বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
কেসি সলিসিটর্সের দশক পূর্তি উদযাপন  » «   বঙ্গবন্ধু স্কলারশিপ আন্তর্জাতিক অঙ্গণে বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রতিচ্ছবি  » «   লীলা নাগের স্মৃতি রক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যোগ নেবে  » «   ফুসফুস-ক্যান্সার পরীক্ষার জন্য মাইল এন্ড লেজার সেন্টারে স্থাপন করা হচ্ছে বিশেষ ‘স্ক্রিনিং মেশিন’  » «   অলি-মিঠু-টিপু প্যানেলের পরিচিতি ও ইশতেহার ঘোষণা  » «   ২০ নভেম্বর লন্ডনের রয়েল রিজেন্সিতে ৫ম বেঙ্গলী ওয়েডিং ফেয়ার  » «   একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির যুক্তরাজ্য শাখা গঠিত  » «   টি আলী স্যার ফাউন্ডেশন সম্মাননা পেলেন সিলেটের ২৪গুণী শিক্ষক  » «   নওয়াগ্রাম প্রগতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফুল, ফল ও ঔষধি বৃক্ষরোপণ  » «   আলোকিত মানুষ শিক্ষক মো. সমছুল ইসলাম এর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী  » «   সিলেটের বিয়ানীবাজারে একটি পরিত্যক্ত কূপে তাজা গ্যাসের মজুদ আবিষ্কৃত  » «   বাংলাদেশী কারী  ব্রিটেনের প্রবৃত্তি ও খাবার সংস্কৃতিতে অনন্য  অবদান রাখছে  » «   পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীবাদের প্রতিবন্ধকতা  » «   রিষি সুনাক এশিয়ান বংশদ্ভোত, কনজারভেটিভ এবং ধনীদের বন্ধু  » «   গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাব নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহবান  » «  
সাবস্ক্রাইব করুন
পেইজে লাইক দিন


সাত ব্যবসায়ীর ষড়যন্ত্রমূলক গ্রেফতারে বিচার এবং তাঁদের নিরাপদে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে আনার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ব্রিটিশ বাংলাদেশি ক্যাটারার্স এসোসিয়েশন (বিবিসিএ) এর উদ্যোগ আজ শুক্রবার ( ৩০ সেপ্টেম্বর ) প্রবাসী সাত ব্যবসায়ীর ষড়যন্ত্রমূলক গ্রেফতারে সংশ্লিষ্টদের বিচার এবং ব্যবসায়ীদের নিরাপদে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে আনার দাবীতে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। ব্রিটিশ বাংলাদেশি ক্যাটারার্স এসোসিয়েশন সাথে একাত্নতা প্রকাশ করেন ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স (বিবিসিসিআই), বাংলাদেশ সেন্টার লন্ডন, গ্রেটার সিলেট ডেভেলপমেন্ট এন্ড ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল ইন ইউকে এবং ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল কনজার্ভেটিভ পার্টির বাংলাদেশি শুভাকাংখীদের সংগঠন কনজার্ভেটিভ ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়,গত ২১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে অবস্থানরত হোমল্যান্ড ইন্সুরেন্স কোম্পানীর সাত জন যুক্তরাজ্য প্রবাসী ব্যবসায়ীকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এরপর আদালতের মাধ্যমে তাদের পাঠানো হয়েছিলো কারাগারে। মাগুরায় দায়ের করা কথিত প্রতারণার মামলায় তাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা তামিল করে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো বলে জানিয়েছে পুলিশ। একসঙ্গে প্রবাসী ওই সাত উদ্যোক্তাকে গ্রেপ্তারে দেশে বিদেশে নিন্দার ঝড় উঠে এবং শুরু হয় তোলপাড়। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃতরা সবাই গতকাল বৃহস্পতিবার মাগুরার আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।

ওই সাতজন দেশপ্রেমিক ব্যবসায়ী হচ্ছেন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার আব্দুল আহাদ, তার ভাই আব্দুল হাই, ওসমানী নগরের জামাল উদ্দিন,তার ভাই কামাল উদ্দিন, সুনামগঞ্জের ছাতকের জামাল উদ্দিন মখদ্দুস,শাহাজালাল উপশহরের আব্দুল রাজ্জাক ও আব্দুর রব। তাদের মধ্যে জামাল মিয়া কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান ও বাকি সবাই পরিচালক। তারা সবাই ব্রিটেনে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং তাদের মধ্যে চারজন বিবিসিএ’র সম্মানিত সদস্য। তারা বাংলাদেশের কয়েকজন বিনিয়োগকারীদের সাথে গড়ে তুলে ছিলেন হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। উদ্দেশ্য ছিলো নিজেরা লাভবাান হওয়ার পাশাপাশি দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। কিন্তু তাদের সেই স্বপ্ন আজ দুঃস্বপ্নে পরিনত হয়েছে। কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভায় অংশ নিতে লন্ডন থেকে গিয়েছিলেন দেশে, সেখানেই কোম্পানির সভায় যোগ দেয়ার পর তাদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় পুলিশ।

দেশ ও জাতির উন্নয়নের লক্ষ্যে ব্রিটেন থেকে নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ বিনিয়োগ করা সাত ব্যবসায়ীর সাম্প্রতিক ষড়যন্ত্রমূলক গ্রেফতার ও তাদের জামিনের পর সাংবাদিকদের কয়েকটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষন করে বলেন,ব্যবসায়ীদের এই গ্রেফতারের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রবাসীরা। সরকার যেখানে প্রবাসীদের দেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে আসছে সেখানে ওই বিনিয়োগকারীদের এভাবে গ্রেপ্তার কী বার্তা দিচ্ছে সেই প্রশ্ন অনেকের। হোমল্যান্ড লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানীর চেয়ারম্যান ও এমডি বাংলাদেশেই থাকেন। কোম্পানির লেনদেনের বিষয়ে কেউ মামলা করলে বর্তমান চেয়ারম্যান এবং এমডি’র বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার কথা। তা না করে প্রবাসে থাকেন এমন ৭ উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আর তার পরোয়ানাও হয়েছে। এসব বিষয়ে উদ্যোক্তাদের কোনো তথ্যই দেয়া হয়নি কোম্পানির পক্ষ থেকে। এছাড়া কোম্পানির আরও কয়েকজন পরিচালক থাকলেও তাদের মামলায় আসামি করা হয়নি। আসামি করা হয়েছে শুধু যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের বিরুদ্ধে।

এই প্রবাসী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মাগুরা আদালতে পৃথক ৪টি মামলা করা হয়। মাগুরা জেলার সদর উপজেলার সৈয়দ মোফাক্কার আলী, একই উপজেলার বুধইরপাড়ার মোঃ আজর আলী, ওই উপজেলার ছয়চার গ্রামের মোঃ নায়েব আলী ও পার্শ্ববর্তী ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার সড়াবাড়ীয়া গ্রামের মোঃ হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে এসব মামলা করেন। ৪ মামলার এজাহারেই মাগুরা জেলার শালিখা থানাধীন আড়পাড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের অধীন বীমা গ্রাহকদের পলিসির টাকা আত্মসাৎ করে প্রতারণামূলকভাবে বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়। মামলা হলে শালিখা শাখার ব্যবস্থাপক প্রথম আসামি হওয়ার কথা। তা না করে প্রবাসীদের আসামি করা উদ্দেশ্যমূলক। এমনকি মামলায় কোম্পানির চেয়ারম্যান, এমডি, জিএমসহ অন্য কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়নি।

সাংবাদিক সম্মেলনে আরো বলা হয়,বাংলাদেশে যে সাতজন ব্রিটিশ বাংলাদেশী উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী আটক হয়েছিলেন তারা আমাদেরই কারো বন্ধু, কারো আত্নীয়। তারা সবাই নানা ধরনের সমাজসেবামূলক কর্মকান্ডে জড়িত এবং বিভিন্ন চ্যারিটি সংগঠনের ট্রাস্টি। সর্বোপরি তারা ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতা। মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশ সরকার, ব্রিটেনের বাংলাদেশ হাই কমিশনার এবং বাংলাদেশের ব্রিটিশ এম্বেসীকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে তার যথাযথ বিচার করার জোর দাবী জানাচ্ছি। একই সাথে আমরা দাবী করছি।

১. জামিন পেলেও সাত ব্রিটিশ বাংলাদেশি এখন বাংলাদেশে অবস্থান করছে। ঘটনাটি যেহেতু ষড়যন্ত্রমূলক তাই তাদের জীবনের নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন। আমরা তাদের জীবনের ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধানের জন্য সব ধরনের সহযোগীতা প্রত্যাশা করছি।

২. প্রবাসী ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করার ঘটনা পূর্ব করিকল্পিত। ওই গ্রেফতারে কারা কারা জড়িত ছিলো এবং তারা কি উদ্দেশ্যে ওই ষড়যন্ত্র করেছিলো তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

৩. ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারে জড়িতরা বাংলাদেশে প্রভাবশালী। তারা প্রবাসীদের ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় আটক করে বিশেষ কোন উদ্দেশ্য হাসিল করতে চেয়েছিলো। তাদের অসৎ উদ্দেশ্য প্রাথমিকভাবে বিফলে যাওয়ায় তারা নতুন করে ষড়যন্ত্র করতে পারে। তাই বাংলাদেশ থেকে ওই ব্যবসায়ীদের নিরাপদে ব্রিটেনে ফিরিয়ে আনার সব ধরনের ব্যবস্থা করতে হবে। এই ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য আমরা বাংলাদেশের ব্রিটিশ এম্বেসীকে সবিনয় অনুরোধ জানাচ্ছি।

৪. বিনা অপরাধে প্রবাসী ওই ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারে তারা চরম ভোগান্তি ও চরম অপমানজনক ঘটনার শিকার হয়েছেন। আর এর ফলে প্রবাসীদের মধ্যে যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া ও হতাশার জন্ম নিয়েছে। আমরা আশা করি, প্রবাসীদের হতাশা নিরসনে বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ সোচ্চার হবেন। একই সাথে এই ঘটনার প্রতিবাদ ও সুষ্ঠু বিচারের মধ্য দিয়ে এমন নজির স্থাপন হোক যেনো ভবিষ্যতে আর কোন প্রবাসী বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষ হেনস্থের শিকার না হোন।

ব্রিটিশ বাংলাদেশি ক্যাটারার্স এসোসিয়েশন (বিবিসিএ) এর সেক্রেটারি জেনারেল তোফাজ্জল মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উক্ত সংগঠনের সভাপতি কাউন্সিলার সেলিম চৌধুরী।

বক্তব্য রাখেন বৃটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স (বিবিসিসিআই) এর উপদেষ্টা শাহগির বখত ফারুক, বাংলাদেশ সেন্টারের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, গ্রেটার সিলেট কাউন্সিলের চেয়ারপার্সন বারিস্টার আতাউর রহমান, কনজার্ভেটিভ ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ এর ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস হামিদ, বিবিসিসিএ’র সাবেক প্রেসিডেন্ট কাউন্সিলার শামসুন ইসলাম সেলিম, বিবিসিসিআই লন্ডন রিজিয়নের প্রেসিডেন্ট মনির আহমদ।


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন