্সে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন  » «   যুবলীগের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে যুবলীগ ইতালী শাখা  » «   পপলার ও লাইমহাউজ আসনে আপসানা বেগমর আনুষ্ঠানিক ক্যাম্পেইন শুরু  » «   আওয়ামী যুবলীগের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে কাতালোনীয়া যুবলীগ  » «  

প্রসংগঃ পয়লা বৈশাখ

রিয়াজ উদ্দিন ইসকা



 

শুরুতে বলে দেওয়া ভাল যে পান্তা-ইলিশের বিরোধীতা করছি বলে আমাকে ঐতিহ্যবিরোধী, সংস্কৃতিবিরোধী এবং ‘বেজাত’ ভাবার কারণ নেই। মধ্যযুগের কবি শেখ আব্দুল হাকিম বলেছিলেন-
‘যেজন বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গ বাণী/
সে জন কাহার জন্ম নির্ণয় ন’ জানি’।

আমার কাছে বঙ্গ বাণী = বাংলার ভাষা, বাংলার কৃষ্টি-সংস্কৃতি সব কিছু। কাজেই যারা নানান ধুয়া তুলে, নানা অজুহাতে বাঙ্গালীয়ানার বিরোধীতা করে তাদের জন্ম-ইতিহাস বলা বাহুল্য।

পয়লা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষ বরণের দিনে পান্তা-ইলিশ খাওয়াকে বর্ষবরণের ‘ট্রেডমার্ক’ করার অপচেষ্টা দেখে আসছি। এটি শুধুমাত্র বাণিজ্যিক চালিয়াতি। ইলিশ এখন দুষ্প্রাপ্য মাছ হয়ে গেছে। প্রচণ্ড চাহিদা সৃষ্টি করায় ইলিশ ধরতে গিয়ে নিধন করা হচ্ছে জাটকা (৯ ইঞ্চির ছোট ইলিশ)। প্রতিবছর পহেলা বৈশাখের প্রাক্কালে বিপুল পরিমান জাটকা জব্দ ও বিনষ্ট করা হয়েছে। কী ভয়াবহ অবস্থা!!. অথচ পান্তার সাথে ইলিশভাজা বাঙ্গালী সাধারণের খাদ্যতালিকায় কখনো ছিল না। মাটির সানকিতে পান্তার সাথে কাঁচা মরিচ ও পেঁয়াজ চলে। যদিও এখন মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটায় পান্তার তেমন প্রচলন নেই। (সিলেট অঞ্চলে পান্তাভাত প্রচলিত ছিল না। বরং অনেকে পান্তাভাতকে গরীবী হাল হিসেবে দেখতেন।) পানি মেশানো ভাতের সাথে গরম ইলিশভাজা যায় না। এটি উদ্ভট রুচি। ইদানিং আইটেম বাড়ানোর জন্য পান্তা-ইলিশের সাথে শুটকিভর্তাসহ আরো কয়েক প্রকার ভর্তার যোগ হয়েছে। রুচি ও স্বাদের দিক থেকে পান্তাভাতকে ভর্তা না বানালেও ক্ষতিবৃদ্ধি হয় না। শ্রেফ ব্যবসাবুদ্ধিতে ইলিশীয় বর্ষবরণকে বাঙালিয়ানা বলা যায় না।

মাছ-ভাতের বাঙ্গালী আমরা ইলিশকে ছাড়তে পারব না। কিন্তু বর্ষবরণের নামে একদিন ইলিশ খেতে গিয়ে মাছবাজারে অনাসৃষ্টি ঘটাচ্ছি কেন? অস্বাভাবিক মূল্যে ইলিশ কিনে বাঙ্গালীয়ানা না দেখালেও চলে। ইলিশে নয়, আচার আচরণে, ভাবনা ও কর্মে বাঙ্গালীয়ানার ছাপ রাখা চাই। বাঙ্গালীর অসাম্প্রদায়িক উৎসব নববর্ষ বরণ উদযাপিত হোক আনন্দ, মিলন ও সম্প্রীতির জয়গানে।

শুভ হোক নতুন বঙ্গাব্দ। সবাইকে জানাই শুভ নববর্ষ। জয় হোক বাঙ্গালীর।

(সোশ্যাল মিডিয়া থেকে)