যুক্তরাজ্যে সদ্য স্নাতকদের জন্য চাকরির শূন্যপদ নেমে এসেছে গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে বলে জানিয়েছে নিয়োগ-বিষয়ক ওয়েবসাইট আডজুনা। প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, জুলাই মাসে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য বের হওয়াদের জন্য মাত্র ৮ হাজার ৩৮৩টি চাকরির বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৫ শতাংশ কম এবং ২০১৬ সালে তথ্য সংগ্রহ শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন।
- রেকর্ডসংখ্যক নতুন শিক্ষার্থী, তবু সংকুচিত বাজার
এই পরিসংখ্যান এমন সময়ে এলো, যখন আগামী সেপ্টেম্বরে ২ লাখ ৬২ হাজার ৮২০ জন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে যাচ্ছেন, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এই বিপরীতমুখী পরিস্থিতি তুলে ধরছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কারণে প্রবেশ-পর্যায়ের চাকরিতে হুমকির মুখে থাকা কর্মবাজারে স্নাতকদের জন্য পরিস্থিতি কতটা কঠিন হয়ে উঠছে।
জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের (ওএনএস) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাজ্যে প্রায় ১০ লাখ তরুণ শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণ কোনোটির সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন না, যাদের 'নিট' (NEET) বলা হয়।
- কোন খাতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব
আডজুনা জানিয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা, নার্সিং, হসপিটালিটি ও লজিস্টিকসের মতো খাতে শূন্যপদের সংখ্যা কমেছে, এবং বসন্তে যে সাময়িক উন্নতির আভাস পাওয়া গিয়েছিল, তা আবার উল্টো দিকে মোড় নিয়েছে বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে সাম্প্রতিক তথ্য।
আডজুনার সহপ্রতিষ্ঠাতা অ্যান্ড্রু হান্টার বলেন, জুলাইয়ের এই পরিসংখ্যান কোনো সাময়িক ঘটনা নয়, বরং একটি স্পষ্ট পশ্চাদপসরণ। জানুয়ারির পর এই প্রথম বার্ষিক শূন্যপদ হ্রাসের হার আরও খারাপ হয়েছে বলে জানান তিনি, পাশাপাশি প্রতিটি শূন্যপদের বিপরীতে চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যাও গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। তার মতে, গ্র্যাজুয়েট চাকরির বাজার ক্রমাগত নতুন তলানিতে নামছে, যা প্রমাণ করে নিয়োগকর্তারা এখনো এই পর্যায়ে নিয়োগ বাড়ানোর কোনো কারণ খুঁজে পাননি।
২০১৭ সালের তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি অনেক খারাপ-সে সময় গ্র্যাজুয়েট পদের সংখ্যা ছিল ৫৫ হাজারের বেশি।
- নিয়োগ সংকোচনের পেছনে কারণ
সাবেক চ্যান্সেলর র্যাচেল রিভসের সর্বশেষ দুই বাজেটে ঘোষিত ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্স কন্ট্রিবিউশন ও ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নিয়োগকর্তারা নতুন নিয়োগে সতর্ক হয়ে উঠেছেন। এর পাশাপাশি বাড়তি শ্রম ব্যয়ের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী নিয়োগের বদলে অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিতে বিনিয়োগকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
এই প্রবণতা তরুণদের মধ্যে হতাশা বাড়িয়ে তুলছে। ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চের (আইপিপিআর) এক প্রতিবেদনে এই গ্রীষ্মে বলা হয়েছে, বর্তমানে ১৬ থেকে ২১ বছর বয়সীরা এক দশক আগের তুলনায় নিজেদের ভবিষ্যৎ সাফল্য নিয়ে অনেক কম আত্মবিশ্বাসী, এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ ভবিষ্যতের প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন বলেও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
জুলাই মাসে অ্যান্ডি বার্নহাম কারিগরি শিক্ষা ও অ্যাপ্রেন্টিসশিপে বাড়তি সহায়তার মাধ্যমে তরুণ কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
- যে খাতগুলোতে বাড়ছে সুযোগ
আডজুনার তথ্যমতে, ভ্রমণ, শিক্ষকতা ও নির্মাণ-এই তিনটি খাতেই কেবল সদ্য স্নাতকদের জন্য চাকরির সংখ্যা বেড়েছে। অ্যান্ড্রু হান্টার বলেন, পুরো চিত্রটি একেবারে নেতিবাচক নয়— শিক্ষকতা, ভ্রমণ এবং বাণিজ্য ও নির্মাণ খাতে এখনো নতুন পদ যুক্ত হচ্ছে, এখন উৎপাদন খাতেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই তালিকা খুবই সংক্ষিপ্ত, আর এর বাইরে থাকা প্রায় সবাইকেই তিন মাস আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।