সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) পরিচালিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের কার্যক্রম বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। প্রয়োজনীয় পরিশোধিত মূলধন না থাকা এবং বাংলাদেশে ব্যাংকটির সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হওয়ায় নতুন করে আমানত গ্রহণ বন্ধ ও বিদ্যমান ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক 'সেন্ট্রাল ব্যাংক অব দ্য ইউএই' (সিবিইউএই)।
ইউএই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটিতে জনতা ব্যাংকের সর্বনিম্ন পরিশোধিত মূলধন হওয়ার কথা ৪০০ মিলিয়ন দিরহাম। তবে বর্তমানে ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন রয়েছে মাত্র ১০০ মিলিয়ন দিরহাম। অর্থাৎ এতে ঘাটতির পরিমাণ ৩০০ মিলিয়ন দিরহাম বা প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা (প্রতি দিরহাম ৩৩.৫০ টাকা ধরে)। এই ঘাটতি মেটাতে না পারলে ব্যাংকিং কার্যক্রম শতভাগ বন্ধ করার চূড়ান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
- বিধিনিষেধ ও নির্দেশনায় সিবিইউএই
গত ৮ জুলাই সিবিইউএই-র সহকারী গভর্নর আহমেদ সাঈদ আল কামজি জনতা ব্যাংকের ইউএই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ কামরুজ্জামানকে চিঠি দিয়ে এই নির্দেশনা পাঠান। চিঠিতে অবিলম্বে সব ধরনের অর্থ স্থানান্তর ও উত্তোলন বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে এবং আমানতকারীদের দাবির বিপরীতে প্রতি ডেবিট লেনদেনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমতি নেওয়ার শর্ত আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন কোনো গ্রাহক না নিয়ে বিদ্যমান দায়-দেনা পরিশোধ ও ব্যবসা গোটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর আগে ২২ এপ্রিল পাঠানো অপর এক চিঠিতে ইউএই কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, জনতা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের মূলধনও ইউএই-র শর্ত অনুযায়ী সর্বনিম্ন ২ বিলিয়ন দিরহামের নিচে নেমে গেছে এবং বিশাল প্রভিশন ঘাটতির কারণে প্রকৃত মূলধন নেতিবাচক অবস্থায় রয়েছে।
- জনতা ব্যাংকের বর্তমান অবস্থা ও সরকারের হস্তক্ষেপ
পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত ১৪ জুলাই জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ৮৮৪তম জরুরি সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। ব্যাংকের পক্ষ থেকে ইউএই কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ৩ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে মূলধন ৩০০ মিলিয়ন দিরহামে উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মাদ মজিবুর রহমান জানান:
"সংযুক্ত আরব আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের নিয়ম অনুযায়ী মূলধন বাড়ানোর কথা জানিয়েছে। আমরা পর্যায়ক্রমে পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছি। তবে ইউএই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই প্রস্তাবে রাজি না হলে সরকারের সহায়তা নেওয়া হবে।"
তিনি আরও স্বীকার করেন যে, বাংলাদেশেও জনতা ব্যাংকের প্রায় ৭০% ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে যা বৈশ্বিক উদ্বেগের কারণ হলেও ব্যাংকটি কৃষি ও ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ, সরকারি এলসি খোলাসহ সাধারণ ব্যাংকিং সচল রেখেছে।
- প্রবাসীদের সেবা ও চার শাখার অনিশ্চয়তা
১৯৭৬ সালের অক্টোবরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাত্রা শুরু করা জনতা ব্যাংকের বর্তমানে আবুধাবি, দুবাই, শারজাহ ও আল-আইনে ৪টি শাখা রয়েছে। এই শাখাগুলোর মাধ্যমে প্রধানত বাংলাদেশি প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠানো ছাড়াও এনআরবি ব্যাংকিং, আমদানি-রপ্তানির এলসি সুবিধা ও সাধারণ আমানতের সেবা পেয়ে আসছিলেন।
তবে সিবিইউএই-র কঠোর অবস্থানের কারণে শাখাগুলোর ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তায়। পরিস্থিতি নিরসনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জনতা ব্যাংকের সমন্বয়ে জরুরি বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার যদি এই মূলধন জোগান না দেয়, তবে বিদেশি আইন মেনে বিপুল ব্যয়ের মুখোমুখি হয়ে এই শাখাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
-
সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ ঘোষণা হুতিদের
-
রোমে চালু হলো পপুলার ট্রাভেলসের আধুনিক প্রধান কার্যালয়
-
সৌদিতে রেসিডেন্সি পারমিটে বড় পরিবর্তন: ৩ মাসেই নবায়নের সুযোগ
-
মুক্তিযুদ্ধের চেতনাই বার বার বিজয়ী হবে: পুরস্কার গ্রহণ করে ড. জাফর ইকবাল
-
সেরা খেলেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন, ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারালো ১-০ গোলে