ব্রিটিশ ক্রিপ্টোকারেন্সি ধনকুবের বেন ডেলো যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক দল রিফর্ম ইউকেকে ৩ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ড (প্রায় ৩৬০ কোটি টাকা) অনুদান দিয়েছেন, যা এখন পর্যন্ত ব্রিটিশ রাজনীতির ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত অনুদান। যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ পাচার প্রতিরোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নেওয়ার দায়ে দোষী সাব্যস্ত এই ব্যবসায়ী সম্প্রতি হংকং থেকে যুক্তরাজ্যে ফিরে এসেছেন।
সবচেয়ে বড় দাতা
এই অনুদানের ফলে বেন ডেলো এখন যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত দাতায় পরিণত হয়েছেন, যা থাইল্যান্ডভিত্তিক ক্রিস্টোফার হারবোনের দেওয়া ১ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডের অনুদানকেও ছাড়িয়ে গেছে। বছরের শুরু থেকে ডেলো ইতিমধ্যে রিফর্মকে ৮০ লাখ পাউন্ড দিয়েছিলেন।
এই বিশাল অনুদান এমন এক সময়ে এলো, যখন দলের নেতা নাইজেল ফারাজ বিদেশি অর্থায়ন নিয়ে পুলিশি তদন্ত এবং হারবোনের কাছ থেকে পাওয়া অঘোষিত ৫০ লাখ পাউন্ডের ব্যক্তিগত উপহার নিয়ে মানদণ্ড সংক্রান্ত তদন্তের মুখোমুখি। বিদেশি দাতাদের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যে ১২ মাস বসবাসের শর্ত ছাড়া ১ লাখ পাউন্ডের বেশি অনুদান দেওয়ার ওপর যে সীমা রয়েছে, তাতে ডেলো আটকে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা থাকলেও রিফর্ম এই মাসের শুরুতেই জানিয়েছিল, ডেলোকে কোনো অর্থ ফেরত দিতে হবে না বলে তারা নিশ্চিত।
যুক্তরাষ্ট্রে দণ্ড ও পরে ক্ষমা
২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নিজের প্রতিষ্ঠিত ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম বিটমেক্সে পর্যাপ্ত অর্থ পাচার প্রতিরোধ ব্যবস্থা না রাখার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন ডেলো, পরে তাকে ক্ষমা করে দেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই বড় অনুদান রিফর্ম ইউকের "মেগা-ডোনার" বা বিশাল অঙ্কের দাতাদের প্রভাব বাড়ার প্রবণতাকেই সামনে এনেছে, যা নিয়ন্ত্রণে লেবার পার্টি নানা পদক্ষেপ বিবেচনা করছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সব ধরনের রাজনৈতিক অনুদানের ওপর সীমা বসানোর প্রস্তাব থেকে দূরে সরে এসেছিলেন, আর অ্যান্ডি বার্নহামও সম্প্রতি এমন সীমার সমর্থন থেকে পিছিয়ে গেছেন। তবে সরকার সম্প্রতি জানিয়েছে, বিশাল অঙ্কের অনুদান নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা উপায় খুঁজছে, যাতে মুষ্টিমেয় কিছু ব্যক্তি রাজনীতিতে অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তার করতে না পারেন।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
অনুদান সীমা আরোপের পক্ষে সোচ্চার লেবার এমপি স্টেলা ক্রিসি বলেন, সরকার ইতিমধ্যে স্বীকার করেছে যে যুক্তরাজ্যে মেগা-ডোনাররা একটি সমস্যা, আর এমন অনুদান সেই কারণেই পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। তিনি আরও বলেন, লর্ডসে বিবেচনাধীন রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল বিলে অনুদানের সীমা নির্ধারণ করে আগামী নির্বাচনে এসব দাতার প্রভাব ঠেকানো এখনো সম্ভব।
অন্যদিকে দলীয় প্রধান নাইজেল ফারাজ এই অনুদানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বেন ডেলো রিফর্মের ওপর যে আস্থা দেখিয়েছেন তাতে তিনি সম্মানিত ও কৃতজ্ঞ, এবং যুক্তরাজ্যের অবক্ষয় ঠেকানোর সক্ষমতা একমাত্র তাদের দলেরই আছে বলে তিনি দাবি করেন।
লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের ক্যাবিনেট অফিস মুখপাত্র লিসা স্মার্ট অভিযোগ করেন, নাইজেল ফারাজ যুক্তরাষ্ট্রের ধাঁচে অর্থের জোরে ক্ষমতায় আসতে চাইছেন, এবং গণতন্ত্র রক্ষায় অ্যান্ডি বার্নহামকে অনুদানের ওপর সীমা আরোপের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ডেলোর রাজনৈতিক যুক্ততা
এপ্রিল মাসে টেলিগ্রাফে লেখা এক নিবন্ধে ডেলো জানিয়েছিলেন, যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠানের আত্মপ্রতারণাকেই তিনি জাতীয় পুনরুদ্ধারের সবচেয়ে বড় বাধা মনে করেন, এবং এ কারণেই জীবনে প্রথমবারের মতো রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন। অক্সফোর্ড স্নাতক ডেলো নিজেকে মত প্রকাশের স্বাধীনতার সমর্থক হিসেবে বর্ণনা করেন এবং রাজনৈতিক বর্ণালির বিভিন্ন প্রান্তের ৫০টিরও বেশি সংগঠনকে সহায়তা দিয়ে থাকেন।
গার্ডিয়ানের এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ফারাজের সমালোচক অভিবাসনবিরোধী এমপি রুপার্ট লো-কে ডেলো নানাভাবে সহায়তা দিয়েছেন, পাশাপাশি কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনক ও সাবেক টোরি মন্ত্রী মাইকেল গোভের মতো মূলধারার রাজনীতিকদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ রয়েছে। ডেলোর আইনজীবীরা গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন, তিনি ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ তৈরি করেন এবং পরস্পরবিরোধী মতের বিভিন্ন সংগঠনকে সহায়তা দেন, তবে এর অর্থ এই নয় যে তিনি প্রতিটি সংগঠনের মতের সঙ্গে একমত।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
-
যুক্তরাজ্যের সেকেন্ডমেন্ট ওয়ার্কার ভিসা: কারা পাবেন, কীভাবে আবেদন
-
সেপ্টেম্বরে আবারও গরমের দাপট, সোমবার লন্ডনে ২৫ ডিগ্রি
-
লন্ডনের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করেও ১০০ আবেদনে চাকরি নেই
-
ব্রিটিশ-বাংলাদেশ ট্রেড সেন্টার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা বিবিসিসিআইয়ের
-
যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স আশ্রয় চুক্তি: শত শত আশ্রয়প্রার্থীর হদিস নেই, শঙ্কায় শিশুরাও