বুধবার, ৫ অক্টোবর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২০ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
মাথিউরা ইউনিয়ন উন্নয়ন সংস্থা ইউকে এর সম্মেলন ও  কার্যকরি কমিটি গঠিত  » «   প্রবাসী ৭ ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিসিএ ও ইউকে বিবিসিআই’র সংবাদ সম্মেলন  » «   বিসিএ’র  ১৬তম  এওয়ার্ড অনুষ্ঠান ৩০ অক্টোবর  লন্ডনের পার্ক প্লাজায়  » «   সাত ব্যবসায়ীর ষড়যন্ত্রমূলক গ্রেফতারে বিচার এবং তাঁদের নিরাপদে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে আনার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন  » «   বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃক আঙ্গুরায় বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান  » «   স্পেনে বিয়ানীবাজার পৌরসভা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট বার্সেলোনা কমিটি গঠিত  » «   স্পেনে বাংলাদেশ কালচারাল ইয়ং ফেডারেশন কমিটি গঠিত  » «   গোলাপগঞ্জে সাংবাদিক জাহেদের উপর সন্ত্রাসী হামলা  » «   মাসা আমিনির মৃত্যুতে ইরানের ‘নীতি পুলিশ’ এখন আলোচনায়  » «   অনশনে বসতে আ’লীগ কার্যালয়ে ইডেন ছাত্রলীগের ১২ নেত্রী  » «   ইতালিতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে বিএনপি’র ৪৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন  » «   ইতালির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি ও সিনেট পদপ্রার্থীদের রোমের বাংলাদেশী কমিউনিটির সাথে মতবিনিময়  » «   রানির প্রস্থান, রাজার আগমন এবং আধুনিক ব্রিটেন  » «   আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় তৃতীয় বাংলাদেশি তাকরিম  » «   ফুটবলার আঁখির বাবার সঙ্গে অসদাচরণ, দুই পুলিশ ক্লোজড  » «  
সাবস্ক্রাইব করুন
পেইজে লাইক দিন


কর্পোরেট উৎসব এবং প্রবাসী নেতা-কর্মীদের দেশ যাত্রা



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

পৃথিবীটা সংঘবদ্ধ একেকটা কর্পোরেট ব্যবসায়ীদের দখলে। ব্যবসায়ীরা সবখানেই ব্যবসা খোঁজে। এরা ক্ষুধায় বাণিজ্য দেখে। যুদ্ধে-প্রাণহানিতে পৃথিবীর অস্ত্রবাজ ব্যবসায়ী আর সরকারপ্রধানরা ভাগিয়ে নেয় কোটি কোটি পাউন্ড কিংবা ডলার। যে মৃত্যু কিংবা ধ্বংসযজ্ঞ বাণিজ্য বাড়ায়, তা সারা বিশ্বেই প্রচার পায়। বাণিজ্য মাঝপথে বন্ধ হয়ে যেতে পারে, এই শঙ্কায় অনেকে নৃশংসতাও সারা বিশ্বে উঠে আসে না। এমনকি চরম নৃশংসতার খবরগুলো বিশ্ব গণমাধ্যমে ছবি হয়ে উঠে না। ইয়েমেনের ওপর সৌদি আরবের হামলা, প্রতিদিন শত শত শিশুর মৃত্যু, নীরব দুর্ভিক্ষ কোনো কিছুই যেন খবর হয়ে উঠছে না সারা বিশ্বে।

বাংলাদেশের নির্বাচনকে বলা হয় উৎসব। কীভাবে এটা উৎসব হয়ে উঠে, আমি ভেবে পাই না। উৎসব মানে স্বতঃস্ফ‚র্ত নির্ঝঞ্ঝাট নির্ভার সময়। অথচ বাংলাদেশের ভোট হয়ে উঠে জনারণ্যে প্রতিহিংসার প্রগলভতা। দলীয় প্রার্থীর বিজয় ছিনিয়ে আনার সংস্কৃতি নতুন নয়। পৃথিবীর সব দেশেই দলের কিংবা সমর্থিত মানুষকে জিতিয়ে আনাটাই সমর্থকদের রাজনৈতিক দায়িত্ব। এ সংস্কৃতির কর্ষণ চলে সবখানে, কিন্তু ছিনিয়ে আনার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার স্লোগানটাই নেই। দলীয় কিংবা সমর্থিত নেতাকে বিজয়ী করার জন্য এরা প্রাণ বলি দিতে প্রস্তুত থাকে। আর সে জন্যই এদের কেউ কেউ বলি হয়। কোথাও কোথাও বলি দেয়। বলি দেয়া-নেয়ার মাঝে কীভাবে উৎসব হয়, তা আমাদের ভাবনায় ফেলে দিতেই পারে।

উৎসব মানে কাড়ি কাড়ি টাকা দিয়ে দিনটাকে সাজানো। মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব দুটো ঈদ। এ দুটো দিনকে ঘিরে কত কোটি টাকা খরছ করা হয়, বিশ্বের মুসলমানদের এ বিশাল বাজেটের সঠিক তথ্য না জানা থাকলেও এ এক বিরাট বাজেট। হিন্দু ধর্মীয় দিনগুলোতেও উৎসবে মেতে উঠে ওই সম্প্রদায়ের মানুষ। সত্যিকার অর্থেই বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের এ দিনগুলোতে উৎসব হয়। পশ্চিমের দেশগুলোতে ক্রিসমাস সম্ভবত সবচেয়ে ব্যয়বহুল উৎসব। ডিসেম্বরের ২৫ তারিখের জন্য ব্রিটেনের রাস্তাঘাট দোকানগুলো জ্বলজ্বল করছে। অনলাইন ব্যবসা থেকে শুরু করে সবখানেই যেন ‘নিঃশেষ হযে যাচ্ছে, এখনই কিনে রাখতে হবে’ এ রকম অবস্থা।

এ বিবেচনায় বাংলাদেশের নির্বাচন সত্যিকার অর্থেই কি একটা উৎসব, এ কথাটা আসতেই পারে। অথচ এভাবেই যেন দিনটাকে জনসমক্ষে নিয়ে আসা হয়েছে। নির্বাচনে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন আসে, না বিপর্যয় ঘঠে, তা নির্ধারিত হবে মূলত আগামী দিনের সরকার ব্যবস্থার ওপর। বিগত বছরগুলোর কর্মতৎপরতা দেখে বাছ-বিছার করে বড় দলগুলো প্রার্থী মনোনীত করলে জনগণের ভাগ্যে বিপর্যয়ের সম্ভাবনা কম থাকে। আর সে হিসেবে নির্বাচনের আগে শুধু প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে যে আনন্দঘন নাচানাচি লক্ষ করছে বাংলাদেশের মানুষ, তাতে মনেই হচ্ছে আসলে উৎসব শুরু হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিতে হাজার হাজার প্রার্থী ভিড় করেছেন। কোটি কোটি টাকার ন্যায়ত বাণিজ্য করেছে আওয়ামী লীগ। একটা দল ক্ষমতাসীন হলে কর্মী-নেতাদের আকাক্সক্ষা বাড়ে, কাক্সিক্ষত পদের জন্য এরা তখন লড়তে ভালোবাসেন। এমনকি জনগণের কাতারে না থেকেও জনপ্রতিনিধি হতে চান তারা। সে জন্যই দেখা গেছে মধ্যপ্রাচ্য যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য ঝাঁপ দিয়েছেন ঢাকায়, যার যার এলাকা থেকে মনোনয়ন পেতে। এবার যুক্তরাজ্য থেকে বৃহত্তর সিলেটের ১৯টি সংসদীয় এলাকায় মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী। এর মাঝে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের সংখ্যাই বেশি।

হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া তাদের প্রায় সবাই জানেন, তারা মনোনয়ন পাবেন না। যে দুয়েকজন পেতে যাচ্ছেন, দল কিংবা এলাকার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা আছে। আওয়ামী লীগের এবং জাতীয় পার্টির এই নেতারা এমপি ছিলেন, এখনো কেউ কেউ আছেন। বিএনপিরও একজন এমপি ছিলেন তাদের শাসনামলে। এমনকি বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম যুক্তরাজ্যেরও নাগরিক। স্থানীয় নির্বাচনে সিলেটের কিছু কিছু এলাকা থেকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিতও হয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে পৌর মেয়র পর্যন্ত নির্বাচিত হয়েছেন কয়েকজন যুক্তরাজ্য প্রবাসীও এবং এদের মাঝে বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। আর সে হিসেবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আকাক্সক্ষাটা একটু বেশিই। যেহেতু দল ক্ষমতায়, তাই কোনো না কোনোভাবে নমিনেশন চেয়ে দলের হাইকমান্ডের চোখে পড়ার ব্যাপারটাও আছে। খুব স্বাভাবিকভাবেই দল আবারো ক্ষমতায় এলে এই ‘চোখে পড়া’ বিভিন্নভাবেই কাজ দিতে পারে। আগামীতে ব্যবসা কিংবা এমনকি স্থানীয় রাজনীতিতেও এরা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন, তাও তাদের বিবেচনায় আছে। সত্যি কথা হলো যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্য কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাসরত এমন অনেকেই আছেন, যারা স্থায়ীভাবে বসবাস করা দেশে দীর্ঘদিন অবস্থান করার পরও বৈষয়িক ক্ষেত্রে সফলতা না পেলেও এ সরকারের আমলে বাংলাদেশে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছেন। বিশেষত ব্যবসায় এরা সফলতাও পাচ্ছেন। স্বাভাবিকভাবে দেশে ব্যবসা করেই নতুন নতুন বিনিয়োগে হাত দিয়েছেন তাদের কেউ কেউ।

অন্যদিকে বিএনপি নেতারা আছেন বিপাকে। জামায়াতি রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকেই আছেন কালো তালিকায়। কারণ মনোনয়ন পেতে আগ্রহী অনেকেই দেশে যেতে পারছেন না। আওয়ামী লীগ বিরোধী বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণায় তারা সংশ্লিষ্ট। তা ছাড়া তাদের অনেকেই ব্রিটেনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি হেয় করতে বিভিন্ন প্রচার প্রচারণায় জড়িত আছেন বলে বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের কাছে রিপোর্ট আছে। বিশেষত লন্ডন হাইকমিশনে ভাঙচুর, ভিন্ন ভিন্ন সময়ে দুজন মন্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করা, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি, সোস্যাল মিডিয়ায় জঘন্য উচ্চারণের কারণে এরা কালো তালিকাভুক্ত। তাই তারা গ্রেপ্তারি ভয়ে দেশে না গিয়েই মনোনয়ন নিয়ে রেখেছেন। অবশ্য তাদের ভরসার জায়গা এখানে তারেক জিয়া। তার নির্দেশেই তারা সবকিছু করছেন এবং এখানে তার খুবই ভালো অবস্থানে আছেন। তারেক জিয়াকে দেখাশোনার সুবাদে কিছু নেতারা প্রসন্ন ভাগ্য নিয়ে দিন কাটান। এমনকি দেশের অনেক বাঘা বাঘা নেতাকর্মীও তাদের কাছে ধরণা দেন। সুতরাং দেশের রাজনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় এদের কেউ কেউ দেশে পাড়িও জমাতে পারেন। দেশের বাইরে থেকে যারা নির্বাচন করতে চান তাদের অধিকাংশই যেহেতু দেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ বিএনপি কিংবা জাতীয় পার্টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তাই দেখা যায় বাংলাদেশ থেকে নেতারা এলে তাদের প্রায় সবাই-ই সেলফি তোলেন, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এদের জন্য পাউন্ড খরচ করেন। কোনো না কোনোভাবে এরা নেতার প্রিয়পাত্রও হন। নেতার আশ্বাসে তাই তারা পাড়ি জমান এবং এরপর সোস্যাল মিডিয়ায় কিংবা এলাকার স্থানীয় পত্রপত্রিকায় বিজ্ঞাপন চালাচালি করেন। তাও কম নয়। এলাকার মানুষ জানে তাদের। তাদের ছবির পোস্টার বাতাসে উড়ে। এলাকার তরুণদের দ্বারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথির আসনে অধিষ্ঠিত হন। বিনোদনের একটা ক্ষেত্রও পায় স্থানীয় তরুণরা। এদের নিয়েই উৎসবে মেতে উঠে স্থানীয় মানুষ।

স্বাভাবিক এবং সঙ্গত কারণে তাদের ৩ শতাংশও মনোনয়ন পাবেন না। কিন্তু তারপরও মনোনয়ন বঞ্চিত প্রবাসীরা থামবেন না। কেন্দ্রীয় নেতাদের আশ্বাস তাদের নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখাবে। তারা নতুন স্বপ্ন নিয়ে আগাতে থাকবেন। আগামী দিনের কাণ্ডারী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মাসব্যাপী এ উৎসবে তারা নিজেদের নিয়োজিত রাখবেন। সে জন্যই এ উৎসবে সংযুক্ত হতে বিভিন্ন প্রার্থীর সমর্থনে কাজ করতে শত শত কর্মীরা এখন কোনো না কোনো উড়োজাহাজে চড়ে বসেছেন। উৎসবে মেতে উঠতে অর্থ-শ্রম সবই দেবেন তারা। উৎসব উৎসব খেলায় মেতে উঠবেন। নির্বাচনের এ উৎসব মাত্র একটা মাসের জন্য হলেও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটা প্রবাহ নিয়ে আসে। একটা সংঘবদ্ধ ধনিক শ্রেণি এ নির্বাচনকে ব্যবসায়ই রূপ দিয়েছে, তাইতো নির্বাচন আসলেই চাউর হয় নমিনেশন বাণিজ্যের কথা, মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হয় ‘ভোট বাণিজ্য’ শব্দটি।

ফারুক যোশী : কলামিস্ট, প্রধান সম্পাদক ৫২বাংলাটিভিডটকম।


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

"এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত ও লেখার দায় লেখকের একান্তই নিজস্ব " -সম্পাদক

,সাংবাদিক, কলামিস্ট
ফারুক যোশী; কলামিস্ট, প্রধান সম্পাদক; ৫২বাংলাটিভিডটকম
লেখকের অন্যান্য পোষ্ট