সোমবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
কসবা-খাসা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ইউকের ত্রি-বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত  » «   যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের নারী শিক্ষার্থীদের ভিসা ও দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক বৃত্তি বাড়ানোর আহ্বান  » «   আজিজুর রহমান চৌধুরি স্মারক সম্মাননায় ভূষিত বাংলাদেশের স্থপতি ও লেখক, নাট্যকার শাকুর মজিদ  » «   কেসি সলিসিটর্সের দশক পূর্তি উদযাপন  » «   বঙ্গবন্ধু স্কলারশিপ আন্তর্জাতিক অঙ্গণে বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রতিচ্ছবি  » «   লীলা নাগের স্মৃতি রক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যোগ নেবে  » «   ফুসফুস-ক্যান্সার পরীক্ষার জন্য মাইল এন্ড লেজার সেন্টারে স্থাপন করা হচ্ছে বিশেষ ‘স্ক্রিনিং মেশিন’  » «   অলি-মিঠু-টিপু প্যানেলের পরিচিতি ও ইশতেহার ঘোষণা  » «   ২০ নভেম্বর লন্ডনের রয়েল রিজেন্সিতে ৫ম বেঙ্গলী ওয়েডিং ফেয়ার  » «   একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির যুক্তরাজ্য শাখা গঠিত  » «   টি আলী স্যার ফাউন্ডেশন সম্মাননা পেলেন সিলেটের ২৪গুণী শিক্ষক  » «   নওয়াগ্রাম প্রগতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফুল, ফল ও ঔষধি বৃক্ষরোপণ  » «   আলোকিত মানুষ শিক্ষক মো. সমছুল ইসলাম এর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী  » «   সিলেটের বিয়ানীবাজারে একটি পরিত্যক্ত কূপে তাজা গ্যাসের মজুদ আবিষ্কৃত  » «   বাংলাদেশী কারী  ব্রিটেনের প্রবৃত্তি ও খাবার সংস্কৃতিতে অনন্য  অবদান রাখছে  » «  
সাবস্ক্রাইব করুন
পেইজে লাইক দিন


যোদ্ধা-বীরাঙ্গনা দুলু বেগম



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

যে যুদ্ধ করে আর যে যুদ্ধের বয়ান তৈরি করে- এই দুয়ের মধ্যে বিস্তর ফারাক। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের অনেক পরের প্রজন্ম, তারা তৈরি করা বয়ান দিয়েই তো যুদ্ধ, যোদ্ধা, ইতিহাসকে চিনেছি। তাহলে এই ফারাকটা ভরাটের পথ কী?

ঠিক এই জায়গাটা থেকেই একসময় ভাবি, যোদ্ধার প্রকৃত বয়ানটাই বোধহয় সেই ফারাকটা ভরাট করে দিতে পারে। একসময় যোদ্ধার বয়ান শোনা শুরু করি। সত্যিকার অর্থেই তখন অন্য এক যুদ্ধকে প্রত্যক্ষ করি যোদ্ধার চোখে। সেই ঘোর আজও কাটেনি।

কিন্তু যোদ্ধাও তো মানুষ, সময়ের ব্যবধানে সেও নিজেকে যে পাল্টে ফেলেনি- তাই বা কে বলবে! তবু আজও মুক্তিযোদ্ধার, বীরাঙ্গণার, শরণার্থীর গল্প শুনি ঠাকুরমার ঝুলির রূপকথার মতো সরলতা, মুগ্ধতা আর শিহরণ নিয়েই।

সেই অচেনা, অজানা, অখ্যাত যোদ্ধা, যারা মুক্তিযুদ্ধকে জনযুদ্ধে রূপ দিয়েছিল, তাদের কিছু কিছু অভিজ্ঞতা এই উত্তাল মার্চের দিনগুলোতে শুনাতে চাই ৫২বাংলায়।

যুদ্ধ সম্পর্কে দুলু বেগমের কোনো ধারণা নেই, বা বাস্তবিক অর্থে তাঁর কোনো ভূমিকাও নেই। অথচ সেই যুদ্ধই তাঁর স্বাভাবিক জীবনকে পাল্টে দিল। যুদ্ধ পরবর্তী সময়টা তাঁর কাছে একটা ঘোরের মতো।

পাকিস্তানি হানাদারদের ক্যাম্প থেকে ফেরার পর স্বামী আর ঘরে তুলেনি। দুদিন আগের পরিচিত পৃথিবীটা এক নিমিষেই অপরিচিত হয়ে উঠল দুলুর কাছে। কুড়িগ্রাম রেলস্টেশনে ঠাঁই হয় দুলুর। পেটের দায়ে পুরুষের সঙ্গে কুলির কাজও করেছেন।

অথচ যে দুলুকে কেউ ঘরে তুলেনি, সেই দুলুই ঘরে তুলেন রেললাইনে কুড়িয়ে পাওয়া একটি মেয়েকে। অনাথ শিশুটিকে মায়ের স্নেহ দিয়ে মানুষ করেছেন। অভাবের কারণে পেটের ছেলেকে পড়াশোনা করাতে না পারলেও মেয়ে জবাকে তিনি পড়িয়েছেন, বিয়ে দিয়েছেন।

আচ্ছা, এটা কি এই প্রচলিত সমাজের প্রতি দুলুর কোনো গর্বিত-প্রতিশোধ? খুব সাবধানে প্রশ্ন করেছিলাম দুলুকে। দুলু কোনো উত্তর দেননি। সেদিন কুড়িগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের ভাঙা কোয়ার্টারে দুলুর পাশে জবাও ছিলেন। তিনিও কোনো উত্তর দেননি।

বরং জবা বললেন, তাঁর মাকে এখনও অনেক কথা শুনতে হয়। জবার মুখ থেকে কথা টেনে নিয়ে দুলু বলতে লাগলেন, ‘মানুষ মেলা কইছে। সবাইরে দেখা আছে। আগে আমি এসব কথায় কষ্ট পাইতাম। এখন গা-সওয়া হয়ে গেছে। আমি তো আর সাধে পাকিস্তানি ক্যাম্পে যাই নাই। আমার দোষ কী? আপনি কইতে থাকেন। আমার তো বাঁচতে হইবো।’

(২০১৩ সালের জুনে কুড়িগ্রামে দুলু বেগমের সাক্ষাতকার নেওয়া হয়। ছবি: নিজস্ব)


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন