ঢাকা ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ
ইংল্যান্ডে স্কুলের খাবারে ডিপ ফ্রায়েড ফুড নিষিদ্ধ, নতুন নিয়ম ২০২৭ থেকে মিষ্টি খাবার কমালেও কমে না লোভ বা স্বাস্থ্যঝুঁকি: গবেষণা দুবাইতে বিগ টিকিটে লাখপতি প্রবাসী রফিকুল মালয়েশিয়ায় ৩৬৪ বাংলাদেশি আটক, বৈধতার প্রশ্ন টরন্টোতে প্রবীণদের জন্য ডিজিটাল স্কিলস ও অনলাইন সেফটি সেমিনার যুক্তরাজ্যের প্রবাসীরা কেন হজে যান বাংলাদেশ হয়ে, ঝুঁকি কোথায় আ.লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন নিয়ে রিট, উত্থাপনের সুযোগ না দিয়েই খারিজ মেটারনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম ও ফান্ডরেইজিং নিয়ে রুকন ফাউন্ডেশনের সভা যুক্তরাজ্যের সেকেন্ডমেন্ট ওয়ার্কার ভিসা: কারা পাবেন, কীভাবে আবেদন সেপ্টেম্বরে আবারও গরমের দাপট, সোমবার লন্ডনে ২৫ ডিগ্রি যুক্তরাজ্যে গ্র্যাজুয়েট চাকরির শূন্যপদ নেমেছে এক দশকের সর্বনিম্নে লন্ডনের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করেও ১০০ আবেদনে চাকরি নেই ২০২৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটি কোলা বাড়বে ৩.৫% রিফর্ম ইউকেকে রেকর্ড ৩৬০ কোটি টাকার অনুদান ক্রিপ্টো ধনকুবেরের এবার সরাসরি আরব আমিরাতে গিয়ে চাকরি খোঁজার সুযোগ গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিল, ৩২ জনকে গ্রেপ্তারের দাবি পুলিশের ব্রিটিশ-বাংলাদেশ ট্রেড সেন্টার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা বিবিসিসিআইয়ের যুক্তরাজ্যে তরুণদের জন্য নতুন কর্মঅভিজ্ঞতা প্রকল্প 'ওপেনিং শিফট' চালু যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স আশ্রয় চুক্তি: শত শত আশ্রয়প্রার্থীর হদিস নেই, শঙ্কায় শিশুরাও পর্যটন কর নিয়ে যুক্তরাজ্যে ভীতি, প্রমাণ বলছে ভিন্ন কথা ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ২৫ মিনিট করতালি: কী আছে এই এআই-হত্যা প্রামাণ্যচিত্র ‘নাজা’য়! ইংল্যান্ডের হাসপাতালে অপেক্ষমাণ তালিকা ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ BFF সুপার কাপ ২০২৬: ১৩ সেপ্টেম্বর মাঠে নামছে ১৬ দল, গ্রুপ বিন্যাস চূড়ান্ত যুক্তরাষ্ট্রে এক সেমিস্টার পড়ার সুযোগ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের, YES প্রোগ্রামের বিস্তারিত প্রবাসীদের পাসপোর্ট-এনআইডি সেবা সহজ করতে সরকারের নতুন উদ্যোগ ডিমেনশিয়া রোগীর কেক লাগবে না বলায় বরখাস্ত কেয়ার নার্স, প্রকাশ পেল এনএইচএসের অপেক্ষমাণ তালিকার নতুন চিত্র ভেনিসে আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার প্রতিবাদে ইতালি বিএনপির সংবাদ সম্মেলন ইতালিতে ডাকাত রুখতে গিয়ে আহত বাংলাদেশিসহ ৪ ৫ বছরের ILR নিয়ে স্বস্তির ইঙ্গিত, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় যুক্তরাজ্য শিশুদের ফোনে অশ্লীল ছবি ঠেকাতে অ্যাপল-গুগলকে আইনে বাধ্য করছে যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যের প্রবাসীরা কেন হজে যান বাংলাদেশ হয়ে, ঝুঁকি কোথায়

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৪ এএম

যুক্তরাজ্যের প্রবাসীরা কেন হজে যান বাংলাদেশ হয়ে, ঝুঁকি কোথায়

যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি ও বাংলাদেশি- ব্রিটিশ দ্বৈত নাগরিকদের একটি বড় অংশ প্রতি বছর হজ পালনের জন্য বাংলাদেশি প্যাকেজে নিবন্ধন করেন। এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ শুধু খরচ নয়। সৌদি আরবের অফিসিয়াল Nusuk Hajj প্ল্যাটফর্ম থেকে নিজেদের চাহিদামতো হজে যাওয়ার অনুমোদন না পাওয়া।

সাশ্রয়ের চেয়েও বড় কারণ: নুসুক-এর অনিশ্চয়তা

যুক্তরাজ্যের অনেক প্রবাসী পরপর কয়েক বছর আবেদন করেও পরিবারের সবাইকে নিয়ে হজে যেতে পারেননি, কারণ নুসুক পরিবারের সব সদস্যের জন্য ভিসা দেয়নি।
এখানে ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার প্রশ্নও জড়িত- ইসলামি বিধান অনুযায়ী নারীদের জন্য হজে মাহরাম সঙ্গে থাকা বাধ্যতামূলক। নুসুক যদি পরিবারের সব সদস্যকে একসঙ্গে অনুমোদন না দেয়, তাহলে অনেকের জন্য হজে যাওয়াই কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে।
এ ছাড়া হজের মতো শারীরিক ও মানসিকভাবে কঠিন একটি ইবাদতে অনেকে একা যেতে ভয় পান, শারীরিকভাবে অক্ষম বোধ করেন, অথবা একা থাকার কারণে মানসিক নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।

আরেকটি বড় সমস্যা হলো অনিশ্চয়তা।নুসুক কখন অনুমোদন দেবে বা আদৌ দেবে কি না, তার কোনো নিশ্চয়তা থাকে না। এই অনিশ্চয়তার কারণেই অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি হজ ব্যবস্থাপনার দিকে ঝোঁকেন, যেখানে পরিবারসহ একসঙ্গে, পরিচিত কাফেলার সঙ্গে এবং তুলনামূলক নিশ্চিত সময়ে হজে যাওয়ার সুযোগ থাকে।

এসব কারণের পাশাপাশি আর্থিক হিসাবও একেবারে অগ্রাহ্য করা যায় না। যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশ হয়ে সৌদি আরব যাওয়ার সিদ্ধান্তে যুক্ত হয় একটি সম্পূর্ণ বাড়তি আন্তর্জাতিক যাত্রা। যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশ, এরপর বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরব। এবং হজ শেষে একই পথ উল্টো দিকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় বাংলাদেশে অবস্থানের খরচ, স্থানীয় যাতায়াত, খাবার, অতিরিক্ত লাগেজ ও কখনো হোটেল ব্যয়ও।

পাশাপাশি কর্মস্থল থেকে দীর্ঘ ছুটি নেওয়ার বাস্তবতাও যুক্তরাজ্যে কর্মরত প্রবাসীদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করে। তবে মূল কারণ নুসুকের অনুমোদন জটিলতা। অনন্যা সমস্যা ও পারিবারিক-ধর্মীয় বাস্তবতা বিষয়টি সৃষ্ট মূলত নুসুক থেকেই।অর্থাৎ যুক্তরাজ্য এর বিকল্প পথে হজে যাওয়ার চেষ্টা থেকে।

নিরাপত্তা প্রশ্নটিই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ

টাকার হিসাবের বাইরে গিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে নিরাপত্তার প্রশ্ন। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত একজন ব্যক্তি যদি বাংলাদেশি হজ কোটায় নিবন্ধন করে বাংলাদেশি Hajj visa নিয়ে সৌদি আরবে প্রবেশ করেন, তাহলে সৌদি ব্যবস্থাপনায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে একজন বাংলাদেশি হজযাত্রী হিসেবেই বিবেচিত হন। তাঁর ব্রিটিশ নাগরিকত্ব সেই মুহূর্তে প্রশাসনিকভাবে কার্যকর থাকে না। এখানেই মূলত ঝুঁকিটা তৈরি হয়।

হজের মতো শারীরিকভাবে কঠোর একটি ইবাদতে অসুস্থতা, দুর্ঘটনা বা জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন যেকোনো সময় দেখা দিতে পারে। বিশেষত বয়স্ক হজযাত্রীদের ক্ষেত্রে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন ওঠে-সংকটে পড়া একজন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি দ্বৈত নাগরিককে বাংলাদেশি হজ কাফেলা ও এজেন্সিই প্রাথমিক দায়িত্ব বহন করবে? নাকি যুক্তরাজ্যের কনস্যুলার সহায়তাও সমানভাবে পাওয়া যাবে? যেহেতু তিনি বাংলাদেশি ভিসা ও কোটার আওতায় সৌদি আরবে প্রবেশ করেছেন, তাঁর ভ্রমণ-নথি ও নিবন্ধনের পুরো ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ ও এজেন্সির সঙ্গে যুক্ত থাকে-যা জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তা পাওয়ার প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে।

পরিচয়ের টানাপোড়েন: ব্রিটিশ না বাংলাদেশি, সৌদি আইনে সিদ্ধান্ত কার হাতে

অসুস্থতা বা অন্য কোনো সংকটের মুখে দ্বৈত নাগরিকদের সামনে যে বিষয়টি সবচেয়ে স্পষ্টভাবে সামনে আসে, তা হলো এক ধরনের পরিচয়ের টানাপোড়েন বা আইডেন্টিটি ক্রাইসিস। একজন ব্যক্তি যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা, ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত- কিন্তু সৌদি আরবের মাটিতে তাঁর আনুষ্ঠানিক পরিচয় নির্ধারিত হয় তিনি কোন দেশের ভিসা ও কোটায় প্রবেশ করেছেন তার ভিত্তিতে, তাঁর প্রকৃত নাগরিকত্বের ভিত্তিতে নয়।
যুক্তরাজ্য দ্বৈত নাগরিকত্ব অনুমোদন করলেও, সৌদি আরবের হজ ব্যবস্থাপনা কোনো ব্যক্তির একাধিক পরিচয়কে একসঙ্গে স্বীকৃতি দেয় না। এটি একটিমাত্র ভিসা, একটিমাত্র কোটা এবং একটিমাত্র কাফেলার আওতায় একজন হজযাত্রীকে বিবেচনা করে। ফলে বাংলাদেশি কোটায় নিবন্ধিত একজন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে সৌদি আরবের চোখে তিনি মূলত বাংলাদেশি হজযাত্রী- এই বাস্তবতা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। জরুরি চিকিৎসা, আইনি জটিলতা কিংবা দুর্ঘটনার মতো পরিস্থিতিতে এই প্রশাসনিক পরিচয়ই নির্ধারণ করতে পারে কোন দেশের কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সহায়তা প্রক্রিয়া শুরু হবে।

যুক্তরাজ্য সরকারের অবস্থান

যুক্তরাজ্য সরকারের বর্তমান ভ্রমণ নির্দেশনা অনুযায়ী, হজ পালনের জন্য আলাদা Hajj visa প্রয়োজন এবং সাধারণ tourist e-visa বা ETA দিয়ে হজ পালন করা যায় না। যুক্তরাজ্যে বসবাসকারীদের জন্য সৌদি আরবের অফিসিয়াল Nusuk Hajj প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে হজের জায়গা বুক করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যে ফেরার সময় ব্রিটিশ নাগরিকদের বৈধ ব্রিটিশ পাসপোর্ট বা প্রয়োজনীয় right-of-abode প্রমাণ বহন করতে হয়। অর্থাৎ, বাংলাদেশি কোটায় হজ করলেও যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সময় তাঁর ব্রিটিশ পরিচয়ই প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। দুই ভিন্ন পরিচয়ের এই ওঠানামা প্রবাসীদের জন্য বাড়তি জটিলতা তৈরি করে।

সৌদি হজ মন্ত্রণালয়ের সরকারি Hajj guide-এও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক হজযাত্রীদের জন্য Hajj visa-ই বৈধ প্রবেশপত্র, এবং যুক্তরাজ্যে বৈধ resident-দের জন্য Nusuk Hajj-এর মাধ্যমে অনুমোদিত প্যাকেজের কথা উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ যুক্তরাজ্য থেকে সরাসরি সৌদি আরব যাওয়ার ধারণা নিজে থেকেই অবৈধ নয়। প্রশ্নটি হলো, বাংলাদেশি কোটায় নিবন্ধিত একজন ব্যক্তি সেই কোটা ব্যবহার করে যুক্তরাজ্য থেকে সরাসরি যাওয়ার আনুষ্ঠানিক অনুমতি পাচ্ছেন কি না।

বাংলাদেশের অব্যবহৃত কোটা ও প্রবাসীদের সম্ভাবনা

২০২৫ সালে সৌদি আরব বাংলাদেশকে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের হজ কোটা দিলেও নিবন্ধন করেছিলেন মাত্র ৮৭ হাজার ১০০ জন। অর্থাৎ প্রায় ৪০ হাজার কোটা আসন অব্যবহৃত থেকে যায়।
২০২৪ সালেও একই কোটার বিপরীতে নিবন্ধন হয়েছিল ৮৫ হাজার ২৫৭ জনের। এই অব্যবহৃত কোটার একটি অংশ যুক্তরাজ্যসহ প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিদের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব হলে তা বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার জন্যও লাভজনক হতে পারে। তবে এই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ দিতে হলে যুক্তরাজ্য থেকে সরাসরি যাত্রার একটি স্বচ্ছ ও আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা প্রয়োজন, যা এখনো স্পষ্টভাবে নির্ধারিত নয়।

প্রবাসীদের জন্য মূল সতর্কতা

অভিজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যের প্রবাসীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হলো, কোনো এজেন্টের মৌখিক আশ্বাসের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশি কোটায় নিবন্ধন করে যুক্তরাজ্য থেকে সরাসরি সৌদি আরব যাওয়ার সিদ্ধান্ত না নেওয়া। বাংলাদেশি প্যাকেজে নিবন্ধনের আগে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির কাছ থেকে লিখিতভাবে জেনে নেওয়া প্রয়োজন- কোটা কোন দেশের, Hajj visa কোন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ইস্যু হবে, flight departure কোন দেশ থেকে অনুমোদিত, এবং জরুরি পরিস্থিতিতে (অসুস্থতা, দুর্ঘটনা বা আইনি জটিলতা) কোন কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব নেবে।

৫২বাংলা ডেস্ক নোট: এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত ভিসা ও ভ্রমণ-সংক্রান্ত তথ্য যুক্তরাজ্য সরকারের ভ্রমণ নির্দেশনা এবং সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের সরকারি গাইড থেকে নেওয়া। এখানে দেওয়া সতর্কতা বা পরামর্শ এই সরকারি সূত্রগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি, এটি ৫২বাংলার নিজস্ব সম্পাদকীয় অবস্থান নয়।