রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
বঙ্গবন্ধু স্কলারশিপ আন্তর্জাতিক অঙ্গণে বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রতিচ্ছবি  » «   লীলা নাগের স্মৃতি রক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যোগ নেবে  » «   ফুসফুস-ক্যান্সার পরীক্ষার জন্য মাইল এন্ড লেজার সেন্টারে স্থাপন করা হচ্ছে বিশেষ ‘স্ক্রিনিং মেশিন’  » «   অলি-মিঠু-টিপু প্যানেলের পরিচিতি ও ইশতেহার ঘোষণা  » «   ২০ নভেম্বর লন্ডনের রয়েল রিজেন্সিতে ৫ম বেঙ্গলী ওয়েডিং ফেয়ার  » «   একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির যুক্তরাজ্য শাখা গঠিত  » «   টি আলী স্যার ফাউন্ডেশন সম্মাননা পেলেন সিলেটের ২৪গুণী শিক্ষক  » «   নওয়াগ্রাম প্রগতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফুল, ফল ও ঔষধি বৃক্ষরোপণ  » «   আলোকিত মানুষ শিক্ষক মো. সমছুল ইসলাম এর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী  » «   সিলেটের বিয়ানীবাজারে একটি পরিত্যক্ত কূপে তাজা গ্যাসের মজুদ আবিষ্কৃত  » «   বাংলাদেশী কারী  ব্রিটেনের প্রবৃত্তি ও খাবার সংস্কৃতিতে অনন্য  অবদান রাখছে  » «   পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীবাদের প্রতিবন্ধকতা  » «   রিষি সুনাক এশিয়ান বংশদ্ভোত, কনজারভেটিভ এবং ধনীদের বন্ধু  » «   গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাব নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহবান  » «   স্পেনে যুবলীগের উদ্যোগে আলোচনা ও কর্মীসভা অনুষ্ঠিত  » «  
সাবস্ক্রাইব করুন
পেইজে লাইক দিন


ইকবাল হোসেন বাল্মীকির দুটি কাব্যগ্রন্থের পাঠ উন্মোচন ও কবিতা সন্ধ্যা



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

লন্ডনে কবি ইকবাল হোসেন বাল্মীকির দুটি কাব্যগ্রন্থের পাঠ উন্মোচন ও কবিতা সন্ধ্যা অনুষ্ঠান হয়েছে । সূর্য ডুবার মূহুর্ত সময়ে, একপশলা বৃষ্টি মাড়িয়ে ১১ সেপ্টেম্বর ইস্ট লন্ডনের ব্লু মুন সেন্টার সরব হয়ে ওঠেছিল কাব্যজনদের উপস্থিতিতে ।

‘অনন্ত ফাঁসির মঞ্চে ক্রশের খোশবাই‘ ও ‘দু:খবাদীর চিরল দাঁতে‘  কাব্যগ্রন্থের পাঠ উন্মোচন ও কবিতাসন্ধ্যা  শুরু হয় গাণের আলোয়, মুগ্ধতা ছড়িয়ে।

কবির কবিতা পাঠ, অনুভূতিকথা ও আলোচনার ফাঁকে বিলেতের জনপ্রিয় আবৃত্তিশিল্পীদের আবৃত্তি আর গানে অনুষ্ঠানটি ছিল সৃজনআবহে ভরা । সন্ধ্যে সাড়ে সাতটায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে দর্শকরা  শব্দ ও শব্দকল্পের খুশবতে বিমোহিত যে ছিলেন তা বুঝা গেছে অনুষ্ঠান শেষ হবার  ঘোষণার মুহুর্তে।

সৃজনশীলতায়  আয়োজিত অনুষ্ঠানটিকে ঋদ্ধ করেছে প্রধান আলোচকের বক্তব্যও।

অনুষ্ঠানের আয়োজক সংগঠক সংহতি সাহিত্য পরিষদ। পাঠ উন্মোচন ও কবিতা সন্ধ্যায় উপস্থিত ছিলেন বিলেতের কবি সাহিত্যিক সংগঠক  ও কবির বন্ধু স্বজনেরা।

সংহতির সহ সভাপতি সৈয়দা নাজমিন হক এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও কবি, গবেষক ড. শোয়াইব জিবরান।

ড. শোয়াইব জিবরান বাংলা সাহিত্যে কবিতার  বিনির্মাণ, সময়ের সাথে বাঁক বদল এবং কবিতাগুলো সময় ও সাহিত্যকে প্রভাবিত করার বিষয় নিয়ে আলোচনা করে বলেন-

‘আমাদের অনেক অর্জন আছে নিঃসন্দেহে তবে, সাথে সাথে অনেক  দৃর্বল সাহিত্য রচনাও আছে। যা যৌক্তিক কারণে  দু:খবোধের বিষয়-ও।  ইংরেজী সাহিত্য থেকে ‘কপি- পেস্ট‘ চিন্তা, চর্চা এবং অতিমাত্রায় প্রভাবিত  না হয়ে  বিগত কয়েক দশকে যদি  বাংলা সাহিত্যে বাঙালীর সামাজিক, সাংস্কৃতিক, লোক ও ধর্মীয় মিথ ইত্যাদি নিয়ে সাহিত্য রচনায় মনোনিবেশ করা হতো তাহলে বাংলা সাহিত্য আজ বিশ্বে অন্যউচ্চতায় প্রকাশ পেত ।‘

নব্বই দশকে বাল্মীকি  কবিতা লেখায় সরব  ছিলেন। তার মনে একটি রাজনৈতিক দর্শনও ছিল- তিনি সমাজে  রুটি-রুজি‘র সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় রাজপথে মুখরও ছিলেন। এক সময় তিনি ব্রিটেনে পাড়ি দিলেও বাংলাদেশের মাটি মানুষ আর বিলেতের মাটি মানুষের মাঝেই তিনি খুঁজছেন মানবিকতা, ধর্মীয় ও সামাজিক মিথগুলোর সহঅবস্থানের চিহ্নগুলো। টেমস এবং সুরমা তার কবিতায় সমান ভাবে গুরুত্বপূর্ণ।‘

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংহতি‘র সাধারণ সম্পাদক ছড়াকার  আবু তাহের।

কবির সৃজনশীল কাজের দিকগুলো তুলে ধরেন গ্রন্থী সম্পাদক  শামীম শাহান।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন লেখক গবেষক ফারুক আহমদ, সাংবাদিক জাহেদী ক্যারল, নাট্যকার স্বাধীন খসরু,দর্পন সম্পাদক রহমত আলী,  কবি শাহ সুহেল আমীন ও মোহাম্মদ ইকবাল।

ইকবাল হোসেন বাল্মীকির কবিতার মানবিক দিক, সামাজিক অসঙ্গতি, পচে যাওয়া রাজনীতির অনুসঙ্গ ইত্যাদি পাঠকের মনে  দাগ রাখতে পারার দিকগুলো বা পেরে ওঠার মতো মৌলিক বিষয়গুলো বক্তৃতায় ওঠে এসেছে। ব্যক্তিজীবনে কবির বুহেমিয়ান জীবন আর কবি মানসের মিলটিও  আলোচনায় প্রকাশ পেয়েছে।

কবি ইকবাল হোসেন বাল্মীকির কবিতা  বিলেতের জনপ্রিয়  আবৃতিশিল্পী রেজুয়ান মারুফ ও সালাউদ্দিনের কণ্ঠে  অনুষ্ঠানে মুগ্ধতা ছড়িয়েছে।  বলা যায়, দর্শক শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কবিতা আবহে সময়পার করেছেন।

দুই পর্বের অনুষ্ঠানে  সঙ্গীত পরিবেশ করেন- বিলেতের জনপ্রিয় শিল্পী মিতা তাহের ও ফারহানা জামান  লিয়ানা । ব্রিটিশ বাংলাদেশী শিল্পী  মৃদুল, মোহনা, মহিমা ও রাফা। তাদের গাণগুলো দিয়েছে বাড়তি মনভালো করা আনন্দ।

কবিতায় শুধুই মনভরে কাব্যজনরা  খালিপেটে বাড়ি যাবার সুযোগটি ছিল না। কবি বাল্মিীকি রাতের ভোজটি করিয়েছেন আন্তরিকতায়। ছিল ভালোবাসার আরেকটি অনুসঙ্গ ;সংহতি পরিবারের সাহেদ চৌধুরী ও কবি সৈয়দা তুহিন চৌধুরীর তৈরী ডেজার্ট দিয়ে  সবাইকে মিষ্টিমুখ করিয়েছেন।

প্রানবন্ত অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন  কবি সৈয়দা তুহিন চৌধুরী ও আনোয়ারুল ইসলাম অভি।

পাঠ উন্মোচন ও কবিতা সন্ধ্যায় বিলেতের কবি লেখক সাংবাদিক  সংগঠকসহ কবির বন্ধু স্বজনদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে করেছে হার্দিক ভালোবাসাময়।   আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির পরও চলেছে আড্ডা। সবার ছবিগুলো হাসিমুখে  ধারণ করেছেন ৫২বাংলা টিভির আলোকচিত্রী সামসুর সুমেল।

এক সময় হল ছাড়তে  হয় ;বাইরে তখন গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি।  জটলা দিয়ে সেখানেও আনন্দসময় পার করেছেন  অতিথি ড.শোয়াইব জিবরানকে ঘিরে আর সংহতির ঝুলিতে জমা পড়েছে সকলের কৃতজ্ঞতা,অমূল্য ভালোবাসা।

ছবি: 52banglatv


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ওয়ালি মাহমুদ, সাহিত্য সম্পাদক

নব্বই দশকের কবি। পুরো নাম মোহাম্মদ ওয়ালিউর রহমান মাহমুদ। বাংলাদেশের সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার থানাধীন জলঢুপ পাতন গ্রামের মতিউর রহমান মাহমুদ রোডের দেওয়ান ভিলা’য় ১লা আগস্ট, ১৯৭২ সালে জন্ম গ্রহণ করেন।

১৯৮৬ সালে দেয়াল পত্রিকার মাধ্যমে প্রথম লেখালেখির হাতে খড়ি। কাব্যের জগতে কখনো গদ্যের তীরে হাঁটতে হাঁটতে কুশিয়ারা, কখনোবা পদ্যের তীর ঘেঁষে সুনাই অথবা বিলেতের টেমস অবধি। নিয়মমাফিক বৃত্তের বাইরে স্বতন্ত্র অবস্থানের পুন:পুন: প্রচেষ্টায় মলাটবন্দী কাব্যের পঙক্তিমালার সযত্ন সৃষ্টি, কবিতাকে চিনিয়ে দেয় গভীরভাবে।

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ও গবেষণা এবং সম্পাদিত লিটলম্যাগ যথাক্রমে: ভালোবাসার পোয়াতি (কোলাজ, ১৯৯৯), যৈবতী শোন (কোলাজ, ১৯৯৯), একটি দীর্ঘশ্বাসের মৃত্যু, উঊঅঞঐ ঙঋ অ ঝওএঐ (উৎস, ২০০১), আমি এক উত্তরপুরুষ, ও অগ ঞঐঊ উঊঝঈঊঘউঅঘঞ (উৎস, ২০০২), নির্বাসনে, নির্বাচিত দ্রোহ (ম্যাগনাম ওপাস, ২০০৪), ১২৩৭ দাগ (এডিটর’স ইংল্যান্ড, ২০১৪); ডায়াস্পরা গবেষণা: দ্রোহী কথাসাহিত্যিক আব্দুর রউফ চৌধুরীর সাহিত্যসম্ভার (এডিটর’স ইংল্যান্ড, ২০১৩); সম্পাদিত লিটলম্যাগ: কবিয়াল (সম্পাদিত, ১৯৯২), শিকড় (সম্পাদিত, ১৯৯৪), ও ইংল্যাণ্ড এবং বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত লোকন লিটলম্যাগ সম্পাদনা করেন।
ই-মেইল: walimahmud@yahoo.co.uk