শনিবার, ২ মার্চ ২০২৪ খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
টাওয়ার হ্যামলেটসের নতুন বাজেটে হাউজিং, শিক্ষা, অপরাধ দমন, তরুণ, বয়স্ক ও মহিলাদের জন্য বিশেষ কর্মসূচিতে বিপুল বিনিয়োগ প্রস্তাব  » «   আজীবন সম্মাননা পেলেন সৈয়দ আফসার উদ্দিন এমবিই  » «   লন্ডন বাংলা স্কুলের আয়োজনে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত  » «   লন্ডনবাসী প্রবীণ মুরব্বী জমির উদ্দিন( টেনাই মিয়া)র ইন্তেকাল  » «   কবি সংগঠক ফারুক আহমেদ রনির পিতা মুমিন উদ্দীনের ইন্তেকাল  » «   একসেস ট্যু জাস্টিস নিশ্চিত করা আইনের শাসনের প্রধান স্তম্ভ  » «   বৃহত্তর সিলেট এডুকেশন ট্রাস্টের নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত  » «   বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে প্যালেষ্টাইনের জনগণের প্রতি উৎসর্গ করে লন্ডনে সমাবেশ  » «   এডভোকেট মোহাম্মদ আব্বাছ উদ্দিন যুক্তরাজ্যে আসছেন  » «   হিলালপুর গ্রামে সড়ক বাতি উদ্বোধন  » «   বিয়ানীবাজার জনকল্যাণ সমিতি ইউকের কার্যকরী কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত  » «   পূর্ব মুড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসিপরীক্ষার্থীদের মধ্যে পরীক্ষা উপকরণ বিতরণ  » «   গুচ্ছ কবিতা ।। আতাউর রহমান মিলাদ  » «   ব্রিটেনের রাজা চার্লস ক্যান্সারে আক্রান্ত  » «   গুচ্ছ কবিতা ।। আবু মকসুদ  » «  
সাবস্ক্রাইব করুন
পেইজে লাইক দিন

নববর্ষের মতো বছরের প্রতিটা দিন হোক আনন্দের



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ছোট থাকতে একটা কথা শুনতাম সব সময়– বছরের প্রথম দিন যা যা করবো তাই নাকি সারা বছর করে যেতে পারবো। তাই তখন চেষ্টা করতাম বছরের প্রথম দিন অনেক ভালো ভাবে চলতে। বিশেষ করে কারো সাথে মিথ্যা কথা না বলা, মারামারি না করা, কাউকে মনে কষ্ট না দেয়া। যতটুকু সম্ভব ভালো খাবার দাবার খাওয়া (বছরের প্রথম দিন ভালো খেলে সারা বছর ভালো খাবো এই চিন্তায়), বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া ইত্যাদি। যতই বড় হতে লাগলাম ততই উপলব্দি করতে থাকলাম যে বছরের প্রথম দিন ভালো ভাবে চললেই সারা বছর ভালো ভাবে চলবো এই গ্যারান্টি নাই। বরং নিজেকে প্রতিটা দিন বছরের প্রথম দিন ভেবেই ভালভাবে চলার চেষ্টা করাটাই অনেক ভাল কাজ।

  • সরকারি হিসেবে বছরের প্রথম দিন ১৪ এপ্রিল হলেও আমরা হিন্দু ধর্মের লোকেরা ওই দিন চৈত্র সংক্রান্তি (পঞ্জিকার হিসেবে) পালন করে থাকি। সে হিসেবে ১৪ তারিখ নিরামিষ খেতে হয়। ছোট সময় আমরা ঘুরতে গিয়ে বাইরে কিছু খেতাম না । একটা কথা বড়রা বলতেন আমাদেরকে, চৈত্র সংক্রান্তির দিন মাছ মাংস খেলে নাকি সেগুলো কিড়ার সমান হয়!! বড় হয়ে অবশ্য বুঝতে পারলাম সেদিন মাছ মাংস না খাওয়ার জন্যই এইসব বলে ভয় দেখাতেন আমাদের কে ঠিক যেমন স্বরস্বতি পূজার আগে বরই খেলে পড়ালেখায় ভাল হবে না বলে ভয় দেখাতেন (বরই কাঁচা খেয়ে পেট খারাপ হতো, কাঁশি হতো তাই বাচ্চাদেরকে এই ভয় দেখানো হতো) এভাবেই।

যাই হোক আমরা প্রতি বছর চৈত্র সংক্রান্তির মেলায় যেতাম কানিহাত নামের একটা গ্রামে যেটা আমাদের গ্রাম থেকে ২ কি.মি. এর মতো দূরে। সেখানে সাড়াদিন কত আনন্দ করতাম আর পাশেই ছিল আমাদের পিশির বাড়ি যখন পেটে খিদা লাগতো সাথে সাথে পিসির ঘরে গিয়েই খেয়ে নিতাম। চৈত্র সংক্রান্তির দিন পিসির বাড়িতে বলতে গেলে বরযাত্রীর মতো অবস্তা হতো সেই দিনে। আত্মীয় স্বজন সবাই মোটামুটি উনাদের ঘরে খেতাম তাই মেলার দিন পিশি রান্নাবান্না নিয়েই ব্যাস্ত থাকতেন। আমার মনে হয় না উনি কখনোই মেলা দেখেছেন!! রান্না নিয়েই উনার দিন শেষ হয়ে যায়। মেলায় কত ধরনের খেলনা কিনতাম, খাবার খেতাম।

বড় হয়ে যখন কলেজে গেলাম তখন ধরণটা পাল্টে গেল। ১৪ তারিখ ঘুরতে যেতাম তবে চৈত্র সংক্রান্তির মেলায় নয় নববর্ষের মেলায়। এমসি কলেজ, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়, এডভ্যাঞ্চার ওয়ার্ল্ড, ড্রীমল্যান্ড পার্ক সহ অনেকে যায়গাতেই ঘুরতে যেতাম। কত আনন্দ। তখন আর নিরামিষের ধার ধারতাম না। জাতীয়তা বোধ টাই আগে। তাই ধর্মীয় রীতিতে বাড়িতে নিরামিষ আর নিজের সংস্কৃতি মেনে বাইরে গেলেই ইলিশ, শুটকি, চটপটি আর ফুচকা খেয়ে পেটের বারটা বাজিয়ে দিতাম।

আমাদের জীবনের প্রতিটা দিন হোক আনন্দের ঠিক নববর্ষের মতো। সকল অশুভ শক্তির বিনাস হোক, মুছেযাক সকল কুসংস্কার, বাঙ্গালী জাতির ঐতিহ্য সংস্কৃতি চির অমর হয়ে থাকুক আমাদের সকল প্রজন্মের অন্তরে। আমরা যেন আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য সঠিক ভাবে তুলে ধরতে পারি সেই দিকেই বেশী নজর দেওয়া প্রয়োজন। পারিবারিক ভাবে নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের ইতিহাস তুলে ধরলেই কোন অশুভ শক্তি আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতিকে ধংস করতে পারবেনা।


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন