বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
কেসি সলিসিটর্সের দশক পূর্তি উদযাপন  » «   বঙ্গবন্ধু স্কলারশিপ আন্তর্জাতিক অঙ্গণে বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রতিচ্ছবি  » «   লীলা নাগের স্মৃতি রক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যোগ নেবে  » «   ফুসফুস-ক্যান্সার পরীক্ষার জন্য মাইল এন্ড লেজার সেন্টারে স্থাপন করা হচ্ছে বিশেষ ‘স্ক্রিনিং মেশিন’  » «   অলি-মিঠু-টিপু প্যানেলের পরিচিতি ও ইশতেহার ঘোষণা  » «   ২০ নভেম্বর লন্ডনের রয়েল রিজেন্সিতে ৫ম বেঙ্গলী ওয়েডিং ফেয়ার  » «   একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির যুক্তরাজ্য শাখা গঠিত  » «   টি আলী স্যার ফাউন্ডেশন সম্মাননা পেলেন সিলেটের ২৪গুণী শিক্ষক  » «   নওয়াগ্রাম প্রগতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফুল, ফল ও ঔষধি বৃক্ষরোপণ  » «   আলোকিত মানুষ শিক্ষক মো. সমছুল ইসলাম এর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী  » «   সিলেটের বিয়ানীবাজারে একটি পরিত্যক্ত কূপে তাজা গ্যাসের মজুদ আবিষ্কৃত  » «   বাংলাদেশী কারী  ব্রিটেনের প্রবৃত্তি ও খাবার সংস্কৃতিতে অনন্য  অবদান রাখছে  » «   পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীবাদের প্রতিবন্ধকতা  » «   রিষি সুনাক এশিয়ান বংশদ্ভোত, কনজারভেটিভ এবং ধনীদের বন্ধু  » «   গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাব নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহবান  » «  
সাবস্ক্রাইব করুন
পেইজে লাইক দিন


বিলেতে ঈদ উৎসব এবং বাঙ্গালী কমিউনিটির অন্তর্জ্বালা



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

গ্রেট ব্রিটেন বহু সংস্কৃতির দেশ ৷ এই দেশে আছে বিশ্বের প্রায় সব কয়টি সম্প্রদায়ের বসবাস ৷ প্রত্যেকের আছে স্বাতন্ত্র্য সংস্কৃতি ৷ আমরাও এর ব্যতিক্রম নই৷  আমাদের আছে আছে গোলাভরা ঐতিহ্য, সংস্কৃতি।আছে আমাদের অসংখ্য  গৌরব গাঁথা ৷তবে আছে দুঃখ ও অন্তর্জ্বালাও৷  কোন কোন ক্ষেত্রে লজ্জার, দুঃখের, কষ্টের আর অপমানেরও৷

আমাদের লালসা, অর্থলিপ্সা আমাদের সুখ, শান্তি, সম্প্রীতি কিংবা আবেগ কে ছাড়িয়ে অপমান আর অভিমানের চরম সীমায় নিয়ে গেছে কিছু ক্ষেত্রে- তা নিয়ে এক শ্রেণীর মানুষের কোন ভ্রক্ষেপ নাই৷

চাইনিজরা তাঁদের নিউ ইয়ার কে উৎসব হিসাবে নিয়ে ১৬ দিন পর্যন্ত তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখে ৷ এমনি করে প্রত্যেকটি দেশের অভিবাসী তাঁদের জাতীয় দিবস এবং ধর্মীয় উৎসবের দিন তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা স্টাফদের ছুটি দিলেও  বাঙালি মুসলমান কর্মচারিদের  বছরে দুইটি বড় ধর্মীয়  ঈদ উৎসবেও  কপাল পোড়ে কিছু লালসা আর অর্থলিপ্সু ব্যবসায়িদের  কারণে ৷

বছরে মাত্র দুইটা দিন ঈদ কে উপলক্ষ করে আমাদের বাঙ্গালি মুসলমানদের  নারি-পুরুষ, ছেলে-মেয়ে বাবা-মায়ের কত আবেগ অনুভূতি জড়িয়ে আছে। প্রত্যেকে যার যার সর্বোচ্চ চেষ্টা থেকে সওদা করে ঈদ আনন্দের প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন ৷  কিন্তু কতিপয় অর্থলিপ্সু ব্যবসায়ির কারণে সব আনন্দ বিষাদে রূপ নেয় ; অন্তর্জ্বালায় হ্নদয়ে রক্তক্ষরণ হয়৷ বিশেষ দিনে ছুটি না থাকার কারণে বয়ঃবৃদ্ধ বাবা-মায়ের পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ কিংবা ছোট ছেলে-মেয়েদের কপালে আঁদর দেয়া হয়না । এমনকি  অনেক রেস্টুরেন্টের কর্মচারিরা ঈদের নামাজ পর্যন্ত আদায় করতে পারেন না।

এই অন্তর্জ্বালার পিছনের মানুষগুলো অভিশাপ পায় ; অভিশপ্ত হয়৷ অভিশাপ খুব কঠিন এক শাস্তি। ঈদের মতো পবিত্র ও আনন্দের দিনকে যারা নিরানন্দ, অভিশপ্ত করে তুলেন- সেইসব ব্যবসায়িরা অনুভব করে না বা তাদের অনুভূতি ভোতা হয়ে আছে ।

অথচ এইসব ব্যবসায়িরা  তাদের প্রতিষ্ঠানে একটু মানবিক  হলে অভিশপ্ত না হয়ে আশীর্বাদ এবং ভালোবাসায় সিক্ত হতে পারতেন।সমাজে দ্বিগুন মান-মর্যাদায় বাচতে পারতেন।

বহু ভাষা ও সংস্কৃতির এই দেশে আমাদের অনেক আলোকিত অর্জন আছে। সেখানে আমরা জাতিগতভাবে আরও পজিটিভ উদাহরণ রাখতে পারি। বছরে মাত্র দুটি দিন । এই দুই দিনে মালিক-স্টাফ মিলে আনন্দ উপভোগ করলে, কাজে ও ব্যক্তিগত জীবনে সম্পর্ক আরও গভীর হয়। আত্নিক হয়। কাজের মানষিক স্পিহা ও গতি বাড়ে- এটা কি তারা আসলে বুঝেন না, নাকি না বোঝার ভান করেন- সেটা এই সময়ে এসেও বার বার বলতে হয় সাধারণ মানুষদের।

একজন মুসলমান ধর্মীয় বিশ্বাসীর কাছে পবিত্র ঈদে ইসলামী বিধান মেনে না চলা মোটাদাগে পাপ। পরিবার, স্বজনদের নিয়ে আনন্দ উপভোগ করা মুসলমান মাত্র সকলের জন্য সমান। এখানে অর্থনৈতিক বিষয়টি সামনে এনে, নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে সমাজে অমানবিক সংস্কৃতি চালু করেছেন এবং যারা করছেন তাদের মনে মানবিকতার পরশ যত দ্রুত লাগবে ততোই গোটা কমিউনিটির জন্য মঙ্গল।

মানুষের যাপিত জীবনে ভুল একটি বড় অধ্যায়। আবার এই মানুষই তার অতীত অভিজ্ঞতাকে বিবেচনায় নিয়ে সংশোধিত হয়। পরিশুদ্ধ হয় এবং সমাজে আলোকিত সাফল্যময় উদাহরণ রাখে।

আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি ৫২বাংলা ও পত্রিকার যৌথ উদ্যোগে যুক্তরাজ্যে ঈদের ছুটি চাই সামাজিক ক্যাম্পেইনের দৃশ্যপট দেখে, কমিউনিটির সংখ্যাগরিষ্ট অংশের আবেগ অনুভূতি, সমালোচনা, মন্তব্য দেখে তাদের বোধদয় হবে। বছরের মাত্র দুটি ঈদের দিনে মুসলমান ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ছুটি দিয়ে মানবিকতার উজ্জ্বল উদাহরণ রেখে,  আলোর পথে তারা এখন থেকে হাটবেন। কমিউনিটিকে তারা একটি আলোকিত বার্তা দিবেন- যা ডাইভার্স কমিউনিটির জন্যও একটি অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।

এম আতিকুর  রহমান, সাবেক শিক্ষক ও কমিউনিটি সংগঠক , লন্ডন ৷


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন