পেশায় লজিস্টিক ইঞ্জিনিয়ার হলেও সংগীতই জয়া বর্মণের জীবনের সবচেয়ে বড় সাধনা। শৈশব থেকেই গানের সঙ্গে বেড়ে ওঠা এই শিল্পী বর্তমানে ইউরোপের বিভিন্ন মঞ্চে পরিচিত কণ্ঠ। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বসবাস করলেও বাংলা গান, বিশেষ করে লোকসংগীতের প্রতি তার টান অবিচল। সেই টান থেকেই এ বছরের মধ্য জুলাইয়ে দেশে ফিরে নতুন একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি।
নতুন গান ও কাজের অগ্রগতি
ঢাকায় এসে সংগীতশিল্পী সমরজিৎ রায়ের সঙ্গে একটি রোমান্টিক গানের রেকর্ডিং সম্পন্ন করেছেন জয়া বর্মণ। বর্তমানে গানটির মিউজিক ভিডিও নির্মাণের কাজ চলছে। সবকিছু পরিকল্পনামতো এগোলে আগস্টের শেষ দিকে গানটি প্রকাশের আশা করছেন তিনি।
নতুন গানটি নিয়ে বেশ আশাবাদী জয়া। তার ভাষায়, “গানটি পুরোপুরি রোমান্টিক। আমি মনে করি, এটি একটু ভিন্ন ধরনের কম্পোজিশন। বাংলাদেশে এ ধরনের গান সচরাচর হয়নি। তাই গানটি শ্রোতাদের কাছে আলাদা আবেদন তৈরি করবে।”
দেশে আর মাত্র তিন দিন অবস্থান করবেন তিনি। এরপর ফিরে যাবেন প্যারিসে, যেখানে আবারও শুরু হবে কর্মব্যস্ততা, পাশাপাশি চলবে স্টেজ শো ও সংগীতচর্চা।
শেকড়ের টানে সংগীতচর্চা
নরসিংদীর মেয়ে জয়া বর্মণ অল্প বয়সেই পরিবারের সঙ্গে প্যারিসে পাড়ি জমান। মাত্র আট বছর বয়সে ফ্রান্সে গেলেও শেকড়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক অটুট রয়েছে। বর্তমানে তিনি একটি প্রতিষ্ঠানে লজিস্টিক ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত। তবে পেশার পাশাপাশি সংগীতই তার প্রধান পরিচয়। প্রবাসে নিয়মিত স্টেজ শো করে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি।
সংগীতে তার ভিত্তি গড়ে ওঠে গুরুজনদের সান্নিধ্যে। প্রখ্যাত নজরুলসংগীতশিল্পী নীলিমা সেন গীতার কাছে তালিম নিয়ে তার সংগীতজীবনে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। তিনি শুধু শাস্ত্রীয় সংগীতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বাংলা লোকসংগীতের বিশাল ভাণ্ডারের সঙ্গেও পরিচিত হয়েছেন।
পণ্ডিত শ্যামসুন্দর গোস্বামী ও প্রিয়ঙ্কা মৈত্রীর সান্নিধ্য তার সুরজ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। তবে লোকসংগীতই তার হৃদয়ের সবচেয়ে কাছের জায়গা।
লোকসংগীত নিয়ে ভাবনা
সিলেটের সাধক রাধারমণ দত্ত ও শাহ আবদুল করিমের গান প্রসঙ্গে জয়া বলেন, “যতদিন বাংলা ভাষা বেঁচে থাকবে, ততদিন আমাদের লোকগানও বেঁচে থাকবে। লোকসংগীত শুধু একটি গানের ধারা নয়, এটি আমাদের অনুভূতি, ইতিহাস, দর্শন ও সংস্কৃতির ভাষা।”
রাধারমণের গান নিয়ে তিনি বলেন, “তার গান শুনলে মনে হয় এটি গ্রামবাংলার মানুষেরই কথা। এসব জনমানুষের গান কখনও হারিয়ে যাবে না।”
শাহ আবদুল করিমের গান উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’—এ ধরনের গান সবাই গাইতে পারে। এই সহজাত গ্রহণযোগ্যতাই লোকগানকে যুগের পর যুগ বাঁচিয়ে রাখবে।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রয়েছে জয়া বর্মণের। তিনি বলেন, “আমি মৌলিক গান নিয়ে আরও বেশি কাজ করতে চাই। দেশে এসে নিয়মিত গান করার ইচ্ছা আছে। একক গানের পাশাপাশি দ্বৈত গানও করতে চাই। কারণ ডুয়েট গানে দুই শিল্পীর প্রচেষ্টায় গানটি আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছায়।”
পেশাগত দায়িত্ব ও সংগীতচর্চা—দুই ভুবনের মধ্যে সমান দক্ষতায় পথ চলছেন জয়া বর্মণ। চাকরির পাশাপাশি তিনি মানবাধিকার বিষয়েও কাজ করে যাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: