চিকিৎসার উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নিতে যে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা হয়েছে, সেটি আগামী মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) সকালে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি পেয়েছে।
রোববার দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) একজন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, জার্মানভিত্তিক এয়ারলাইন্স এফএআই অ্যাভিয়েশন গ্রুপ শনিবার তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে যে আবেদন করেছিল, বাংলাদেশ সে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকাল ৮টায় অবতরণের সময়সূচি দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, চাইলে সেদিন রাত ৯টায় উড়োজাহাজটি ঢাকা ত্যাগ করতে পারবে—এমন সময়ও আপাতত নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে শনিবার এফএআই অ্যাভিয়েশন গ্রুপ যে আবেদনে মঙ্গলবার ঢাকায় নেমে পরের দিন বুধবার লন্ডনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার সূচি চেয়েছিল, সেটিই বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
তবে এ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের আগমন ও বিএনপি চেয়ারপারসনকে নিয়ে লন্ডনে রওনা হওয়ার পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা এবং মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর।
প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে কাতার আমিরের বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে শুক্রবার ভোরে লন্ডনে রওনা হবেন বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। তবে পরে ‘কারিগরি ত্রুটির কারণে’ সেই উড়োজাহাজ ঢাকায় পৌঁছাতে দেরি হবে বলে বিএনপি জানায়।
এরপর শুক্রবার দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, কাতার আমিরের বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আর আসছে না; বরং তিনি জার্মানি থেকে ভাড়া করে একটি নতুন এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠাবেন।
সেটি কবে ঢাকায় পৌঁছাবে এবং খালেদা জিয়াকে কবে লন্ডনে নেওয়া হবে—এ বিষয়ে এখনো বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কিছু জানানো হয়নি।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড শনিবার জানায়, বিএনপি চেয়ারপারসন এখনো বিমানযাত্রার সক্ষমতা অর্জন করেননি। সেজন্যই তার লন্ডনযাত্রায় দেরি হচ্ছে।
তবে খালেদা জিয়া ৯–১০ ডিসেম্বরের দিকে ওই সক্ষমতা অর্জন করতে পারেন বলেও সেদিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে আভাস দেন একজন চিকিৎসক।
এই আভাসের মধ্যেই এবার ৯ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটির ঢাকায় আসার আবেদনের খবর এসেছে।
ঢাকার কাতার দূতাবাসের তথ্যমতে, জার্মানির নুরেমবার্গভিত্তিক ‘এফএআই এভিয়েশন গ্রুপ’ থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ভাড়া নেওয়া হয়েছে। এটি বোম্বার্ডিয়ার চ্যালেঞ্জার (সিএল–৬০) সিরিজের দ্বৈত ইঞ্জিনের একটি জেট উড়োজাহাজ, যেখানে অ্যাম্বুলেন্স সেবার সব সুবিধাই যুক্ত আছে।
সিরিয়াল নম্বর অনুযায়ী, উড়োজাহাজটি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ২০১৮ সালে সরবরাহ করা হয়েছিল।
এফএআই এভিয়েশন গ্রুপের ওয়েবসাইটে বলা আছে, তাদের এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভেন্টিলেটর, মনিটরিং ইউনিট, ইনফিউশন পাম্প, ওষুধপত্র, অক্সিজেন সরবরাহ এবং অন্যান্য আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম রয়েছে।
উড়োজাহাজটিতে থাকবেন অভিজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স এবং প্যারামেডিকস, যারা আকাশে রোগী পরিবহনে বিশেষ দক্ষ।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। সেবার তিনি কাতারের আমিরের ব্যক্তিগত বহরের একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভ্রমণ করেছিলেন।
আরও পড়ুন: খালেদা জিয়া ‘বিমান ভ্রমণে সক্ষম নন’, মত মেডিকেল বোর্ডের
-
আরব আমিরাতে বাংলাদেশিসহ ৩৫ জন গ্রেপ্তার
-
শব্দের চেয়ে ১৩ গুণ দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরায়েলে ইরানের হামলা, দুবাই বিমানবন্দরে ফ্লাইট স্থগিত
-
অস্কারে সেরা সিনেমা ডিক্যাপ্রিওর ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’
-
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রকাশ্যে গুলি: কলেজছাত্রকে হত্যা
-
৪২ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রশাসক বসালো সরকার