বুধবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
বেশ্যাবিদদের ‘এলিট সিস্টেম’!  » «   কিং চার্লস ও কুইন কনসোর্ট বাংলা টাউন আসছেন  » «   অসুস্থ চারখাই ইউপি চেয়ারম্যান হোসেন মুরাদ চৌধুরীর আশু সুস্থতা কামনায় লন্ডনে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত  » «   আলীনগর ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ইউকে‘র আত্নপ্রকাশ  » «   অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী  » «   তরুণদের উচ্চশিক্ষায় সহায়তা: মেয়র লুৎফুর রহমান এবার চালু করলেন ইউনির্ভাসিটি বার্সারি স্কিম  » «   ‘টি আলী স্যার’কে নিয়ে হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে গানের চিত্রায়ণ  » «   বিবিসিজিএইচ এর বিয়ানীবাজারের মোল্লাপুর-এ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান  » «   কবিকণ্ঠের সুবর্ণরেখায় শিক্ষাব্রতী শীর্ষক সুহৃদ আড্ডায় বক্তারা- অগণন প্রাণে আলো জ্বেলেছেন মো. শওকত আলী  » «   স্পেন-বাংলাদেশ প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্কের পরিধি বিস্তৃত হচ্ছে  » «   টি আলী স্যারকে নিয়ে লেখা আব্দুল গাফফার চৌধুরী’র গানে সুর দিলেন মকসুদ জামিল মিন্টু  » «   লন্ডনে প্রকাশক ও গবেষক মোহাম্মদ নওয়াব আলীর সাথে মতবিনিময় ও ‘বাসিয়ার বই আলোচনা‘র  মোড়ক উন্মোচন  » «   ঢাকা এন আর বি ক্লাবে – ‘বাঙালীর বিয়েতে বাংলাদেশের পোশাক’ ক্যাম্পেইনের নেটওয়ার্কিং মিটিং  » «   প্রধানমন্ত্রীর সাথে ঢাবি অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকে’র সভাপতির সাক্ষাৎ  » «   লন্ডনে গোলাপগঞ্জের কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের সাথে সরওয়ার হোসেনের মতবিনিময়  » «  
সাবস্ক্রাইব করুন
পেইজে লাইক দিন

যোদ্ধা-বীরাঙ্গনা নূরজাহান বেগম



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

যে যুদ্ধ করে আর যে যুদ্ধের বয়ান তৈরি করে- এই দুয়ের মধ্যে বিস্তর ফারাক। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের অনেক পরের প্রজন্ম, তারা তৈরি করা বয়ান দিয়েই তো যুদ্ধ, যোদ্ধা, ইতিহাসকে চিনেছি। তাহলে এই ফারাকটা ভরাটের পথ কী?

ঠিক এই জায়গাটা থেকেই একসময় ভাবি, যোদ্ধার প্রকৃত বয়ানটাই বোধহয় সেই ফারাকটা ভরাট করে দিতে পারে। একসময় যোদ্ধার বয়ান শোনা শুরু করি। সত্যিকার অর্থেই তখন অন্য এক যুদ্ধকে প্রত্যক্ষ করি যোদ্ধার চোখে। সেই ঘোর আজও কাটেনি।

কিন্তু যোদ্ধাও তো মানুষ, সময়ের ব্যবধানে সেও নিজেকে যে পাল্টে ফেলেনি- তাই বা কে বলবে! তবু আজও মুক্তিযোদ্ধার, বীরাঙ্গণার, শরণার্থীর গল্প শুনি ঠাকুরমার ঝুলির রূপকথার মতো সরলতা, মুগ্ধতা আর শিহরণ নিয়েই।

সেই অচেনা, অজানা, অখ্যাত যোদ্ধা, যারা মুক্তিযুদ্ধকে জনযুদ্ধে রূপ দিয়েছিল, তাদের কিছু কিছু অভিজ্ঞতা এই উত্তাল মার্চের দিনগুলোতে শুনাতে চাই ৫২বাংলায়।

নূরজাহান বেগম

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ছনকান্দা গ্রামের বীরাঙ্গনা নূরজাহান বেগমকে দুইবার মরতে হয়েছে। প্রথমবার যখন পাকিস্তানি বাহিনী তাঁকে ধরে নিয়ে যায়। আর দ্বিতীয়বার পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্পে নির্যাতিত হওয়ার কারণে তাঁর স্বামী তাঁকে ফেলে চলে যায়, তখন। কিন্তু নূরজাহান এ দুটি কারণের কোনোটির জন্যই দায়ী নয়। তিনি এ দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের `বলি`।

পাকিস্তানি সেনারা স্থানীয় হাইস্কুলে এসে উঠেছে। গ্রাম থেকে নারী-পুরুষদের ধরে সেখানে আনা হচ্ছে। নূরজাহানের কোলে তখন একটি মেয়ে। তিনি তখন সন্তানসম্ভবা। নূরজাহানকে হাইস্কুলের একটি কক্ষে নিয়ে বন্দি করে রাখা হয়।

সেখানে শুধু নূরজাহান একা না। আরো অনেক মানুষকে ধরে এনেছে পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকাররা। কাউকে কাউকে নির্যাতনও করা হয়েছে। চোখ বাঁধা অবস্থায় অনেককে আনা হয়েছে। নূরজাহানের কোলের মেয়েটি অনবরত কেঁদে চলেছে। সেই ক্যাম্পেই নির্যাতনের শিকার হন নূরজাহান। পাকিস্তানি হানাদারদের নির্যাতনের চিহ্ন নিয়ে কোনোভাবে ক্যাম্প থেকে বাড়ি ফিরে আসেন নূরজাহান। সেই কলঙ্ক আজো তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে তাঁকে।

যুদ্ধ নূরজাহানের জীবনটাকেই অভিশপ্ত করে দিয়েছে। তিনি সমাজ, রাষ্ট্র কারো কাছেই আর কোনো স্বীকৃতি চান না।

(২০১৫ সালের জুন মাসে একদিন বিকেলে নূরজাহানের একমাত্র ছেলের সঙ্গে ছনকান্দা বাজারে আলাপ হয়।)


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন