শনিবার, ২ মার্চ ২০২৪ খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
টাওয়ার হ্যামলেটসের নতুন বাজেটে হাউজিং, শিক্ষা, অপরাধ দমন, তরুণ, বয়স্ক ও মহিলাদের জন্য বিশেষ কর্মসূচিতে বিপুল বিনিয়োগ প্রস্তাব  » «   আজীবন সম্মাননা পেলেন সৈয়দ আফসার উদ্দিন এমবিই  » «   লন্ডন বাংলা স্কুলের আয়োজনে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত  » «   লন্ডনবাসী প্রবীণ মুরব্বী জমির উদ্দিন( টেনাই মিয়া)র ইন্তেকাল  » «   কবি সংগঠক ফারুক আহমেদ রনির পিতা মুমিন উদ্দীনের ইন্তেকাল  » «   একসেস ট্যু জাস্টিস নিশ্চিত করা আইনের শাসনের প্রধান স্তম্ভ  » «   বৃহত্তর সিলেট এডুকেশন ট্রাস্টের নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত  » «   বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে প্যালেষ্টাইনের জনগণের প্রতি উৎসর্গ করে লন্ডনে সমাবেশ  » «   এডভোকেট মোহাম্মদ আব্বাছ উদ্দিন যুক্তরাজ্যে আসছেন  » «   হিলালপুর গ্রামে সড়ক বাতি উদ্বোধন  » «   বিয়ানীবাজার জনকল্যাণ সমিতি ইউকের কার্যকরী কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত  » «   পূর্ব মুড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসিপরীক্ষার্থীদের মধ্যে পরীক্ষা উপকরণ বিতরণ  » «   গুচ্ছ কবিতা ।। আতাউর রহমান মিলাদ  » «   ব্রিটেনের রাজা চার্লস ক্যান্সারে আক্রান্ত  » «   গুচ্ছ কবিতা ।। আবু মকসুদ  » «  
সাবস্ক্রাইব করুন
পেইজে লাইক দিন

‘অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে’ …



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

আমাদের গ্রামীণ সমাজের মানুষেরা অতি সাধারণ জীবনযাপন করেন। তারা অত্যন্ত সহজ সরল। তাঁরা রাজনীতির কঠিন কুটিল জটিল বিষয় বুঝেন না। কিন্তু
সমাজের স্বার্থান্বেষী চরিত্রহীন লোভী ব্যক্তিরা অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল করতে রাজনীতির ঢাল হিসেবে তাঁদেরকে ব্যবহার করেন। চতুরতার অাশ্রয় নিয়ে নিজেদের মতো করে গ্রামের মানুষজনকে বুজান। নানান কলে কৌশলে বিভ্রান্তির জাল বিছিয়ে তাঁদের মন ভোলান। অতি সহজসরল মানুষগুলো জটিল সমাজের কুটিল রাজনীতির চালবাজি না বুজেও তাঁদের কথা শুনেন। এই অসৎ মানুষদের কথাগুলো বুজার জন্য ও সত্য মিথ্যা জানতে যতদূর যাওয়া দরকার। সেই পথ পাড়ি দিতে জানেননা। এজন্য প্রতারক চক্রের মধুর কথায় বারবার প্রতারিত হন। মধুর কথায় বিভ্রান্ত হন। আমাদের দেশের নির্বাচনকালিন সময় গ্রামের মানুষেরা বড়ধরণের প্রতারণার শিকার হন। তাদেরকে মিথ্যা আশ্বাস ও ভুলভাল বুঝিয়ে, ভোট হাতিয়ে নেয় ক্ষমতা লোভী অসৎ স্বার্থান্বেষী চক্র। এভাবেই গ্রামের সহজসরল মানুষজনেরা বারবার প্রতারিত হন। অসৎ চক্রের মুখরোচক কথায় বারবার বিভ্রান্ত হন। স্বার্থান্বেষী ধূর্তবুদ্ধির ফাঁদপাতা জালে তাঁদের বিবেক চক্ষু কৌশলে বন্ধী করে দেয়া হয়। সহজ মানুষদের কেউ যদি বিবেক বুদ্ধির সাহস দিয়ে এগিয়ে যায়, তাঁর সামনে নানান প্রতিবন্ধকতা তৈরী করা হয়। যাতে তাঁদের বিবেক চক্ষু খোলতে না পারে। বিবেক চক্ষুর আলোয় যাতে দেখতে না পারেন অসৎ চক্রান্তের জাল। মানুষকে বিভ্রান্ত করতে নানান ঢংগে মিথ্যা প্রচার প্রচারণার জন্য কৌশলের আশ্রয় নেন। ব্যক্তিকানা ও ব্যক্তিদাসরা সাময়িক ফায়দার লোভে মিথ্যা প্রচার প্রচারণায় সামিল হন। এই অপপ্রচারের জন্য তারা বেছে নেন সামাজিক মাধ্যমগুলো।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই, নিজেদের বা নিজেকে মহান নীতিবান আদর্শবাদী চরিত্রবান হিসেবে জাহির করেন। নীতিবাক্য দিয়ে নীতির বয়ান করেন। আবার যখন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধূর্ত অসৎ চরিত্রের মানুষের পক্ষে জয়গান করেন, তখন তাঁদের বিবেক কোথায় থাকে। তখন তাঁদের বিবেকে কি বাঁধে না সত্যকে আড়াল করে মিথ্যার গুণগান করতে। আমরাও নিরবে মিথ্যাচারকে সমর্থন করি। মিথ্যাচারের প্রতিবাদ হয়না বলেই, মিথ্যা সত্যে পরিণত হয়ে যায়। মিথ্যাচারের মাত্রা এতো বেশী হয়। সত্যের সামনে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়ায়। নিজেদের মুখোশপরা চরিত্র নিয়ে অনেকে অপবিত্র ব্যক্তিসত্তার, সমাজ বিরোধী- অন্যায়কারী, আইন লঙ্গনকারিদের পক্ষে অবস্থান করেন। প্রচার প্রচারনা চালান। এখানে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’র কবিতার একটি পংক্তি খুবই মানানসই, ‘অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে তব ঘৃণা যেন তারে তৃণসম দহে’। নেশাখোর মাতাল হয়ে, হেরেম খানায় যুবতী তরুণীদের লজ্জার নেকাব খোলে চরিত্রবান হওয়া যায়না। অযোগ্যকে যোগ্য, চরিত্রহীনকে- চরিত্রবান, অসামাজিকতায় লিপ্ত ব্যক্তিকে- সমাজসেবী, পরসম্পদ আত্নসাতকারীকে- দানশীল, পরোপকারী শিক্ষানুরাগী উপাধীতে আখ্যায়িত করা কোন নীতি নৈতিকতার আওতায় পড়ে? এসবতো একমাত্র ভণ্ডামি নষ্টামি মিথ্যাচারের আওতায় পড়ে। সামাজিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন, তখন বুঝে নিতে হয়, এরাই সুবিধাবাদী, ধূর্ত ধান্ধবাজ, অসৎ চরিত্রের পূজারী। ন্যায় অন্যায়, সত্য মিথ্যা বুঝার বিবেক তাঁদের নেই। এরা বিবেকহীন। সত্যের দুশমন। সত্যবাদীতার শত্রু। মিথ্যাবাদীদের বন্ধু। সময় সময় যারা গিরগিটির মতো রং রুপ চরিত্র বদলায়। অদর্শ বদলায়- নিজেদের স্বার্থে নিজের দেয়া প্রতিশ্রুতির অঙ্গীকার থেকে দূরে সরে যায়। স্বার্থের জন্য বানরের মতো লাফিয়ে লাফিয়ে ওপর নীচ ওঠা নামা করে। সময় সময় মত বদলায়। কোন কিছুতে স্থির থাকেনা। স্বাভাবিক ভাবেই মানব সমাজে ওইসব ব্যক্তি চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন ওঠতেই পারে। তাঁদের আসল মতলব নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়া অবাস্তব কিছু নয়। নানান মহল থেকে প্রশ্ন ওঠে, এরা কারা? মিথ্যাকে সত্য বানিয়ে সিন্ডিকেট প্রচারণার উদ্দেশ্য কি? চোখকান খোলে তথ্য তালাশ করলে সহজেই উত্তরগুলো ভেসে আসতে সময় লাগেনা। ওদের পক্ষে সামাজিক মাধ্যমে ওকালতি করতে অনেকে না বুঝেও আসেন। তাঁরা হয়তো জানেনা, অসৎ ধূর্ত চরিত্রের মুখোশপরা ধান্ধাবাজ চক্রের অনৈতিক কর্মকাণ্ড সাদা কালোতে প্রকাশ পেলে রাষ্ট্রের আইন ঘুমিয়ে থাকবেনা।

নৈতিকতার নীতি কথা আওড়ানো অনেককে যখন দেখি বিবেকের চোখকান বন্ধ করে, অন্ধ ভক্ত হয়ে, অন্যায়কারীর জয়গান করেন। সত্যকে গোপন করে, সমাজের অতি সাধারণ সহজ সরল মানুষের মধ্য অপপ্রচার চালান। বিভ্রান্তি ছড়ান। তাঁদেরকে জ্ঞানপাপীর অপবাদ দেয়াটাও ভুল হবে। এরা সমাজের দুষমন। এরা নির্বুদ পাপিষ্ঠদদের সহযোগী। মিথ্যার লালনকারী। অন্যায় ও অন্যায়কারী লম্পট স্বার্থবাদী অসচ্চরিত্রের- ধান্ধাবাজদের- পক্ষাবলম্বী। সাধারণ মানুষের স্বাধীন মৌলিক চিন্তা বিরোধী। সম্ভাবনাময় সমাজপ্রগতির সোনালী ভবিষ্যতের স্বপ্নভঙ্গকারী। বিভ্রান্তকারিদের নানান রং ঢংগের প্রচার শুনা যায়। বাস্তবতার নিরিখে, সৎ সত্যবাদী সচেতন মানুষেরা এসব কথার সত্যতা খোঁজে পায়না। পরস্ত্রী লোভী, হেরেমখানায় লজ্জার নেকাব খোলে, শরাবের বোতলে নেশার নহর তোলা ব্যক্তিরা সৎচরিত্রের হয় কিনা। পরসম্পদ আত্নসাতে জবরদস্তিতে শীর্ষে থাকা পরিচ্ছন্ন লেবাসে মুখোশ পরিহিত সমাজ শত্রুরা সমাজসেবী হতে পারেনা। এরা সমাজের ভালো মানুষ নয়। শিক্ষা সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার নামে মুনাফাখোরী বানিজ্য যারা করেন, এরা ধান্ধাবাজ।

সত্য গোপন করে, তথ্য গোপন করে, অন্যায় ও অন্যায়কারীর পক্ষাবলম্বী হওয়াও অপরাধের অাওতায় পড়ে। সত্য গোপন করে কালোবাজারিকে সমাজসেবী ভালো মানুষের তকমা পরিয়ে সমাজের মানুষকে বিভ্রান্ত করা থেকে বিরত থাকুন। বিভ্রান্তি ছাড়াবেন না। এতে করে সমাজের বৃহৎ জনগোষ্ঠী অার্থ সামাজিক অবস্থা ক্ষতির সম্মুখিন হয়। সত্য গোপনের সহায়তাকারীরাও দায় এড়াতে পারেনা। সৎ সাহস থাকলে সত্য বলুন। সত্য লিখুন। সত্যের প্রকাশ করেন দেশ ও জাতির সামনে। সত্য প্রকাশিত হলে সমাজ উপকৃত হবে। মানুষ অপরাধীদের চিহ্নত করতে পারবে। মানুষ অন্তত এদের দারা প্রতারিত হবেনা। আপনাদের সন্তান থেকে শুরু করে, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মও স্বার্থান্বেষী ধান্ধাবাজ চক্রের হিংস্রতা থেকে রক্ষা পাবে কিনা চিন্তা করেন।

আজকাল সমাজে সস্তায় দালাল ও ভাঁড় ভাড়ায় পাওয়া যায়। দালাল ভাঁড়েরা, তাঁদের পূর্বসূরিদের ভাঁড়গিরিকে ঐত্যিহ্য মনে করেন। দালালি চাটুকারিতা ভাঁড়ামীর মিথ্যা প্রচারের জন্য এরা সমাজে নিন্দিত হলেও তাঁদের কিছু যায় অাসেনা। এদের অন্তত, নীতি চরিত্র, আদর্শের মূল্যবোধের নৈতিকতার নসিহত অাওড়ানোর অাগে নিজেদের চরিত্র ঠিক করা দরকার। মূল্যবোধের আর নৈতিকতার উপদেশবাণী প্রসব করে শরাব খানায় তরল নেশার মাতলি করে হেরেমখানায় রাত্রিযাপন সঠিক কিনা? আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে জিজ্ঞাসা করেন। সঠিক পথে না অঠিক পথে অাছেন। যদি সঠিক পথে না থাকেন সমাজের মানুষের সামনে নীতি বাক্য- নৈতিকতার নসিহত প্রসব থেকে বিরত থাকুন। এসব অআওড়াতে আসবেন না। আপনাদের মুখে এইসব মানায়না। ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয় ভোটারদের কাছে ভোট চাইতে যাবেন না। অপনারা ভোটের উপযোগী না। সমাজের উচ্ছিষ্ট কৃট হয়ে মুখোশের অআড়ালে কতদিন থাকবেন। চরিত্র বদল করে মানুষের সামনে আসেন। নিজের ও নিজেদের ভাল হবে। বেশী দিন বাঁচবেন। সমাজ ও মানুষেরা উপকৃত হবেন। পরিশেষে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’র কবিতার ভাষায় বলি, অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে তব ঘৃণা যেন তারে তৃণসম দহে।

লেখক: সাংবাদিক ও সমাজ অনুশীলক


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

"এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত ও লেখার দায় লেখকের একান্তই নিজস্ব " -সম্পাদক