সোমবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
কসবা-খাসা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ইউকের ত্রি-বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত  » «   যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের নারী শিক্ষার্থীদের ভিসা ও দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক বৃত্তি বাড়ানোর আহ্বান  » «   আজিজুর রহমান চৌধুরি স্মারক সম্মাননায় ভূষিত বাংলাদেশের স্থপতি ও লেখক, নাট্যকার শাকুর মজিদ  » «   কেসি সলিসিটর্সের দশক পূর্তি উদযাপন  » «   বঙ্গবন্ধু স্কলারশিপ আন্তর্জাতিক অঙ্গণে বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রতিচ্ছবি  » «   লীলা নাগের স্মৃতি রক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যোগ নেবে  » «   ফুসফুস-ক্যান্সার পরীক্ষার জন্য মাইল এন্ড লেজার সেন্টারে স্থাপন করা হচ্ছে বিশেষ ‘স্ক্রিনিং মেশিন’  » «   অলি-মিঠু-টিপু প্যানেলের পরিচিতি ও ইশতেহার ঘোষণা  » «   ২০ নভেম্বর লন্ডনের রয়েল রিজেন্সিতে ৫ম বেঙ্গলী ওয়েডিং ফেয়ার  » «   একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির যুক্তরাজ্য শাখা গঠিত  » «   টি আলী স্যার ফাউন্ডেশন সম্মাননা পেলেন সিলেটের ২৪গুণী শিক্ষক  » «   নওয়াগ্রাম প্রগতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফুল, ফল ও ঔষধি বৃক্ষরোপণ  » «   আলোকিত মানুষ শিক্ষক মো. সমছুল ইসলাম এর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী  » «   সিলেটের বিয়ানীবাজারে একটি পরিত্যক্ত কূপে তাজা গ্যাসের মজুদ আবিষ্কৃত  » «   বাংলাদেশী কারী  ব্রিটেনের প্রবৃত্তি ও খাবার সংস্কৃতিতে অনন্য  অবদান রাখছে  » «  
সাবস্ক্রাইব করুন
পেইজে লাইক দিন


সিলেটের খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এক.

সিলেট বিভাগ (সাবেক সিলেট জেলা) বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত একটি প্রশাসনিক অঞ্চল, যা সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলা নিয়ে গঠিত। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে থেকেই সিলেট জেলা হিসেবে চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরবর্তীকালে সরকারের প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস কার্যক্রমের সূত্রে ১৯৯৫ সালের ২৯ জুন, বৃহস্পতিবার চারটি জেলা নিয়ে বাংলাদেশের ষষ্ঠ বিভাগ হিসেবে সিলেট গঠিত হয়। এই বিভাগের মোট আয়তন ১২,৫৯৫.৯৫ বর্গকিলোমিটার।

দুই.

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ, দেশের সাড়ে সাত কোটি মুক্তিপাগল মানুষ দলমত-নির্বিশেষে (দু-একজন ব্যতিক্রম ছাড়া) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে যাঁর যা ছিল, তা নিয়েই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। নয় মাসব্যাপী এক রক্ষক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ১৬ ডিসেম্বর ছিনিয়ে এনেছিলেন স্বাধীনতার লাল সূর্য। এ যুদ্ধ জয়ের মধ্য দিয়েই বিশ্বসভায় একটি স্বতন্ত্র জাতিসত্তা হিসেবে বাংলাদেশের অস্তিত্ব স্বীকৃত হয়। মুক্তিযুদ্ধ জাতিকে দান করেছে ঐতিহ্যবাহী বীরত্বপূর্ণ ইতিহাস ও রাষ্ট্রীয় পরিচিতি। সিলেটবাসী সংগ্রামী ঐতিহ্যের হাত ধরে এই চূড়ান্ত সশস্ত্র সংগ্রামে সর্বতোভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের রাত থেকেই প্রতিরোধের জন্য প্রস্তুত ছিল সিলেট। ২৫ মার্চ দিবাগত রাত থেকে ১৬ ডিসেম্বরের বিজয় পর্যন্ত দেশে-বিদেশে সিলেটবাসীর অবদান ছিল অনন্য।

মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা সিলেট অঞ্চলেই হয়েছিল। উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সিলেটের কৃতীসন্তানেরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এ বিষয়ে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো ৪ এপ্রিল তেলিয়াপাড়ায় লে. কর্নেল আবদুর রব, লে. কর্নেল সালেহ্উদ্দিন মোহাম্মদ রেজা, মেজর কাজি নুরুজ্জামান, মেজর খালেদ মোশাররফ, মেজর নুরুল ইসলাম, মেজর শাফায়াত জামিল, মেজর মইনুল হোসেন চৌধুরী এবং অন্যান্য সেনা অফিসার একত্র হয়ে কর্নেল এম এ জি ওসমানীর সভাপতিত্বে সর্বসম্মতিক্রমে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সংগঠিতভাবে সশস্ত্র যুদ্ধের জন্য ‘মুক্তিবাহিনী’ গঠন করেন। এর মাত্র ছয় দিন পর, অর্থাৎ ১০ এপ্রিল আগরতলায় প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার গঠনের কথা ছিল। এই একই সভায় চারজন আঞ্চলিক কমান্ডারও নিযুক্ত করা হয়। তাঁরা ছিলেন মেজর কে এম সফিউল্লাহ, মেজর জিয়াউর রহমান, মেজর খালেদ মোশাররফ এবং মেজর আবু ওসমান চৌধুরী। কিন্তু পরে এ সরকার গঠিত হয় ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায়। বৈদ্যনাথতলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর এবং প্রবাসী সরকার তখন থেকে মুজিবনগর সরকার নামেই পরিচিতি লাভ করে। অস্থায়ী মুজিবনগর সরকারের প্রধান সেনাপতি হিসেবে এম এ জি ওসমানী নিয়োগ লাভ করেন। তখন প্রথমে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের উপদেষ্টা এবং পরবর্তীকালে চিফ অব আর্মি স্টাফ হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন কর্নেল (অব.) এম এ রব এমএনএ (খাগাউড়া, বানিয়াচং)। সহকারী চিফ অব স্টাফ কর্নেল (অব.) এ আর চৌধুরী, ৪ নম্বর সেক্টরের কামান্ডার মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত (চুনারুঘাট হবিগঞ্জ) এবং চিফ অব স্টাফের দপ্তরের স্টাফ অফিসার মেজর আবদুল ফাত্তাহ চৌধুরী (বিয়ানীবাজার)। সামরিক বিভাগ থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন মেজর মইনুল হোসেন চৌধুরী (শিওরখাল, বালাগঞ্জ), ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আজিজুর রহমান (ছত্রিশ, গোলাপগঞ্জ), ক্যাপ্টেন এজাজ আহমদ চৌধুরী (ফুলবাড়ী, গোলাপগঞ্জ), কর্নেল এম এম কে জেড জালালাবাদী, মেজর জেনারেল হারুন আহমদ চৌধুরী (চারখাই, বিয়ানীবাজার), লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিরঞ্জন ভট্টাচার্য, লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাহের উদ্দিন আখঞ্জি, ক্যাপ্টেন (অব.) এম এ মোতালিব, সৈয়দ মঈন উদ্দিন আহমেদ (নিজামপুর, হবিগঞ্জ), লেফটেন্যান্ট এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী (বরইকান্দি, দক্ষিণ সুরমা), লেফটেন্যান্ট ইমাম-উজ-জামান (বিয়ানীবাজার), লেফটেন্যান্ট শমসের মবিন চৌধুরীসহ (ভাদেশ্বর, গোলাপগঞ্জ) আরও অনেকে। এ ছাড়া ইপিআর ও পুলিশ বাহিনীর অনেক সদস্যও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

এ সময় স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের বেসামরিক সেক্রেটারিয়েটে উপসচিব ছিলেন তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (নাটেশ্বর, বিয়ানীবাজার)। পরে তিনি সামরিক বাহিনীতে যোগ দেন। আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব নিয়োগ দেয়া হয় দিনাজপুর জেলার তৎকালীন জেলা জজ আব্দুল হান্নান চৌধুরীকে (কুবাজপুর, জগন্নাথপুর)। কিন্তু তিনিও যুদ্ধক্ষেত্রেই ছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় উপসচিব হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন খসরুজ্জামান চৌধুরী (আষ্টঘরী, বিয়ানীবাজার)।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে নিবার্চিত বৃহত্তর সিলেটের এমএনএ ও এমপিএ সবাই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে দেওয়ান ফরিদ গাজী ছিলেন মুজিবনগর প্রশাসনের নর্থ-ইস্ট জোনের চেয়ারম্যান। তিনি ৪ ও ৫ নম্বর সেক্টরের অধিনায়কের রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং বৃহত্তর সিলেট ও কিশোরগঞ্জের মুক্তাঞ্চলের প্রশাসকেরও দায়িত্ব পালন করেন। আব্দুস সামাদ আজাদ বাংলাদেশের পক্ষে ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি হিসেবে বুদাপেস্ট শান্তি সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পূর্ব ইউরোপের দেশসহ বিভিন্ন দেশের সমর্থন আদায়ে নিরলসভাবে কাজ করেন। হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেন।

এর বাইরেও মুক্তিযুদ্ধে সিলেটের আরো অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের অবদান রয়েছে। তাঁদের মধ্যে অক্ষয় কুমার দাস, এ এইচ সা’দত খান, বরুণ রায়, বিধু ভূষণ দাশগুপ্ত, ইসমত আহমদ চৌধুরী, মোয়াজ্জেম আহমদ চৌধুরী, এ কে লতিফুর রহমান চৌধুরী (কমান্ড্যান্ট মানিক চৌধুরী), গুলজার আহমদ, ইকবাল আহমদ চৌধুরী, মাহবুবুর রব সাদী, সিরাজ উদ্দিন আহমদ, বিজন বিহারী দাস, আকাদ্দস সিরাজুল ইসলাম, জাকির খান চৌধুরী প্রমুখ।

আমাদের মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে সিলেটের যুব ও ছাত্রসমাজ বীরত্বের পরিচয় দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয় দেওয়ান নুরুল হোসেন চঞ্চল, আক্তার আহমদ, ইনামুল হক চৌধুরী, ইলিয়াস আহমদ চৌধুরী, সদর উদ্দিন চৌধুরী, মকসুদ ইবনে আজিজ লামা, আশরাফ আলী, শাহ আজিজুর রহমান, বাবরুল হোসেন বাবুল, ইফতেখার হোসেন শামীম, বেদানন্দ ভট্টাচার্য, নূরুজ্জামান, সাঈদুর রহমান খান মাহতাব, নূরুল ইসলাম, শোয়েব আহমদ চৌধুরী, পুরঞ্জয় চক্রবর্তী, নুরুল ইসলাম নাহিদ, সৈয়দ মহসীন আলী, রফিকুল হক, আবদুল বাছিত, মাসুক উদ্দিন আহমদ, বন্ধু গোপাল দাস, ইয়ামীন চৌধুরী এবং ম আ মুক্তাদিরের নাম।

তিন.

মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালে অস্থায়ী মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপ্রধান এক আদেশবলে সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ খেতাব প্রবর্তন করেন। খেতাবগুলো ছিল ১. বীরশ্রেষ্ঠ, ২. বীর-উত্তম, ৩. বীরবিক্রম ও ৪. বীরপ্রতীক। যুদ্ধ চলাকালে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে বাংলাদেশ সরকার তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মেডেল বা খেতাব না দিয়ে শুধু পত্রের মাধ্যমে সাহসিকতার খেতাবে ভূষিত করে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদান, অসম সাহসিকতা ও অনন্য ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদানের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক আদেশ জারি করে। সে জন্য ১৯৭২ সালের প্রথম দিকে সেক্টর অধিনায়কদের তাঁদের অধীনস্ত অফিসার, সেনা ও বেসামরিক মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসিকতার বিষয়ে লিখিত আকারে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য বলা হয়। যুদ্ধের সময়ও কিছু কিছু প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছিল। স্বাধীনতার পরপরই ঢাকার মিন্টো রোডের একটি বাড়িতে মুক্তিবাহিনীর প্রধান কর্নেল এম এ জি ওসমানী থাকতেন। সেখানে কয়েকজন সেক্টর কমান্ডার মিলে সাহসিকতার খেতাবের তালিকা প্রস্তুত করেন। কর্নেল ওসমানীর স্বাক্ষরে প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুমোদনের পর তালিকাটি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গেজেট নোটিফিকেশন নম্বর-৮/২৫/ডি-১/৭২-১৩৭৮-এর মাধ্যমে ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে বিভিন্ন খেতাব প্রদান করে সম্মানিত করা হয়। এর মধ্যে ৭ জন বীরশ্রেষ্ঠ, ৬৮ জন বীর-উত্তম, ১৭৫ জন বীরবিক্রম এবং ৪২৬ জন বীরপ্রতীক খেতাবে ভূষিত হন। এর মধ্যে ১৬৫ জন শহিদ মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন এবং ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা ডাবল খেতাবে ভূষিত হন।

১৫ জন সেক্টর কমান্ডারের মধ্যে শুধু ৮ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং ৯ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার মেজর এম এ জলিল ছাড়া বাকি ১২ জন বীর-উত্তম এবং ১ জন বীরপ্রতীক খেতাবে ভূষিত হন। সেই সাথে স্বাধীনতাযুদ্ধে অবদানের জন্য ২ জন মহিলা, ১ জন বিদেশি এবং ২ জন অবাঙালি মুক্তিযোদ্ধাও খেতাব পান। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি গণবাহিনী থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন পদে ১ জন, সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট পদে ৬১ জন, চিকিৎসক হিসেবে ২ জন, মোট ৬৪ জন যোদ্ধা এবং ইপিআর, পুলিশ ও গণবাহিনী থেকে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন রেজিমেন্টে যুদ্ধকালীন নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

চার.

২০০৪ সালের ১১ মার্চ, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় নম্বর মুবিন/প্রঃএ/মুক্তিযোদ্ধা/গেজেট/২০০৩/৪৭৯ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জঁষবং ড়ভ ইঁংংরহবংং-এর ঝপযবফঁষব ও অষষড়পধঃরড়হ ড়ভ ইঁংংরহবংং-এর ৪৩ (৬)-এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে তৎপরিপ্রেক্ষিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা নির্ভুল ও সঠিকভাবে চূড়ান্তকরণের মাধ্যমে সরকার আরেকটি গেজেট প্রকাশ করে।

স্বাধীনতাযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত মোট ৬৭৬ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে সিলেটের ছিলেন ৪৮ জন। এর মধ্যে বীর-উত্তম ৬ জন, বীরবিক্রম ১৮ জন এবং বীরপ্রতীক ২৪ জন। সুবেদার আফতাব আলী একই সঙ্গে বীর-উত্তম ও বীরপ্রতীক এবং আব্দুল মালেক চৌধুরী বীরবিক্রম ও বীরপ্রতীক খেতাব অর্থাৎ ডাবল খেতাবে ভূষিত হন।

বীর-উত্তম : স্বাধীনতাযুদ্ধে বীরত্ব প্রদর্শনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় উপাধি। ৬৮ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে মরণোত্তর খেতাব পান মোট ২১ জন। বাকি ৪৭ জন জীবদ্দশাতেই গ্রহণ করেন এই সম্মাননা। সিলেটের ৬ জন মুক্তিযোদ্ধা বীর-উত্তম খেতাবে ভূষিত হন।

১। মোহাম্মদ আব্দুর রব : মোহাম্মদ আব্দুর রব ১৯১৯ সালের ১ জানুয়ারি হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার খাগাউড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ৮।

২। চিত্তরঞ্জন দত্ত : চিত্তরঞ্জন দত্ত (সি আর দত্ত) ১৯২৭ সালের ১ জানুয়ারি আসামের শিলংয়ে জন্মগ্রহণ করেন। পৈতৃক নিবাস হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার মিরাশি গ্রামে। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ১১।

৩। হারুন আহমেদ চৌধুরী : হারুন আহমেদ চৌধুরীর জন্ম ১৯৪৫ সালের ৬ নভেম্বর সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই গ্রামে। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ২২।

৪। মোহাম্মদ আজিজুর রহমান : মোহাম্মদ আজিজুর রহমান ১৯৪৫ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। পৈতৃক নিবাস সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নের ছত্রিশ গ্রামে। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ৩২।

৫। আফতাব আলী : আফতাব আলী ১৯২৫ সালের ১ ডিসেম্বর সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাদেশ্বর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বীর-উত্তম খেতাব নম্বর ৩৬ এবং বীরপ্রতীক নম্বর ৩১৩।

৬। শফিকউদ্দিন চৌধুরী : শফিকউদ্দিন চৌধুরীর জন্ম ১৯৪৫ সালে সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার রণকেলী গ্রামে। তাঁর খেতাব নম্বর ৫২।

 

বীরবিক্রম : এটি বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় উপাধি। মোট ১৭৫ জন মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে ৮২ জন যোদ্ধাকে মরণোত্তর এবং ৯৩ জনকে জীবিত অবস্থায় বীরবিক্রম খেতাবে সম্মানিত করা হয়। সিলেটে ১৮ জন মুক্তিযোদ্ধা বীরবিক্রম খেতাবে ভূষিত হন।

১। মইনুল হোসেন চৌধুরী : জন্ম ১৯৪৩ সালের ১৫ ফেব্র“য়ারি সিলেট জেলার বালাগঞ্জ উপজেলার শিওরখাল গ্রামে গ্রহণ। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ৭৯।

২। এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী : এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বরইকান্দি ইউনিয়নের লাউয়াই উম্মরকবুল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ৯০।

৩। ইমাম-উজ-জামান : ইমাম-উজ-জামান ১৯৫২ সালের ২৪ মার্চ সিলেট জেলার বিয়ানীবাজারে জন্মগ্রহণ করেন। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ৯১।

৪। শমসের মবিন চৌধুরী : শমসের মবিন চৌধুরী ১৯৫০ সালের ১ মে সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের দক্ষিণভাগ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ৯৬।

৫। আব্দুল মালেক চৌধুরী : আব্দুল মালেক চৌধুরী ১৯২৮ সালের ১৬ জানুয়ারি মৌলভীবাজার জেলার সদর উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের ত্রৈলক্ষ বিজয় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গেজেটে তাঁর বীরবিক্রম খেতাব নম্বর ১১২ এবং বীরপ্রতীক খেতাব নম্বর ৪৩৭।

৬। মো. তাহের আলী : মো. তাহের আলী ১৯৪৫ সালের ৫ জুন সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার কিসমত মাইজভাগ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ১২৯।

৭। আব্দুর রহমান: আব্দুর রহমান আজাদ ১৯৩৭ সালের ১২ মে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের বড়ধলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ১৩৫।

৮। আব্দুল হক : আব্দুল হক ১৯৫২ সালে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার শাহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ১৫৭।

৯। আব্দুল খালেক : আব্দুল খালেক ১৯৪৬ সালে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের খৈগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ১৬১।

১০। রমিজ উদ্দিন : রমিজ উদ্দিন ১৯৫০ সালে হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার জগন্নাথপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ১৬৩।

১১। ফখরুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী : ফখরুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ১৯১৮ সালে সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার বারকোট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ১৬৬।

১২। জুম্মা মিয়া : জুম্মা মিয়া ১৯১৬ সালে সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের হেতিমগঞ্জ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ১৭২।

১৩। আরব আলী : আরব আলী ১৯৩৭ সালের ১ জুলাই সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোল¬ারগাঁও ইউনিয়নের লতিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ১৭৮।

১৪। তৌহিদ আলী : তৌহিদ আলী ১৯৫২ সালে সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মণাবন্দ ইউনিয়নের মুকিতলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ১১২।

১৫। মাহমুদ হোসেন : মাহমুদ হোসেন সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম ইয়াকুব আলী। গণবাহিনী থেকে তিনি মুক্তিযুদ্ধে ৪ নম্বর সেক্টরে অংশগ্রহণ করেন। সম্মুখযুদ্ধের একপর্যায়ে শহিদ হন তিনি। গেজেটে তঁাঁর বীরবিক্রম খেতাব নম্বর ২২৭।

১৬। নীলমণি সরকার : নীলমণি সরকার ১৯৫০ সালে সিলেট জেলার সদর উপজেলার কুচাই ইউনিয়নের পালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ২২৮।

১৭। জগৎজ্যোতি দাস : জগৎজ্যোতি দাস ১৯৪৯ সালের ২৬ এপ্রিল হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ উপজেলার ইছবপুরের জলসুখার ইছবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ২২৯।

১৮। ইয়ামিন চৌধুরী : ইয়ামিন চৌধুরী ১৯৫০ সালের ১ নভেম্বর সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার রণকেলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ২৩১।

১৯। তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী : তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী ১৯৪৪ সালে সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই ইউনিয়নের নাটেশ্বর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ২৩৯।

 

বীরপ্রতীক : বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় খেতাব। স্বাধীনতাযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য ৪২৬ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বীরপ্রতীক খেতাবে সম্মানিত করা হয়। সিলেটে ২৪ জন মুক্তিযোদ্ধা বীরপ্রতীক খেতাবে ভূষিত হন।

১। মোহাম্মদ আব্দুল মতিন : মোহাম্মদ আব্দুল মতিন ১৯৪২ সালের ২৭ জানুয়ারি মৌলভীবাজার জেলার সদর উপজেলার আখাইলকুড়া ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ২৫১।

২। সৈয়দ মঈন উদ্দিন আহমেদ : সৈয়দ মঈন উদ্দিন আহমেদ হবিগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নের ফকিরাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ২৬১।

৩। রাসিব আলী : রাসিব আলী ১৯২৭ সালে সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ঘিলাছড়া ইউনিয়নের বাদেদেউলি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ৩১২।

৪। আব্দুল কুদ্দুস : আব্দুল কুদ্দুস ১৯৫৩ সালের ২৮ মার্চ হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার চুনারুঘাট ইউনিয়নের গোগাউড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ৪০০।

৫। রফিকুল ইসলাম : রফিকুল ইসলাম ১৯৫১ সালে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের হুগলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ৪০২।

৬। গোলাম মোস্তফা : গোলাম মোস্তফা ১৯২৮ সালে সিলেট জেলার সদর উপজেলার কালারুখা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ৪২৪।

৭। মকবুল আলী : মকবুল আলী ১৯৩২ সালে সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ফেন্সুগঞ্জ ইউনিয়নের নিজ ছত্তিশ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ৪৩৯।

৮। ফজলুল হক : ফজলুল হক ১৯৪১ সালের ২১ জানুয়ারি সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের খাদিমান গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ৪৫২।

৯। আব্দুল ওয়াহিদ : আব্দুল ওয়াহিদ ১৯২৯ সালের ২৫ জুলাই সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বরইকান্দি ইউনিয়নের বরইকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ৪৬৬।

 

১০। শফিক উদ্দিন আহমেদ : শফিক উদ্দিন আহমেদ ১৯৪৯ সালের ২০ এপ্রিল মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের বর্ণি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ৪৬৭।

১১। আব্দুল মালেক : আব্দুল মালেক ১৯৫৩ সালের ১ ডিসেম্বর সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের নগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ৪৭১।

১২। রশিদ আলী : রশিদ আলী ১৯৩১ সালের ১০ মে সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মাইজগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মনসুর আলী এবং মাতা করিমন নেছা। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ৪৭৪।

১৩। নান্নু মিয়া : নান্নু মিয়া ১৯৪২ সালে সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার গোলাপগঞ্জ পৌরসভার দাড়িপাতন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ৪৮৬।

১৪। মোহাম্মদ আব্দুস সালাম : মোহাম্মদ আব্দুস সালাম ১৯৫২ সালের ৩০ জুন সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নের উত্তরভাগ বরায়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ৫৯১।

১৫। মাহবুবুর রব সাদী : মাহবুবুর রব সাদী ১৯৪১ সালের ১০ মে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ৬০১।

১৬। নূরউদ্দিন আহমেদ : নূরউদ্দিন আহমেদ ১৯৫২ সালের ৬ জুন হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের সাতাইহাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ৬০৩।

১৭। সিরাজুল ইসলাম : সিরাজুল ইসলাম ১৯৪৮ সালের ১৯ মার্চ সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার দেওকলস ইউনিয়নের আগ্নাপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ৬০৪।

১৮। মো. আব্দুল মজিদ : মো. আব্দুল মজিদ ১৯৫৪ সালের ১ নভেম্বর সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের টেংরাটিলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ৬০৫।

১৯। ফখরুদ্দিন চৌধুরী : ফখরুদ্দিন চৌধুরী ১৯৪৬ সালের ১১ নভেম্বর সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ৬০৬।

২০। এম এ হালিম : এম এ হালিম ১৯৫২ সালের ৩০ জুন সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের টেংরাটিলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ৩৫৭।

২১। ইনামুল হক চৌধুরী : ইনামুল হক চৌধুরী ১৯৪৮ সালে সিলেট জেলার বালাগঞ্জ উপজেলার দেওয়ানবাজার ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ৬০৮।

২২। মো. ইদ্রিস আলী : মো. ইদ্রিস আলী ১৯৫২ সালের ৫ মে সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের বড়খাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গেজেটে তাঁর খেতাব নম্বর ৬০৯।

 

আনোয়ার শাহজাহানঃ লেখক ও সাংবাদিক। মুক্তিযুদ্ধ ও ইতিহাস নিয়ে লিখেছেন দুই দশকের বেশি সময় থেকে। প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৬। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- গোলাপগঞ্জের প্রথম লিখিত ইতিহাস গ্রন্থ ‘গোলাপগঞ্জের ইতিহাস ও ঐতিহ্য’ , সিলেটের খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে প্রথমবারের মত প্রকাশিত গ্রন্থ ‘সিলেটের খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা, সহ রাষ্ট্রীয় খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে দুইখন্ডে প্রকাশিত ‘স্বাধীনতাযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা’।

 

 

 

 


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন