শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
লন্ডনবাসী প্রবীণ মুরব্বী জমির উদ্দিন( টেনাই মিয়া)র ইন্তেকাল  » «   কবি সংগঠক ফারুক আহমেদ রনির পিতা মুমিন উদ্দীনের ইন্তেকাল  » «   একসেস ট্যু জাস্টিস নিশ্চিত করা আইনের শাসনের প্রধান স্তম্ভ  » «   বৃহত্তর সিলেট এডুকেশন ট্রাস্টের নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত  » «   বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে প্যালেষ্টাইনের জনগণের প্রতি উৎসর্গ করে লন্ডনে সমাবেশ  » «   এডভোকেট মোহাম্মদ আব্বাছ উদ্দিন যুক্তরাজ্যে আসছেন  » «   হিলালপুর গ্রামে সড়ক বাতি উদ্বোধন  » «   বিয়ানীবাজার জনকল্যাণ সমিতি ইউকের কার্যকরী কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত  » «   পূর্ব মুড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসিপরীক্ষার্থীদের মধ্যে পরীক্ষা উপকরণ বিতরণ  » «   গুচ্ছ কবিতা ।। আতাউর রহমান মিলাদ  » «   ব্রিটেনের রাজা চার্লস ক্যান্সারে আক্রান্ত  » «   গুচ্ছ কবিতা ।। আবু মকসুদ  » «   মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী : শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা  » «   ‘এখন হয়েছে উল্টো, পুরুষরা বাজারে এসে খাই, পরে পরিবারের জন্য কিনে নিয়ে যাই‘!  » «   বিশ্বনাথে ১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছে ব্যারিস্টার নাজির আহমদ ফাউন্ডেশন  » «  
সাবস্ক্রাইব করুন
পেইজে লাইক দিন

যোদ্ধা-বীরাঙ্গনা মেহেরজান (পর্ব ৫ )



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন


যে যুদ্ধ করে আর যে যুদ্ধের বয়ান তৈরি করে- এই দুয়ের মধ্যে বিস্তর ফারাক। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের অনেক পরের প্রজন্ম, তারা তৈরি করা বয়ান দিয়েই তো যুদ্ধ, যোদ্ধা, ইতিহাসকে চিনেছি। তাহলে এই ফারাকটা ভরাটের পথ কী?

ঠিক এই জায়গাটা থেকেই একসময় ভাবি, যোদ্ধার প্রকৃত বয়ানটাই বোধহয় সেই ফারাকটা ভরাট করে দিতে পারে। একসময় যোদ্ধার বয়ান শোনা শুরু করি। সত্যিকার অর্থেই তখন অন্য এক যুদ্ধকে প্রত্যক্ষ করি যোদ্ধার চোখে। সেই ঘোর আজও কাটেনি।

কিন্তু যোদ্ধাও তো মানুষ, সময়ের ব্যবধানে সেও নিজেকে যে পাল্টে ফেলেনি- তাই বা কে বলবে! তবু আজও মুক্তিযোদ্ধার, বীরাঙ্গণার, শরণার্থীর গল্প শুনি ঠাকুরমার ঝুলির রূপকথার মতো সরলতা, মুগ্ধতা আর শিহরণ নিয়েই।

সেই অচেনা, অজানা, অখ্যাত যোদ্ধা, যারা মুক্তিযুদ্ধকে জনযুদ্ধে রূপ দিয়েছিল, তাদের কিছু কিছু অভিজ্ঞতা এই উত্তাল মার্চের দিনগুলোতে শুনাতে চাই ৫২বাংলায় ।

‘মুক্তিযুদ্ধের পর তো সোয়ামি আমারে আর ঘরে লয় না। বলে, তুই পাকিস্তানী ক্যাম্পে যা। আমি তোর লগে থাকুম না। বাহে কন, আমি তখন কই যাই? সোয়ামি ঘরে আসে না, বাইরে বাইরে থাকে। ততদিনে বড় পোলা মোস্তফার জন্ম হইছে। বাপের বাড়ির লোকজন আমারে দেখে, পোলারে দেখে। সোয়ামিরে তখন অনেক বুঝায় বাপের বাড়ির লোকজন আর গ্রামের মানুষ। শেষে ছয় মাস পরে সোয়ামি আমারে ঘরে লইছে। হেরপরেও কত ঝগড়া, কথায় কথায় খালি মুক্তিযুদ্ধের সময়ের কথা তুলত। সে এখন পঙ্গু, অচল; চলাফেরা করতে পারে না। আমিই তারে দেখি, খাওয়াই।’

মেহেরজানের সামনে বসে মনে হয় মুক্তিযুদ্ধ বোধহয় তার মূল অবয়ব ছেড়ে বেরিয়ে আসছে আমার চোখের সামনে, মেহেরজানের কঙ্কাল যেন অন্য-ভিন্ন এক ছায়াশরীর হয়ে হানা দেয় পৃথিবীর তামাম যুদ্ধবিধ্বস্ত মনস্তত্ত্বে। আমি ইতিহাসের সেই কঙ্কাল খুঁজতে এসেছিলাম কুড়িগ্রামে।

বীরাঙ্গনা মেহেরজান বেগম ২০১৩ সালের আগস্টের এক সকালে আক্ষেপ করেই এসব কথা বলছিলেন।(ছবি: চন্দন সাহা রায়)


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন