ঢাকা ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ
ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান করলেন মেধাবী শিক্ষার্থী তাহসিন জাহান আমিরাতে ৪৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল কম্বোডিয়ায় গিয়ে বিপদে ১৬ হাজার বাংলাদেশি, স্ক্যাম সেন্টারে ‘বন্দি’ ৩২ জনের খোঁজ চায় পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বরে সোশ্যাল সিকিউরিটি পেমেন্ট কবে আসবে, জেনে নিন কুয়েত দূতাবাসে প্রবাসীদের অভিযোগ ও সমাধানে গণশুনানি মঙ্গলবার সিলেট আসছেন রাষ্ট্রপতি, নগরজুড়ে উৎসবের আমেজ সেই রাত-ছাত্রনেতাদের হাতে শিশুর পোষা ছাগল চুরি ও জবাই ইংল্যান্ডে স্কুলের খাবারে ডিপ ফ্রায়েড ফুড নিষিদ্ধ, নতুন নিয়ম ২০২৭ থেকে মিষ্টি খাবার কমালেও কমে না লোভ বা স্বাস্থ্যঝুঁকি: গবেষণা দুবাইতে বিগ টিকিটে লাখপতি প্রবাসী রফিকুল মালয়েশিয়ায় ৩৬৪ বাংলাদেশি আটক, বৈধতার প্রশ্ন টরন্টোতে প্রবীণদের জন্য ডিজিটাল স্কিলস ও অনলাইন সেফটি সেমিনার যুক্তরাজ্যের প্রবাসীরা কেন হজে যান বাংলাদেশ হয়ে, ঝুঁকি কোথায় আ.লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন নিয়ে রিট, উত্থাপনের সুযোগ না দিয়েই খারিজ মেটারনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম ও ফান্ডরেইজিং নিয়ে রুকন ফাউন্ডেশনের সভা যুক্তরাজ্যের সেকেন্ডমেন্ট ওয়ার্কার ভিসা: কারা পাবেন, কীভাবে আবেদন সেপ্টেম্বরে আবারও গরমের দাপট, সোমবার লন্ডনে ২৫ ডিগ্রি যুক্তরাজ্যে গ্র্যাজুয়েট চাকরির শূন্যপদ নেমেছে এক দশকের সর্বনিম্নে লন্ডনের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করেও ১০০ আবেদনে চাকরি নেই ২০২৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটি কোলা বাড়বে ৩.৫% রিফর্ম ইউকেকে রেকর্ড ৩৬০ কোটি টাকার অনুদান ক্রিপ্টো ধনকুবেরের এবার সরাসরি আরব আমিরাতে গিয়ে চাকরি খোঁজার সুযোগ গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিল, ৩২ জনকে গ্রেপ্তারের দাবি পুলিশের ব্রিটিশ-বাংলাদেশ ট্রেড সেন্টার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা বিবিসিসিআইয়ের যুক্তরাজ্যে তরুণদের জন্য নতুন কর্মঅভিজ্ঞতা প্রকল্প 'ওপেনিং শিফট' চালু যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স আশ্রয় চুক্তি: শত শত আশ্রয়প্রার্থীর হদিস নেই, শঙ্কায় শিশুরাও পর্যটন কর নিয়ে যুক্তরাজ্যে ভীতি, প্রমাণ বলছে ভিন্ন কথা ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ২৫ মিনিট করতালি: কী আছে এই এআই-হত্যা প্রামাণ্যচিত্র ‘নাজা’য়! ইংল্যান্ডের হাসপাতালে অপেক্ষমাণ তালিকা ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ BFF সুপার কাপ ২০২৬: ১৩ সেপ্টেম্বর মাঠে নামছে ১৬ দল, গ্রুপ বিন্যাস চূড়ান্ত

ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান করলেন মেধাবী শিক্ষার্থী তাহসিন জাহান

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩১ এএম

ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান করলেন মেধাবী শিক্ষার্থী তাহসিন জাহান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগে স্নাতক পর্যায়ে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদাপূর্ণ ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ প্রত্যাখ্যান করেছেন তাহসিন জাহান। রাজনৈতিক পরিচয় ও মতাদর্শের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি এ পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তাহসিন জাহান এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার ইন পাবলিক পলিসি (এমপিপি) প্রোগ্রামে অধ্যয়নরত।

ফেসবুক পোস্টে তাহসিন জাহান লিখেন, ‌‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার চার বছরের স্নাতকজীবনের শুরু থেকেই আজকের দিনটির জন্য অপেক্ষা করেছি। অসংখ্য নির্ঘুম রাত, চার বছরের কঠোর পরিশ্রম আর নিজের সর্বোচ্চটুকু দেওয়ার পর নিজ বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে আজ আমার ডিনস অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করার কথা ছিল। কিন্তু আমি সেই ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান করেছি।’

‘যারা এই পুরস্কারটির সঙ্গে পরিচিত নন, তাদের জন্য বলি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে স্নাতক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের জন্য ডিনস অ্যাওয়ার্ড অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি স্বীকৃতি। একসময় যে পুরস্কারটি অর্জনের জন্য এতটা পরিশ্রম করেছি, আজ সেটিই প্রত্যাখ্যান করা আমার জন্য সহজ কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। কিন্তু কোনো পুরস্কারের মর্যাদা আমার কাছে একটি প্রতিষ্ঠানের নৈতিক দায়বদ্ধতার ঊর্ধ্বে নয়।এই পুরস্কার গ্রহণ করার অর্থ হতো এমন একটি প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি উদযাপন করা, যে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন নিজেদের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয় ও মতাদর্শের কারণে ধ্বংস হয়ে যেতে দেখেও তাদের প্রতি নিজেদের দায়িত্ব পালন করেনি।

তিনি আরও লিখেন, ‘২০২৪ সালে শুধুমাত্র আমার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আমি মবের আক্রমণের শিকার হয়েছিলাম। কোনো ধরনের সহিংসতার সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকা সত্ত্বেও নিজের বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরেই হুমকির মুখে পড়েছিলাম। আমাকে ফাইনাল ভাইভায় অংশ নিতে এবং স্নাতক থিসিস জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। নিজের শারীরিক নিরাপত্তার জন্য একটা সময়ের পর ক্যাম্পাসেও ফিরতে পারিনি। সেই সময় আমার বিভাগের কিছু শিক্ষক একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষার অধিকারের পক্ষে দাঁড়ানোর নৈতিক সাহস দেখিয়েছিলেন। তাদের কারণেই শেষ পর্যন্ত নিরাপদ জায়গা থেকে অনলাইনে ফাইনাল ভাইভায় অংশ নিয়ে আমার স্নাতক শেষ করতে পেরেছিলাম। তাদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা এবং শ্রদ্ধা সবসময় থাকবে। (না, আপনাদের তথাকথিত নৈতিকতার মুখোশধারী ‘শিক্ষক নেটওয়ার্ক’ নয়।)’

‘আমার শিক্ষার অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা সত্ত্বেও আমি ভাগ্যবান ছিলাম যে শেষ পর্যন্ত ঢাবিতে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করতে পেরেছি এবং হার্ভার্ডে এসে নিজেকে আবার গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার মতো ১০,০০০-এরও বেশি শিক্ষার্থী সেই সুযোগ পায়নি। প্রশাসন নীরব থেকেছে এবং মৌলবাদী মবকে নীরবে সমর্থন করেছে এবং এখনো করে যাচ্ছে।

এমনকি কারাগারে থাকা সবচেয়ে গুরুতর অপরাধীরও শিক্ষা গ্রহণের অধিকার রয়েছে। অথচ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসন নিজেদের শিক্ষার্থীদের সেই অধিকার রক্ষায় কোনো অর্থবহ পদক্ষেপ নেয়নি। বরং তোফাজ্জল, মাসুদ ও শামীমসহ আরও অনেক নিরপরাধ মানুষের রক্তের দায় এই প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতেও রয়েছে। সরকার পতনের পর যদি সত্যিই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়ে থাকে, তাহলে এই হাজার হাজার শিক্ষার্থী এখনো কেন নিজেদের ক্লাসরুমে ফিরতে পারছে না? এখন অজুহাতটা কী?

যেসব শিক্ষক আমাকে এত দূর আসতে সাহায্য করেছেন, তাদের প্রতি আমার অপরিসীম শ্রদ্ধা। আমার অর্জনের পেছনে তাদের অবদান রয়েছে এবং সেই কৃতিত্ব তাদের প্রাপ্য। কিন্তু তাদের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, যে প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসন হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জীবন ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যেতে দেখেও তাদের পাশে দাঁড়ায়নি, সেই প্রতিষ্ঠানের পুরস্কার গ্রহণ করে আমি নিজের অর্জন উদযাপন করতে পারি না।

এই সিদ্ধান্ত কোনো পুরস্কারকে ছোট করার জন্য নয়। বরং সেই সহপাঠীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য, যাদের অপরাধ শুধু তাদের রাজনৈতিক পরিচয়, অথচ তার মূল্য তারা দিয়েছেন নিজেদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ দিয়ে। ন্যায়বিচার যদি সবার জন্য না হয়, তবে সেটি ন্যায়বিচার নয়। আর দয়া করে আমাদের বলবেন না, “আমরাই বিকল্প, আমরাই পরিবর্তন।” কারণ অন্যায়ের পরিবর্তে আরেকটি অন্যায় কখনো বিকল্প হতে পারে না।’

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ৪৮ শিক্ষার্থী পেলেন ডিনস অ্যাওয়ার্ড

উল্লেখ্য, সোমবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ১৬টি বিভাগের মোট ৪৮ জন শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। একই অনুষ্ঠানে সেরা গ্রন্থ ও নিবন্ধের জন্য দুজন শিক্ষককেও সম্মাননা দেওয়া হয়।