নব্বইয়ের দশকের ঢালিউডের সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম সালমান শাহ। তাঁর ভক্তদের কাছে আজও তিনি সমান জনপ্রিয়, সমান শ্রদ্ধার পাত্র। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে তাঁর রহস্যজনক মৃত্যুর পর থেকে যে প্রশ্ন লাখো ভক্তের মনে ঘুরপাক খেয়েছে, তিন দশক পর সেই প্রশ্নের জবাব খোঁজার পথে এবার সত্যিকারের অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে।
দীর্ঘ লড়াইয়ের ফল
সালমান শাহর মৃত্যুকে শুরুতে পুলিশ অপমৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করলেও তাঁর মা নীলা চৌধুরী কখনোই হাল ছাড়েননি। ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে—এই বিশ্বাস নিয়ে তিনি বছরের পর বছর আইনি লড়াই চালিয়ে গেছেন। সেই অবিচল লড়াইয়েরই স্বীকৃতি মিলল গত বছর, যখন আদালতের নির্দেশে রমনা থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যা মামলা রুজু হয়। এখন মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
আসামি ডন গ্রেপ্তার, আদালতে রিমান্ডের আদেশ
মামলার অন্যতম আসামি, খলচরিত্র অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনকে সম্প্রতি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়। দীর্ঘদিন পলাতক থাকা এই আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
সিআইডির একটি সূত্র জানিয়েছে, রহস্য উদ্ঘাটনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে এবং পলাতক অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সেদিনের ঘটনাপ্রবাহ
মৃত্যুর আগের রাতে সালমান শাহ এফডিসিতে একটি ছবির ডাবিংয়ে গিয়েছিলেন। পরদিন সকালে তাঁর বাবা ছেলের ইস্কাটনের বাসায় গেলেও দেখা করতে পারেননি। বেলা ১১টার দিকে দুঃসংবাদ পৌঁছায় পরিবারের কাছে। এরপর থেকেই শুরু হয় রহস্যের জট, যা খোলার চেষ্টা চলছে এত বছর ধরে।
ভক্তদের জন্য আশার আলো
তিন দশকের অপেক্ষা, অসংখ্য প্রশ্ন আর একজন মায়ের অবিচল সংগ্রামের পর মামলাটি এখন একটি নির্দিষ্ট দিকে এগোচ্ছে। প্রধান আসামিদের একজনের গ্রেপ্তার এই দীর্ঘ পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। সালমান শাহর অগণিত ভক্তের প্রত্যাশা, তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে সত্য উদ্ঘাটিত হবে এবং প্রিয় নায়কের মৃত্যুরহস্যের যথাযথ সমাধান মিলবে।
সূত্র: প্রথম আলো