ইতালির রাজধানী রোমে প্রবাসী বাঙালিদের একাংশের হাতে শারীরিক হামলার শিকার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলীয় জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর বনি আমিন।
গত ২১ জুলাই মঙ্গলবার রাতে রোমের বাঙালি অধ্যুষিত তরপিনাতারা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। প্রকাশ্যে রাস্তায় ফেলে মারধরের পর বনি আমিন স্থানীয় পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা মুহূর্তের মধ্যে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয় এবং প্রবাসী কমিউনিটিতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, রাতের অন্ধকারে এক ব্যক্তি বনি আমিনকে জড়িয়ে ধরে আক্রমণাত্মক আচরণ করছেন। তিনি নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে আরও কয়েকজন তাঁকে ধাওয়া করেন। ধাওয়ার একপর্যায়ে রাস্তায় পার্ক করা একটি গাড়ির সামনে তাঁকে মাটিতে ফেলে একদল যুবক এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে বলে ভিডিওতে দেখা যায়।
ভিডিওতে হামলাকারীদের বাংলাদেশি আঞ্চলিক ভাষার টানে গালিগালাজ করতে শোনা যায় এবং তাঁরা বনি আমিনকে বারবার "মৌলবাদী" ও "দেশদ্রোহী" বলে সম্বোধন করছিলেন বলে শোনা গেছে।
জানা গেছে, মায়ের ইচ্ছাপূরণে ছোট ভাই জিলানীকে নিয়ে সম্প্রতি ইউরোপ সফরে বের হন বনি আমিন এবং ভ্রমণের অংশ হিসেবে গত দুই দিন ধরে রোমে অবস্থান করছিলেন।
হামলাকারীদের পরিচয় বা হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। তবে ঢাকা টাইমসের একটি প্রতিবেদন ও ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্ট অনুযায়ী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে দাবি করেছেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মতভেদের জের ধরে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
তবে এই দাবি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং কোনো কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে হামলাকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করেনি।
হামলার শিকার হওয়ার পর বনি আমিন রোমের একটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। চিকিৎসা শেষে তিনি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং বর্তমানে ইতালীয় পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, রোমের এই ঘটনার আগে যুক্তরাজ্যের লন্ডনেও প্রবাসী বাঙালিদের একাংশের বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন বনি আমিন। লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল এলাকায় একদল যুবক তাঁকে ঘিরে ধরে কটূক্তি করে এবং "ভুয়া ভুয়া" স্লোগান দিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে বলে জানা যায়। সেসময় তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ম সংক্রান্ত মন্তব্য, রাজনৈতিক অবস্থান এবং ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্ট হওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছিল, যা বনি আমিন নিজে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছিলেন এবং পরবর্তীতে লন্ডনের একটি স্থানীয় গণমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে সেই ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেছিলেন।
সূত্র: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ,৫২বাংলা