সৌদি আরবে সম্প্রতি চালানো ধরপাকড়ে ১৪ হাজারের বেশি অভিবাসী গ্রেপ্তার ও ১২ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসীকে ফেরত পাঠানোর খবরের পর দেশটিতে কর্মরত প্রায় ২৫ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিকের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। তাদের অধিকাংশই কম রেমিটেন্স আয় করলেও দেশে ও প্রবাসে সংসার চালাতে এই কাজের ওপরই নির্ভরশীল। এমন পরিস্থিতিতে বৈধতা ধরে রাখতে করণীয় জেনে রাখা জরুরি।
ইকামা ও ওয়ার্ক পারমিট হালনাগাদ রাখুন
সৌদি আরবে বৈধভাবে থাকতে ও কাজ করতে হলে ইকামা (রেসিডেন্সি পারমিট) ও ওয়ার্ক পারমিট (রুখসা আমল) মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নবায়ন করা জরুরি। সৌদি মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, যেসব প্রতিষ্ঠান বা কর্মীর ওয়ার্ক পারমিট এখনও ইস্যু বা নবায়ন হয়নি, তাদের চলতি ২০২৬ সালের মধ্যেই তা সম্পন্ন করতে হবে, নয়তো আইনি ব্যবস্থার মুখে পড়তে হতে পারে। মুকিম কার্ডে পাঁচ বছরের মেয়াদ লেখা থাকলেও প্রকৃত বৈধতার জন্য প্রতি বছর নির্দিষ্ট ফি পরিশোধ ও নবায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।
নিয়োগকর্তা নবায়ন না করলে করণীয়
নিয়োগকর্তা বা কফিল সময়মতো আকামা নবায়ন না করলে বাংলাদেশি শ্রমিকরা এখন দ্রুততম সময়ে অন্য নিয়োগকর্তার অধীনে আকামা নবায়ন করার সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছেন সৌদি মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি মিনিস্টার মুহান্নাদ বিন আহমেদ আল-ঈসা। ফি বৃদ্ধির অজুহাতে নিয়োগকর্তার বিলম্বের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দূতাবাস সৌদি সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে।
অবৈধ হয়ে পড়লে বা দেশে ফিরতে চাইলে
যাদের ইকামার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বা কর্মস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার (হুরুব) মামলা রয়েছে, তারা জরিমানা এড়িয়ে নির্বিঘ্নে দেশে ফেরার জন্য সৌদি প্রশাসনের সাধারণ ক্ষমা বা প্রত্যাবাসন সুবিধার আওতায় আবেদন করতে পারেন। এ ব্যাপারে রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে।
সহায়তা নেবেন কীভাবে
সমস্যায় পড়লে প্রবাসী শ্রমিকরা নিচের মাধ্যমে সহায়তা নিতে পারেন -
- বাংলাদেশ দূতাবাস, রিয়াদ ও কনস্যুলেট জেনারেল, জেদ্দার শ্রম কল্যাণ উইং
- প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের টোল ফ্রি হটলাইন ১৬১৩৫ (দেশ থেকে) এবং +৮৮০৯৬১০১০২০৩০ (প্রবাসী থেকে)
- অবৈধভাবে কাউকে প্রবেশ, পরিবহন বা আশ্রয়ে সহায়তা করলে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার বিধান থাকায় এ ধরনের ঝুঁকি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
৫২বাংলা ডেস্ক নোট: এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত পরামর্শ ও তথ্য সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সৌদি মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সরকারি ঘোষণার ভিত্তিতে দেওয়া, যা ৫২বাংলার নিজস্ব সম্পাদকীয় অবস্থান নয়।
আরও পড়ুন: