মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃক বন্যা দুর্গতদের চিকিৎসার্থে বিনামূল্যে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল ক্যাম্প  » «   যুক্তরাজ্যে ঈদের ছুটির দাবীতে  আলতাব আলী পার্কে সমাবেশ অনুষ্ঠিত  » «   পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে স্পেনে দূতাবাসের বিশেষ আয়োজন  » «   পদ্মা সেতুর স্মারক নোট বাজারে আসবে রবিবার  » «   পদ্মা সেতুর জন্য অভিনন্দন বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধির  » «   অদম্য বাংলাদেশ, খুলল পদ্মার দ্বার  » «   আছে শুধু ভালোবাসা, দিয়ে গেলাম তাই: প্রধানমন্ত্রী  » «   রেমিটেন্স প্রেরণে উদ্বুদ্ধকরণে মাদ্রিদে মতবিনিময় সভা’ অনুষ্ঠিত  » «   বিশ্বনাথে মায়ের কোল থেকে ভেসে গেল শিশু, ৫ জনের মৃত্যু  » «   লন্ডনে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ইউকের বিশ বছরপূর্তি উদযাপন  » «   মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবাদ এবং সাধারণ জনগণ  » «   স্পেনে ঢাকা ফ্রুতাস (Frutas) এর ১৬ বছর পূর্তি উৎসব অনুষ্ঠিত  » «   সিলেটে বন্যা : বৃষ্টি হয়েছে নদ-নদীর পানি কমেছে  » «   সিলেটে রানওয়েতে বন্যার পানি, বন্ধ বিমানের ফ্লাইট  » «   যুক্তরাজ্যে ঈদে ছুটির দাবীতে আলতাব আলী পার্কে সমাবেশ ২২শে জুন  » «  
সাবস্ক্রাইব করুন
পেইজে লাইক দিন


যোদ্ধা-বীরাঙ্গনা দুলু বেগম



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

যে যুদ্ধ করে আর যে যুদ্ধের বয়ান তৈরি করে- এই দুয়ের মধ্যে বিস্তর ফারাক। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের অনেক পরের প্রজন্ম, তারা তৈরি করা বয়ান দিয়েই তো যুদ্ধ, যোদ্ধা, ইতিহাসকে চিনেছি। তাহলে এই ফারাকটা ভরাটের পথ কী?

ঠিক এই জায়গাটা থেকেই একসময় ভাবি, যোদ্ধার প্রকৃত বয়ানটাই বোধহয় সেই ফারাকটা ভরাট করে দিতে পারে। একসময় যোদ্ধার বয়ান শোনা শুরু করি। সত্যিকার অর্থেই তখন অন্য এক যুদ্ধকে প্রত্যক্ষ করি যোদ্ধার চোখে। সেই ঘোর আজও কাটেনি।

কিন্তু যোদ্ধাও তো মানুষ, সময়ের ব্যবধানে সেও নিজেকে যে পাল্টে ফেলেনি- তাই বা কে বলবে! তবু আজও মুক্তিযোদ্ধার, বীরাঙ্গণার, শরণার্থীর গল্প শুনি ঠাকুরমার ঝুলির রূপকথার মতো সরলতা, মুগ্ধতা আর শিহরণ নিয়েই।

সেই অচেনা, অজানা, অখ্যাত যোদ্ধা, যারা মুক্তিযুদ্ধকে জনযুদ্ধে রূপ দিয়েছিল, তাদের কিছু কিছু অভিজ্ঞতা এই উত্তাল মার্চের দিনগুলোতে শুনাতে চাই ৫২বাংলায়।

যুদ্ধ সম্পর্কে দুলু বেগমের কোনো ধারণা নেই, বা বাস্তবিক অর্থে তাঁর কোনো ভূমিকাও নেই। অথচ সেই যুদ্ধই তাঁর স্বাভাবিক জীবনকে পাল্টে দিল। যুদ্ধ পরবর্তী সময়টা তাঁর কাছে একটা ঘোরের মতো।

পাকিস্তানি হানাদারদের ক্যাম্প থেকে ফেরার পর স্বামী আর ঘরে তুলেনি। দুদিন আগের পরিচিত পৃথিবীটা এক নিমিষেই অপরিচিত হয়ে উঠল দুলুর কাছে। কুড়িগ্রাম রেলস্টেশনে ঠাঁই হয় দুলুর। পেটের দায়ে পুরুষের সঙ্গে কুলির কাজও করেছেন।

অথচ যে দুলুকে কেউ ঘরে তুলেনি, সেই দুলুই ঘরে তুলেন রেললাইনে কুড়িয়ে পাওয়া একটি মেয়েকে। অনাথ শিশুটিকে মায়ের স্নেহ দিয়ে মানুষ করেছেন। অভাবের কারণে পেটের ছেলেকে পড়াশোনা করাতে না পারলেও মেয়ে জবাকে তিনি পড়িয়েছেন, বিয়ে দিয়েছেন।

আচ্ছা, এটা কি এই প্রচলিত সমাজের প্রতি দুলুর কোনো গর্বিত-প্রতিশোধ? খুব সাবধানে প্রশ্ন করেছিলাম দুলুকে। দুলু কোনো উত্তর দেননি। সেদিন কুড়িগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের ভাঙা কোয়ার্টারে দুলুর পাশে জবাও ছিলেন। তিনিও কোনো উত্তর দেননি।

বরং জবা বললেন, তাঁর মাকে এখনও অনেক কথা শুনতে হয়। জবার মুখ থেকে কথা টেনে নিয়ে দুলু বলতে লাগলেন, ‘মানুষ মেলা কইছে। সবাইরে দেখা আছে। আগে আমি এসব কথায় কষ্ট পাইতাম। এখন গা-সওয়া হয়ে গেছে। আমি তো আর সাধে পাকিস্তানি ক্যাম্পে যাই নাই। আমার দোষ কী? আপনি কইতে থাকেন। আমার তো বাঁচতে হইবো।’

(২০১৩ সালের জুনে কুড়িগ্রামে দুলু বেগমের সাক্ষাতকার নেওয়া হয়। ছবি: নিজস্ব)


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন