খেলার সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজের শেষ বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে নেমেছিলেন লিওনেল মেসি। নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে যখন শেষ বিকেলের আলো ঢলে পড়ছিল, ঠিক তখনই স্পষ্ট হয়ে উঠল—পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে আর্জেন্টিনা যে জাদুকরী ফুটবল উপহার দিয়েছিল, ফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এসে তা হারিয়ে গেছে। অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের ১-০ গোলের জয়ে শেষ পর্যন্ত তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই শেষ হলো মেসির বিশ্বকাপ যাত্রা।
সমগ্র টুর্নামেন্ট জুড়ে দুর্দান্ত এবং নাটকীয় ফুটবল খেলে ফাইনালে উঠেছিল আলবিসেলেস্তারা। কিন্তু রোববার রাতের ফাইনালে দেখা গেল একদম ভিন্ন এক আর্জেন্টিনাকে। রক্ষণে স্পেনের শ্বাসরুদ্ধকর আক্রমণের সামনে কার্যত অসহায় ছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। বিশ্বকাপের শতবর্ষী ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো দল হিসেবে ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিটে প্রতিপক্ষের গোলে একটি শটও নিতে পারেনি তারা।
৩৯ বছর বয়সী ফুটবল জাদুকর মেসিকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে প্রত্যাশা ছিল, স্প্যানিশ ডিফেন্ডারদের কঠোর নজরদারিতে তা ফিকে হয়ে যায়। যদিও এই পরাজয় মেসির গৌরবোজ্জ্বল ক্যারিয়ার বা সর্বকালের সেরা হিসেবে তার অবস্থানকে বিন্দুমাত্র ম্লান করে না। ২০২২ সালে দলকে দীর্ঘ চার দশক পর বিশ্বমঞ্চে ট্রফি এনে দেওয়া এবং এবারের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে স্মরণীয় জয়—সব মিলিয়ে ফুটবলকে যা দেওয়ার তা আগেই দিয়ে দিয়েছেন মেসি।
ম্যাচ জুড়ে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করলেও স্পেনের কৌশলী ফুটবলের কাছে শেষ পর্যন্ত বন্দি থাকতে হয়েছে আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে। খেলার একেবারে শেষ দিকে হতাশা আর চাপ থেকে আক্রমণাত্মক ও সহিংস ফুটবল খেলতে দেখা যায় আর্জেন্টিনাকে।
২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে হেরে জাতীয় দল থেকে সাময়িক অবসর নেওয়া কিংবা বার্সেলোনার মতো দেশের হয়ে প্রভাব ফেলতে না পারার সেই পুরনো বিতর্কগুলো এখন ১০ বছর পর রূপকথার মতো মনে হয়। তবে বাস্তবতা এটাই যে, বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই মঞ্চে লিওনেল মেসির বিশ্বজয়ের অধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে এখানেই শেষ হলো।